রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
জাতীয় কেনা হচ্ছে নির্বাচনী সরঞ্জাম

কেনা হচ্ছে নির্বাচনী সরঞ্জাম

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক কর্মযজ্ঞ শুরু হলো নির্বাচন কমিশনে (ইসি)। নির্বাচনী সরঞ্জাম কেনার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় বেজে উঠল নির্বাচনী দামামা। এবারই প্রথম সরঞ্জাম কেনায় অনুসরণ করা হলো ডিজিটাল পদ্ধতি। অর্থাৎ ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) পদ্ধতিতে উন্মুক্ত করা হলো দরপত্র। আগ্রহীদের ইসির সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে টেন্ডার সাবমিট করতে হবে। এ তথ্য ইসির হাই অফিসিয়াল সূত্রের।

চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষে বা আগামী বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন হবে। তবে আলোচিত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) এবার সংসদ নির্বাচন হবে না। তিনশ সংসদীয় আসনে ভোট হবে কাগজে মুদ্রিত ব্যালট পেপারে। ইতোমধ্যে কমিশন সরকারি প্রতিষ্ঠান বিজি প্রেসকে কাগজ কিনে ব্যালট ছাপার নির্দেশনা দিয়েছে। আসনওয়ারি ভোটার অনুপাতে ব্যালট ছাপা হবে।

এসব কর্মযজ্ঞের মধ্য দিয়ে যথাসময়ে নির্বাচন না হওয়া নিয়ে যে গুজব ও ধূম্রজাল তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটল। এছাড়া আগাম নির্বাচন করারও যে গুঞ্জন ছিল তা-ও দূর হলো। কারণ আগামী নির্বাচন করতে হলে সংসদ ভেঙে নির্বাচনের আয়োজন করতে হয়। দেশে সে ধরনের উদ্ভূত পরিস্থিতি নেই। ফলে আগামী নির্বাচনের ইস্যুটিও নিছক গুজবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকল।

এদিকে, নির্বাচনী সামগ্রী কেনাকাটায় এবার কমানো হয়েছে সময়ও। আগে সরঞ্জাম কেনায় আড়াই মাস অর্থাৎ ৭৫ দিন নির্ধারণ করে দরপত্র আহ্বান করা হলেও এবার পনেরো দিন কমিয়ে ৬০ দিন করা হয়েছে। আর স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স নয়, এবার অর্ধ-স্বচ্ছ অর্থাৎ ট্রান্স-লুসেন ব্যালট বাক্স কেনা হচ্ছে। আগে কেনা স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোটারের গোপনীয়তা রক্ষা না হওয়ায় সেগুলো নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। অর্ধ-স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোটার ভোট দিলেও কোন প্রতীকে ভোট পড়েছে তা বাইরে থেকে দেখে বোঝা যাবে না বলে ধারণা করছে কমিশন। মূলত সরঞ্জাম কেনায় দীর্ঘসূত্রতা কমানো, নিম্নমানের সামগ্রী সরবরাহে দরদাতাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং স্বচ্ছতার নিমিত্তে এই পথে পা বাড়ালো ইসি।

এদিকে, আসন্ন বাজেটে নির্বাচন উপলক্ষে বড় বাজেট ধরা হয়েছে এবার। সরঞ্জাম কেনাকাটায় ব্যয় নির্ধারিত না হলেও দরপত্রের চাহিদার আলোকে ব্যয় নির্বাহ হবে। কারণ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরাদ্দ ধরা খাতওয়ারি হিসাব থেকে এই ব্যয় মেটানো হবে। জানতে চাইলে কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনে ব্যবহৃত মালামাল কেনায় ই-জিপি পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এর আগে কখনো এ পদ্ধতি অনুসরণ হয়নি। বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) আমরা দরপত্র উন্মুক্ত করেছি। এবার ১০ ধরনের সামগ্রী কেনা হবে। ব্যয় নির্বাহ হবে আগামী বাজেটে বরাদ্দ থেকে।

প্রেষণে ইসিতে কর্মরত প্রশাসন সার্ভিসের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, আমরা ট্রান্স-লুসেন ব্যালট বাক্স কিনছি। আমাদের হাতে জমা প্রায় পৌনে দুই লাখ বাক্স রয়েছে। এগুলো সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য পর্যাপ্ত। তারপরেও দেশীয় দুটি কোম্পানি বেঙ্গলআরএফএলের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেছি। তাদের নমুনাও সরবরাহ করা হয়েছে। এগুলো আমদানি করা হতো বেলজিয়াম এবং অন্য একটি দেশ থেকে। আর ব্যালট পেপার ছাপার জন্য বিজি প্রেসকে নির্দেশনা দিয়েছি। তারা কোন প্রতিষ্ঠান থেকে কাগজ সরবরাহ করবে সেটা তাদের বিষয়। আমাদের চাহিদা অনুযায়ী ব্যালট পেপার যথাসময়ে পাওয়াটা জরুরি।

ইসির সংশ্লিষ্ট শাখা ও প্রাপ্ত সূত্রমতে, নির্বাচনের যে দশ ধরনের সামগ্রী কেনা হবে তার মধ্যে প্রতিটি ব্যালট বাক্সের জন্য পাঁচটি করে মোট ১৫ লাখ ব্যালট বাক্সের লক, ২০ হাজার কেজি গালা, ৫০ হাজারের মতো চটের বস্তা, ৪ লাখ স্ট্যাম্প প্যাড, ৮ লাখের মতো অমোচনীয় কালির কলম, ৪০ হাজারের মতো ঘানি ব্যাগ, এক লাখের মতো ব্রাশ সিল, সম-পরিমাণ অফিসিয়াল সিল এবং ৭ লাখের মতো মার্কিন সিল কেনার জন্য ই- টেন্ডার আহ্বান করা হয়।

একই দরপত্রে বড় পরিসরের দুটি (জাতীয় সংসদ ও উপজেলা) নির্বাচনের সামগ্রীও কেনা হবে। কারণ সংসদ নির্বাচনের পর মাত্র ছয় মাসের মধ্যে হয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। আলাদা দরপত্রের ঝামেলা এড়াতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। দুটি নির্বাচনের জন্য দশ ধরনের সামগ্রী কেনা হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে- ব্যালট বাক্সের লক (তালা), গালা, চটের বস্তা, স্ট্যাম্প প্যাড, অমোচনীয় কালির কলম, ঘানি ব্যাগ, ব্রাশ সিল, অফিসিয়াল সিল ও মার্কিং সিল।

ইসির সংশ্লিষ্টরা জানান, বিজি প্রেসকে ৩০০ সংসদীয় আসনের জন্য ব্যালট মুদ্রণের নির্দেশনা দেওয়ার মধ্য দিয়ে আলোচিত ইভিএম পর্ব শেষ হয়েছে। কারণ ইভিএমে নির্বাচন না করার ঘোষণার মধ্যেই থাকল কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশন।

খুঁজুন