খাগড়াছড়িতে সকাল-সন্ধ্যা সহিংস সড়ক অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে মহাজন পাড়া এলাকায় পাহাড়ি যুবকরা হাতে ভারি অ-স্ত্র, গুলতি দিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অ-স্ত্র হাতে পাহাড়ি যুবকদের একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
শহরের রাস্তায় প্রকাশ্যে পাহাড়ি যুবকদের এমন স-শস্ত্র ভূমিকায় সংশয় ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে শান্তিপ্রিয় পার্বত্যবাসী। তারা বলছেন, শিক্ষার্থীদের ব্যানার ব্যবহার করে কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উদ্দেশ্যমূলকভাবে সশ-স্ত্র স-ন্ত্রাসীদের ইন্ধন ও লেলিয়ে দিচ্ছে। তাদের এমন অস্ত্র হাতে আক্রমণ শহরবাসীকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। ভিডিও দেখে অস্ত্র হাতে সহিংস আক্রমণকারীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে গ্রে-ফতার ও আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন নেটিজেনরা।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধাতে একটি মহল ধ-র্ষণ ইস্যুকে সামনে আনছে। অথচ ইতোপূর্বে একাধিক পাহাড়ি মেয়ে পাহাড়ি যুবকদের দ্বারা ধ-র্ষণ, গণধ-র্ষণের শিকার হলেও সামাজিক বিচারের নামে ভুক্তভোগীদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। ধর্ষণের ক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকা, গণধ-র্ষণে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করে ধ-র্ষকদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তখন পাহাড়ি সংগঠনগুলো নীরব থেকেছে। তারা তখন ব্যানার নিয়ে রাস্তায় বের হতে দেখেনি পার্বত্যবাসী। অন্যদিকে এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়ী ব্যক্তিদের মধ্যে বিরুদ্ধে কঠোর। ইতোমধ্যে একাধিক জনকে আ-টক করে রিমান্ডে নিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, আজকের সহিংস অবরোধে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়কের চেঙ্গী সেতু এলাকা, স্বনির্ভর এলাকা; খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়কের পেরাছড়া, টেকনিক্যাল স্কুল, ভাইবোনছড়া, গাছবাগান, খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের চার মাইল, ৯ মাইল, খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের মহালছড়ি ২৪ মাইল, সিঙ্গিবালাসহ বিভিন্ন স্থানে সকালে সড়কে অবস্থান নেন পাহাড়ি যুবকরা।
এর মধ্যে কিছু স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলা হয়। পেট্রোল দিয়ে সড়কে আ-গুন জ্বালিয়ে যাত্রীবাহী বাস আটকিয়ে উল্লাস করা হয়। কোথাও আবার টায়ার জ্বা-লিয়ে অফিসগামী ও শ্রমজীবী মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। বিভিন্ন স্থানে পুলিশ গিয়ে সড়ক থেকে পোড়া টায়ার ও গাছের গুঁড়ি সরিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। সকাল-সন্ধ্যা অবরোধের কারণে দূরপাল্লার বাস চলাচল ও পর্যটকবাহী জিপসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচলও বন্ধ থাকায় জনভোগান্তি সৃষ্টি করা হয়।
এর মধ্যে কিছু স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলা হয়। পেট্রোল দিয়ে সড়কে আ-গুন জ্বালিয়ে যাত্রীবাহী বাস আটকিয়ে উল্লাস করা হয়। কোথাও আবার টায়ার জ্বা-লিয়ে অফিসগামী ও শ্রমজীবী মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। বিভিন্ন স্থানে পুলিশ গিয়ে সড়ক থেকে পোড়া টায়ার ও গাছের গুঁড়ি সরিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। সকাল-সন্ধ্যা অবরোধের কারণে দূরপাল্লার বাস চলাচল ও পর্যটকবাহী জিপসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচলও বন্ধ থাকায় জনভোগান্তি সৃষ্টি করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে খাগড়াছড়িতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি থাকবে বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ির জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার খাগড়াছড়ি পৌরসভা ও সদর উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং জনগণের জান-মালের ক্ষতিসাধনের আশঙ্কা রয়েছে। তাই ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ১৪৪ ধারা জারির আদেশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার খাগড়াছড়ি পৌরসভা ও সদর উপজেলায় এই আদেশ জারি করা হয়। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাত ৯টায় প্রাইভেট পড়ে ফেরার পথে খাগড়াছড়ি সদরে এক মারমা কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ওই দিন রাত ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় একটি খেত থেকে তাকে উদ্ধার করেন স্বজনেরা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাকে ছয় দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।