নিজস্ব প্রতিবেদক ,কুমিল্লা ঃ
আন্তরিক-অর্থবহ-আনন্দঘন পরিবেশে কুমিল্লা টাউন হল মুক্তিযুদ্ধ কর্নারে আলোচনা এবং কুমিল্লা অঞ্চলের পাখির স্থিরচিত্র প্রদর্শনী মাধ্যমে ক্লাবের প্রথম আয়োজন সম্পন্ন হয়।
বিকেলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মালোবিকা সরকার কুমিল্লা বার্ড ক্লাবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
বক্তব্য রাখেন ক্লাব সদস্য লেখক-অনুবাদক- উর্দু গবেষক জাভেদ হুসেইন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহার হোসেন বাবুল, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বদরুল হুদা জেনু, সাংস্কৃতিক সংগঠক শহিদুল হক স্বপন, প্রাকৃতিক খামার ইছামতি'র উদ্যোগক্তা দিলজিৎ সজল, সিপিবি জেলা সম্পাদক অশোক দেব জয় প্রমুখ।
শুরুতে ক্লাব পরিচালক মুবিনুল ইসলাম চৌধুরী তানভীর বলেন, পাখি পর্যবেক্ষণ এবং পাখির ছবি তোলা প্রথমে আমার ব্যক্তিগত বিনোদনমূলক কাজের অংশ ছিল। এই ব্যক্তিগত শখকে যৌথরূপ দিতে ক্লাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা শুরু। একজন পাখি পর্যবেক্ষক খালি চোখে, ভিজ্যুয়াল সরঞ্জাম ব্যবহার করে এবং পাখির গান শুনে পাখি পর্যবেক্ষণ করতে পারে। এই কাজ দল বেঁধে করা যায়। তবে আজকের এই জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকির মুখে পড়া পৃথিবীতে পাখি পর্যবেক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক কাজ। আমাদের চারপাশের যে পৃথিবীকে আমরা মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করিন না, পাখি পর্যবেক্ষণ সেই পৃথিবীকে চিনতে খুব ভালো ভূমিকা রাখতে পারে।
আপনি ইন্টারনেটে খুঁজলে সম্ভব-অসম্ভব অনেক শখের তালিকা খুঁজে পাবেন। সে ক্ষেত্রে আপনি পাখি পর্যবেক্ষণকে আপনার শখ হিসেবে বেছে নেয়ার কথা ভাবতে পারেন। বিশ্বজুড়ে ১০টি জনপ্রিয় শখের মধ্যে পাখি পর্যবেক্ষণ অন্যতম। এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। তরুণরা এই শখের মধ্য দিয়ে সুস্থ একটি জীবনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। নান্দনিক আগ্রহের জায়গা থেকে ১৮শতকের শেষের দিকে পাখি পর্যবেক্ষণের উল্লেখ পাওয়া যায়। তখন পাখি মেরে কোন অচেনা প্রজাতির পাখিকে শনাক্ত করার রেয়াজ ছিল। ১৮শতকের শেষের দিকে পাখি সুরক্ষার জোর আওয়াজ ওঠে। তখন পাখিকে রক্ষা করা পাখি পর্যবেক্ষণের অন্যতম উদ্দেশ্য হয়ে ওঠে। ভারতীয় পাখির উপর প্রথম বইটি ১৮৬৪ সালে লেখা হয়েছিল। সেখানে ছিল একহাজারো বেশি প্রজাতি। বিশ্বব্যাপী মোট প্রায় ১০হাজার প্রজাতির পাখির নজির পাওয়া গেছে। আমাদের দেশে পাখির ৮২০ প্রজাতির পাখি পাওয়া যায়। এই ছোট দেশে পৃথিবীর মোট পাখি প্রজাতির ১০% বাস করে।
আমরা যে দেশে বাস করি তাকে পরিবেশগতভাবে সুস্থ রাখা দরকার। এর জন্য বোঝা দরকার আমাদের চারপাশের জগত কেমন আছে। তার বদল বুঝতে একটি বার্ড ক্লাব খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমাদের নিজ অঞ্চলে পাখিদের অধ্যয়ন, তাদের কবে কোথায় দেখা গেল সেই তথ্য রেকর্ড রেখে এই কাজটিতে অবদান রাখা যায়। আর এই কাজ যখন সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষদের সঙ্গে নিয়ে করা হবে, তা হয়ে উঠতে পারে পরিবেশ রক্ষার একটি প্রয়াস। কুমিল্লা বার্ড ক্লাব ২০১৬ সালে কাজ শুরু করেছে। ক্লাবের সদস্যরা নিরবিচ্ছিন্নভাবে ফিল্ড ট্রিপ করে দেশব্যপী পাখি পর্যবেক্ষণ করে আসছেন। বর্তমানে আমাদের ২৫ জন সদস্য রয়েছে। প্রতি বছর এই ক্লাবটি কুমিল্লায় ১০-১৫টি ফিল্ড ট্রিপ পরিচালনা করে। ক্লাবের কার্যক্রমে, ট্রিপগুলোতে সকল আগ্রহী ব্যক্তি অংশগ্রহণ করতে পারেন।
কুমিল্লা বার্ড ক্লাবের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু
