মইনুল ইসলাম মিতুল : রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে দেখা দেয় খাদ্য সংকট। তুরস্ক এবং জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের চেষ্টার পর শুক্রবার (২২ জুলাই) খাদ্যশস্য নিয়ে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। খাদ্যশস্য রপ্তানিতে দেখা দেয় আশার আলো।
তবে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি সই হওয়ার পরদিনই ইউক্রেনের বৃহৎ একটি বন্দর বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠেছে। বন্দর শহর ওডেসাতে রশিয়ার চালানো এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে হওয়া এই সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে। যদিও পরিকল্পনা অনুযায়ী খাদ্যশস্য রপ্তানির কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছে কিয়েভ।
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। রাশিয়ার বিরুদ্ধে খাদ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ এনে ওয়াশিংটন মস্কোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘রাশিয়া যে কথা দিয়ে কথা রাখে না—এটাই তার প্রমাণ। হোয়াইট হাউজ কিয়েভকে ২৭০ মিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে।’
চুক্তিতে রাশিয়া প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা ওডেসা বন্দর থেকে খাদ্যশস্য বহনকারী কোনো মালবাহী জাহাজের ওপর আক্রমণ করবে না। কিয়েভ থেকে বিবিসির সাংবাদিক পল অ্যাডামস বলছেন, ‘ওডেসা বন্দরে এই হামলার পর চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।’
তিনি বলেছেন, ‘চুক্তি লঙ্ঘন করা হলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে এই প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন “এরকম কোনো ব্যবস্থা তাদের কাছে নেই, তবে সেরকম কিছু হলে তা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য হবে না।”
ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধের মধ্যেই শুক্রবার তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে খাদ্যশস্য রপ্তানি নিয়ে চুক্তিটি সই হয় এবং জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এটিকে ‘ঐতিহাসিক সমঝোতা’ বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু চুক্তি সই হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই ইউক্রেনের বন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হলো।
বলা হচ্ছে, ইউক্রেনের ভেতরে যে লাখ লাখ টন খাদ্যশস্য আটকা পড়ে আছে এই চুক্তির ফলে সেগুলো রপ্তানি করা শুরু হবে। পাঁচ মাস আগে যুদ্ধ শুরুর পরপরই রাশিয়া ইউক্রেনের উপকূলের কাছে কৃষ্ণসাগরে নৌ অবরোধ দিলে ইউক্রেনের রপ্তানি মুখ থুবড়ে পড়ে। ইউক্রেন জুড়ে বিভিন্ন গুদামে প্রচুর খাদ্যশস্য মাসের পর মাস রপ্তানির জন্য পড়ে রয়েছে।
কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী ওডেসা বন্দরে গুদামেই এখন ২ কোটি টনের মতো খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। এগুলো এখন আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে সেখানে রপ্তানি করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই চুক্তিতে রাশিয়া খাদ্যশস্যবাহী ইউক্রেনীয় জাহাজে হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আর ইউক্রেন অঙ্গীকার করেছে এসব জাহাজে অস্ত্র বহন করা হচ্ছে কি না রাশিয়াকে তারা সেটি পরীক্ষা করে দেখার অনুমতি দেবে।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর এক জন মুখপাত্র বলেছেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী খাদ্যশস্য রপ্তানির কাজ এগিয়ে চলছে।’ ইউক্রেনের অবকাঠামো বিষয়ক মন্ত্রী অলেক্সান্ডার কুব্রাকভ বলেছেন, ‘আমাদের বন্দর থেকে খাদ্যশস্য রপ্তানির জন্য কারিগরি প্রস্তুতির কাজ এগিয়ে নিচ্ছি।’ আবার ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জন মুখপাত্র বলেছেন, ‘এখন যদি খাদ্যশস্য রপ্তানির চুক্তি ভেস্তে যায় তাহলে তার জন্য দায়ী হবে রাশিয়া।
খাদ্যশস্য চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা
