রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
দেশের খবর কু‌মিল্লায় যৌতুকের জন্য গাছের বেঁধে গৃহবধূকে নির্যাতন

কু‌মিল্লায় যৌতুকের জন্য গাছের বেঁধে গৃহবধূকে নির্যাতন

 কুমিল্লা ব্যুরো :

 যৌতুকের জন্য এক গৃহবধূকে গাছের সাথে বেঁধে দিনভর নির্যাতন করে তার শশুর শাশুড়ি ও ননদেরা। খবর পেয়ে রাত ১১টায় পুলিশের সহায়তায় ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন তার স্বজনেরা। বুধবার (২৬ অক্টোবর) কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ধামতী গ্রামের উত্তর পাড়াস্থ (কোরের পাড়) দুলাল মিয়ার বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে নির্যাতনের শিকার নারীর শাশুড়ি জুলেখা বেগমকে আটক করেছে দেবিদ্বার থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমল কৃষ্ণ ধর জানান, এই বিষয়ে একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। জানা গেছে, বাবার বাড়ি থেকে একলক্ষ টাকা এনে দিতে বুধবার বিকেলে ওই গৃহবধুকে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন চাপ দেয়। সে টাকা এনে দিতে রাজি না হওয়ায় শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদেরা মিলে দুটি নারিকেল গাছের সাথে দুহাত বেঁধে তার ওপর শারিরীক নির্যাতন চালায় তারা। স্থানীয়দের চাপে নির্যাতনের শিকার গৃবধূর হাতের বাঁধন খুলে দিলেও ঘরে আটক রেখে রাতে আবারও তার উপর নির্যাতন চালায়। সংবাদ পেয়ে গৃহবধুর স্বজনরা তাকে উদ্ধারে ওই বাড়িতে গেলে তাদের বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি। পরে দেবিদ্বার থানার একদল পুলিশ নিয়ে রাত ১১টায় তাকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায় স্বজনরা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ জ্যোৎস্না জানান, প্রায় ১৬ বছর পূর্বে ধামতী গ্রামের দুলাল মিয়ার পুত্র হেলাল এর সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় বরপক্ষকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক পরিশোধ করতে হয়। বিয়ের পর বাবা মারা যান। এরই মধ্যে আমাদের সংসারে ২ ছেলে ও ২ মেয়ের জন্ম হয়। প্রায় ১২ বছর পূর্বে আমার স্বামী ওমান যাওয়ার সময় আরো ২ লক্ষ টাকার জন্য চাপ দিলে আমার ভাইয়েরা ১ লক্ষ টাকা দেন। গত এক বছর পূর্বে সে দেশে এসে আবারো বাকী ১লক্ষ টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। স্বামী চলে যাওয়ার পর স্বামীর প্ররোচনায় আমার শ^শুর দুলাল মিয়া, শাশুড়ি জুলেখা বেগম, দুই ননদ মৌসুমী ও পাখী প্রতিনিয়ত নির্যাতন চালাতে থাকে। আমার মাথার চুলগুলো টেনে ছিড়ে প্রায় শেষ করে ফেলেছে। তাদের কিল-ঘুষি আর থাপ্পরে দাঁতগুলোও নড়ে গেছে। গতকাল বুধবার বিকেলে বাবার বাড়িতে ১ লক্ষ টাকা এনে দিতে আবারো অমানবিক নির্যাতন চালায় শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদেরা। এক পর্যায়ে আমার দুহাত দুটি নারিকেল গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন চালায়। রাতে ঘরে নিয়েও একই অবস্থা করে। নির্যাতিতার মা ফরিদা বেগম বলেন, মেয়েকে বহুবার নিয়ে আসতে চেয়েছি। সে ৪ সন্তানের মায়ায় আসেনি। গত ১৫ বছরে অন্তত১০ থেকে ১২টি সালিশ হয়েছে, ছেলের পক্ষ সালিশের রায় মেনে পরে উল্টোটা করে। এখন আর কেউ সালিস করতে আসেনা। আমার আত্মীয় স্বজনও যায়না। আমরা গরিব মানুষ কত টাকা দিতে পারি। আমার ৪ ছেলে দিন মজুর। দেবিদ্বার থানার ওসি কমল কৃষ্ণ জানান, রাতে খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। পরে সকালে শাশুড়ি জুলেখা বেগমকে আটক করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন। বাকিদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

খুঁজুন