বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
জাতীয় কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার
ইউরোপে পাঠানোর ফাঁদে

কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার

র‌্যাব-৪ সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ নির্মূলের পাশাপাশি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য সদা সচেষ্ট। আমরা আজকে আপনাদেরকে একটি ভয়ানক প্রতারক চক্রের বিষয়ে উপস্থাপন করবো; যারা প্রতারণার মাধ্যমে ক্রোয়েশিয়া, সার্ভিয়া, পর্তুগাল, ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন উন্নত দেশে লোভনীয় চাকরি এবং স্টুডেন্ট ভিসার প্রলোভন দেখিয়ে বিশাল অংকের অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে।

 গত মে মাসের ২৮ তারিখ জনৈক মো. রমাজন হোসেন খাঁন আমাদের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেন যে, তিনি এবং তার শ্যালক এই চক্রের মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের আর্থিক প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এ সংক্রান্তে তিনি ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা রুজু হয়। উক্ত মামলার পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব-৪ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল ০৮ জুন রাতে অভিযান পরিচালনা করে উক্ত চক্রের মূলহোতাসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করে এবং সংশ্লিষ্ট আলামত জব্দ করে। গ্রেফতারকৃতরা হলো ১। শেখ মোঃ সাদী (৪১), ২। মোঃ নাহিন (২৫) এবং ৩। জাহাঙ্গীর আলম(২৪)।

মামলার এজাহার ও গ্রেফতারকৃত আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ভিকটিম তার এক পূর্ব পরিচিত আত্মীয়ের মাধ্যমে জানতে পারে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা “জাহরা সাদী টিকেটিং এন্ড ট্রাভেলিং/জেএস এডুকেশন এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস” নামক ভিসা প্রসেসিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্রোয়েশিয়া, সার্ভিয়া, পর্তুগাল, ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন উন্নত দেশে বৈধভাবে লোক পাঠায় এবং তাদেরকে সেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়। আসামি শেখ মোঃ সাদী এবং তার সহযোগীরা ভিকটিকদেরকে প্রথমত ক্রোয়েশিয়া পাঠানোর প্রস্তাব দেন। সে সময় আসামিদের সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে ভিকটিমদ্বয় জানতে পারেন প্রতিজনকে ১৪ লক্ষ টাকার বিনিময়ে চুক্তিতে তারা ওয়ার্ক পারমিটসহ ইতালি পাঠিয়ে থাকেন।

ভিকটিমদ্বয় সরল বিশ্বাসে তাদের প্রস্তাবে রাজি হয় এবং বিভিন্ন চুক্তিনামা স্বাক্ষরিত করেন। পরবর্তীতে ভিকটিম আসামিদেরকে বিভিন্ন সময়ে সর্বমোট ৩১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নগদ ও ব্যাংকের মাধ্যমে প্রদান করে। প্রথমত আসামিগণ ভিকটিমদের ক্রোয়েশিয়া পাঠানো কথা বলেন। ক্রোয়েশিয়া পাঠাতে না পারায় ৬ মাস পরে পর্তুগাল পাঠানোর প্রস্তাব দেয় এবং ইন্ডিয়ান এ্যাম্বাসীতে প্রেরণ করে ৭২ দিন অতিবাহিত হলেও তাদেরকে এ্যাম্বেসী ক্লিয়ার করাতে না পারায় ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। পরবর্তীতে আসামিগণ ভিকটিমদের নিউজিলেন্ড এর ভিসা প্রদান করবে মর্মে কয়েক মাস পরে ভিসা দেখায় যা যাচাই করলে ভুয়া ভিসা প্রমানিত হয়। এক পর্যায়ে আসামিগণ তাদেরকে সার্বিয়া হয়ে ইতালি পাঠানোর জন্য শ্রীলঙ্কায় প্রেরণ করে ভিকটিমদের শ্রীলঙ্কান মাফিয়াদের হাতে তুলে দেন। ভিকটিকদ্বয় কৌশলে শ্রীলঙ্কা থেকে ফেরত আসে এবং জানতে পারে যে, তারা প্রতারিত হয়েছেন। পরবর্তীতে আসামিদের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা রুজু করে।

তৎক্ষণাৎ র‌্যাব-৪ এর আভিযানিক দল অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে তথ্য-প্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা সূত্রের ভিত্তিতে আসামিদের অবস্থান সনাক্ত করে ৮ জুন রাতে ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানাধীন উত্তরা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উক্ত আসামিদের গ্রেফতার করে এবং সংশ্লিষ্ট আলামত জব্দ করে।

আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার মাধ্যমে অনেক বাংলাদেশিদের ইউরোপ,অস্ট্রেলিয়াসহ উন্নত দেশে প্রেরণ করার নামে টাকা আত্মসাৎ করে আসছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে সংশ্লিষ্ট থানায় প্রেরণ করা হয়েছে।

খুঁজুন