খাদ্যশস্য চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা
মইনুল ইসলাম মিতুল : রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে দেখা দেয় খাদ্য সংকট। তুরস্ক এবং জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের চেষ্টার পর শুক্রবার (২২ জুলাই) খাদ্যশস্য নিয়ে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। খাদ্যশস্য রপ্তানিতে দেখা দেয় আশার আলো।তবে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি সই হওয়ার পরদিনই ইউক্রেনের বৃহৎ একটি বন্দর বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠেছে। বন্দর শহর ওডেসাতে রশিয়ার চালানো এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে হওয়া এই সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে। যদিও পরিকল্পনা অনুযায়ী খাদ্যশস্য রপ্তানির কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছে কিয়েভ।ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। রাশিয়ার বিরুদ্ধে খাদ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ এনে ওয়াশিংটন মস্কোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘রাশিয়া যে কথা দিয়ে কথা রাখে না—এটাই তার প্রমাণ। হোয়াইট হাউজ কিয়েভকে ২৭০ মিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে।’চুক্তিতে রাশিয়া প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে
তারা ওডেসা বন্দর থেকে খাদ্যশস্য বহনকারী কোনো মালবাহী জাহাজের ওপর আক্রমণ করবে না। কিয়েভ থেকে বিবিসির সাংবাদিক পল অ্যাডামস বলছেন, ‘ওডেসা বন্দরে এই হামলার পর চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।’তিনি বলেছেন, ‘চুক্তি লঙ্ঘন করা হলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে এই প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন “এরকম কোনো ব্যবস্থা তাদের কাছে নেই, তবে সেরকম কিছু হলে তা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য হবে না।”ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধের মধ্যেই শুক্রবার তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে খাদ্যশস্য রপ্তানি নিয়ে চুক্তিটি সই হয় এবং জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এটিকে ‘ঐতিহাসিক সমঝোতা’ বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু চুক্তি সই হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই ইউক্রেনের বন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হলো।বলা হচ্ছে, ইউক্রেনের ভেতরে যে লাখ লাখ টন খাদ্যশস্য আটকা পড়ে আছে এই চুক্তির ফলে সেগুলো রপ্তানি করা শুরু হবে। পাঁচ মাস আগে যুদ্ধ শুরুর পরপরই রাশিয়া ইউক্রেনের উপকূলের কাছে কৃষ্ণসাগরে নৌ অবরোধ
দিলে ইউক্রেনের রপ্তানি মুখ থুবড়ে পড়ে। ইউক্রেন জুড়ে বিভিন্ন গুদামে প্রচুর খাদ্যশস্য মাসের পর মাস রপ্তানির জন্য পড়ে রয়েছে।কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী ওডেসা বন্দরে গুদামেই এখন ২ কোটি টনের মতো খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। এগুলো এখন আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে সেখানে রপ্তানি করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই চুক্তিতে রাশিয়া খাদ্যশস্যবাহী ইউক্রেনীয় জাহাজে হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আর ইউক্রেন অঙ্গীকার করেছে এসব জাহাজে অস্ত্র বহন করা হচ্ছে কি না রাশিয়াকে তারা সেটি পরীক্ষা করে দেখার অনুমতি দেবে।ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর এক জন মুখপাত্র বলেছেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী খাদ্যশস্য রপ্তানির কাজ এগিয়ে চলছে।’ ইউক্রেনের অবকাঠামো বিষয়ক মন্ত্রী অলেক্সান্ডার কুব্রাকভ বলেছেন, ‘আমাদের বন্দর থেকে খাদ্যশস্য রপ্তানির জন্য কারিগরি প্রস্তুতির কাজ এগিয়ে নিচ্ছি।’ আবার ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জন মুখপাত্র বলেছেন, ‘এখন যদি খাদ্যশস্য রপ্তানির চুক্তি ভেস্তে যায় তাহলে তার জন্য দায়ী হবে রাশিয়া।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত