শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
অর্থ ও বাণিজ্য কমছে আয়, বাড়ছে ব্যয়

কমছে আয়, বাড়ছে ব্যয়

রোকসানা মনোয়ার :করোনায় কমছে মানুষের আয়-রোজগার। আর এর বিপরীতে বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়। অবশ্য এই চিত্র আমাদের জন্য অতি পুরনো। তবে চলমান করোনার কারণে এই হ্রাস বৃদ্ধির মাত্রা বেড়েছে অনেকটাই। জানা গেছে, সম্প্রতি সাধারণ মানুষের ব্যয় বেড়েছে সাত ভাগ। বিশেষ করে মোটা ও মাঝারি চালের দাম বেড়েছে ২৫ শতাংশের বেশী।

দেশের আশিভাগ মানুষ নিত্যদিন যে ৩৭ টি পণ্য ব্যবহার করে, এগুলোর মূল্য বৃদ্ধির ফলে দুর্ভোগের মাত্রা বেড়েছে। কঠিন হয়ে ওঠেছে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন। দেশের জনসংখ্যা প্রধানত দরিদ্র, মধ্যবিত্ত আর ধনী এই তিন ভাগে বিভক্ত। সবার আয় সমান নয়, ব্যয় করার ইচ্ছা ও সামর্থ্যও সবার সমান নয়। সাধারণ মানুষ তার ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করে অর্থনৈতিক সামর্থ্য দ্বারা; আর ধনীরা তাদের সামর্থ্য দ্বারা ইচ্ছা তৈরি করে।

বাংলাদেশে মূলত কৃষক-শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যাই বেশী। জরিপের তথ্য হচ্ছে, দেশে শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যা প্রায় ছয় কোটি ৮২ লাখ। আর মোট শ্রমশক্তির ৮৮ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ছয় কোটি শ্রমজীবীই আবার অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত। যাদের চাকরি আয় কোন কিছুতেই স্থায়িত্ব নেই। এর মধ্যে কৃষিকাজে যুক্ত দুই কোটি ৮০ লাখের মতো।

 দেশের অর্থনৈতিক বিবেচনায় দশ শতাংশের মতো মানুষ আছে, যারা ধনী বা উচ্চবিত্ত। যাদের হাতে আছে দেশের মোট আয়ের ৪৬ শতাংশ। আর উচ্চ মধ্যবিত্ত ১৩ শতাংশের হাতে আয়ের সাড়ে ২১ শতাংশ, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত ৩৭ শতাংশের হাতে ২৬ শতাংশ আয় এবং ৪০ শতাংশ দরিদ্রের হাতে আছে আয়ের মাত্র সাত দশমিক ৬৩ শতাংশ। বিশেষ করে এই ৪০ শতাংশ দরিদ্রের অবস্থা এখন খুবই করুণ। অন্য সবার মতো এই শ্রেণীর মানুষের আয় কমে গেছে। বেড়েছে ব্যয়। আর এই অবস্থায় প্রথম সংকোচন আসে খাদ্যে। সুষম খাদ্য তো দূরের কথা, অনেক সময় কোন খাদ্যই জোগাড় করতে পারছেনা তারা। যে কারণে তাদের মধ্যে বাড়ে অপুষ্টি। যার বিরূপ প্রভাব পড়ে নারী ও শিশুর জীবনে। অথচ পুষ্টির অভাব থাকলে শিশুদের মেধার বিকাশ হয় না। আর চলতি করোনাকালে মানুষের শরীরে যথাযথ পুষ্টির যোগান দেয়া জরুরি।

পুষ্টিহীন শরীরে করোনা সহজে আক্রমণ করতে পারে। কিন্তু এই পুষ্টির যোগান দেয়ার পেছনে দুটি প্রতিবন্ধকতা। একটা হলো পণ্যমূল্য বৃদ্ধি এবং অপরটি আয় কমে যাওয়া। নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে পারিবারিক ব্যয় ও দুশ্চিন্তা বৃদ্ধিপায়। বিশেষত চাল, ডাল, চিনি, শিশু খাদ্য, ওষুধ, পরিবহণ ভাড়া ইত্যাদি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি করা হয় সিন্ডিকেট করে। যার মারাত্মক প্রভাব পড়ে দরিদ্র মানুষের ওপর।

নতুন বছরের শুরু হয়েছিল বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বাড়তি দাম কার্যকরের মধ্য দিয়ে। দিন যত যাচ্ছে মুরগি,ডিম,ডাল,কাঁচা মরিচের দাম ততই বাড়ছে,যা সংসারের ব্যয়ের চাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে, মাঠে শ্রমজীবি খেটে খাওয়া মানুষের।

সব মিলিয়ে সাধারণ জনগনের নাভিশ্বাস বেড়েই চলছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ানোর কারনে। সরকার গ্যাস-বিদ্যুতের মতো সেবামূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছে। দুইদিকের চাপে হিমশিম খাচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত।


চিনি,তৈল ও ইত্যাদি দাম বেড়েছিল তা কমানোর কোsনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এবং সরকার অনেক পণ্যের দাম নির্ধারণ করেছে তা-ও অনেক সময় মানা হচ্ছে না। মুল বাজারের থেকে পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানে গেলে দাম আরও বেশি দিতে হয়।

 

 

খুঁজুন