কুমিল্লা বার্ড ক্লাবের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু
নিজস্ব প্রতিবেদক ,কুমিল্লা ঃআন্তরিক-অর্থবহ-আনন্দঘন পরিবেশে কুমিল্লা টাউন হল মুক্তিযুদ্ধ কর্নারে আলোচনা এবং কুমিল্লা অঞ্চলের পাখির স্থিরচিত্র প্রদর্শনী মাধ্যমে ক্লাবের প্রথম আয়োজন সম্পন্ন হয়। বিকেলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মালোবিকা সরকার কুমিল্লা বার্ড ক্লাবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। বক্তব্য রাখেন ক্লাব সদস্য লেখক-অনুবাদক- উর্দু গবেষক জাভেদ হুসেইন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহার হোসেন বাবুল, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বদরুল হুদা জেনু, সাংস্কৃতিক সংগঠক শহিদুল হক স্বপন, প্রাকৃতিক খামার ইছামতি'র উদ্যোগক্তা দিলজিৎ সজল, সিপিবি জেলা সম্পাদক অশোক দেব জয় প্রমুখ।শুরুতে ক্লাব পরিচালক মুবিনুল ইসলাম চৌধুরী তানভীর বলেন, পাখি পর্যবেক্ষণ এবং পাখির ছবি তোলা প্রথমে আমার ব্যক্তিগত বিনোদনমূলক কাজের অংশ ছিল। এই ব্যক্তিগত শখকে যৌথরূপ দিতে ক্লাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা শুরু। একজন পাখি পর্যবেক্ষক খালি চোখে, ভিজ্যুয়াল সরঞ্জাম ব্যবহার করে এবং পাখির গান শুনে পাখি পর্যবেক্ষণ করতে পারে। এই কাজ দল বেঁধে করা যায়। তবে আজকের এই জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকির মুখে পড়া পৃথিবীতে পাখি পর্যবেক্ষণ
একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক কাজ। আমাদের চারপাশের যে পৃথিবীকে আমরা মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করিন না, পাখি পর্যবেক্ষণ সেই পৃথিবীকে চিনতে খুব ভালো ভূমিকা রাখতে পারে। আপনি ইন্টারনেটে খুঁজলে সম্ভব-অসম্ভব অনেক শখের তালিকা খুঁজে পাবেন। সে ক্ষেত্রে আপনি পাখি পর্যবেক্ষণকে আপনার শখ হিসেবে বেছে নেয়ার কথা ভাবতে পারেন। বিশ্বজুড়ে ১০টি জনপ্রিয় শখের মধ্যে পাখি পর্যবেক্ষণ অন্যতম। এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। তরুণরা এই শখের মধ্য দিয়ে সুস্থ একটি জীবনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। নান্দনিক আগ্রহের জায়গা থেকে ১৮শতকের শেষের দিকে পাখি পর্যবেক্ষণের উল্লেখ পাওয়া যায়। তখন পাখি মেরে কোন অচেনা প্রজাতির পাখিকে শনাক্ত করার রেয়াজ ছিল। ১৮শতকের শেষের দিকে পাখি সুরক্ষার জোর আওয়াজ ওঠে। তখন পাখিকে রক্ষা করা পাখি পর্যবেক্ষণের অন্যতম উদ্দেশ্য হয়ে ওঠে। ভারতীয় পাখির উপর প্রথম বইটি ১৮৬৪ সালে লেখা হয়েছিল। সেখানে ছিল একহাজারো বেশি প্রজাতি। বিশ্বব্যাপী মোট প্রায় ১০হাজার প্রজাতির পাখির নজির পাওয়া গেছে। আমাদের দেশে
পাখির ৮২০ প্রজাতির পাখি পাওয়া যায়। এই ছোট দেশে পৃথিবীর মোট পাখি প্রজাতির ১০% বাস করে। আমরা যে দেশে বাস করি তাকে পরিবেশগতভাবে সুস্থ রাখা দরকার। এর জন্য বোঝা দরকার আমাদের চারপাশের জগত কেমন আছে। তার বদল বুঝতে একটি বার্ড ক্লাব খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমাদের নিজ অঞ্চলে পাখিদের অধ্যয়ন, তাদের কবে কোথায় দেখা গেল সেই তথ্য রেকর্ড রেখে এই কাজটিতে অবদান রাখা যায়। আর এই কাজ যখন সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষদের সঙ্গে নিয়ে করা হবে, তা হয়ে উঠতে পারে পরিবেশ রক্ষার একটি প্রয়াস। কুমিল্লা বার্ড ক্লাব ২০১৬ সালে কাজ শুরু করেছে। ক্লাবের সদস্যরা নিরবিচ্ছিন্নভাবে ফিল্ড ট্রিপ করে দেশব্যপী পাখি পর্যবেক্ষণ করে আসছেন। বর্তমানে আমাদের ২৫ জন সদস্য রয়েছে। প্রতি বছর এই ক্লাবটি কুমিল্লায় ১০-১৫টি ফিল্ড ট্রিপ পরিচালনা করে। ক্লাবের কার্যক্রমে, ট্রিপগুলোতে সকল আগ্রহী ব্যক্তি অংশগ্রহণ করতে পারেন।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত