শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
কৃষি কুয়াশায় বীজতলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তা

কুয়াশায় বীজতলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তা

টানা শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে ইরি-বোরো ধানের বীজতলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কুড়িগ্রামের চিলমারীতে কৃষকরা। গত ১ সপ্তাহ ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে ইরি-বোরো বীজতলার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় সবুজ চারাগাছ হলুদ ও বিবর্ণ হয়ে পড়ায় চলতি মৌসুমের ইরি-বোরো আবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এদিকে কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যের আলো না পেলে বোরো বীজতলার ক্লোরোফিল নষ্ট হয়, ফলে চারাগাছ হলুদ হয়ে যায়।’ তিনি পরামর্শ দেন, কুয়াশা কেটে গেলে দ্রুত পলিথিন সরিয়ে দিতে হবে এবং অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী হালকা ইউরিয়া স্প্রে করলে চারাগাছ দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

অপরদিকে, চলতি জানুয়ারি মাসে আরও এক থেকে দুটি শৈত্যপ্রবাহ জেলা জুড়ে বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয় রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ অফিস। আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাজারহাট আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ইরি-বোরো বীজতলাই শীতের বিরূপ প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সূর্যের আলো না পাওয়ায় চারাগাছ দুর্বল হয়ে পড়ছে, পাতায় হলদে ভাব দেখা দিচ্ছে। কোথাও কোথাও চারাগাছ পচে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এতে কৃষকদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে দিন দিন।

বীজতলা রক্ষায় কৃষকরা নিজ নিজ উদ্যোগে নানা ব্যবস্থা নিচ্ছেন। অনেকেই বীজতলার ওপর পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছেন, কেউ কেউ ছত্রাকনাশক ও প্রয়োজনীয় ওষুধ স্প্রে করছেন। তবুও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কাঙ্খিত সুফল মিলছে না বলে অভিযোগ তাদের।

উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের গবেরতল এলাকার কৃষক আকরাম হোসেন জানান, ‘তিনি ১২ শতক জমিতে ব্রি ধান-১০০ জাতের বীজতলা তৈরি করেছেন। কয়েকদিনের টানা কুয়াশা ও প্রচণ্ড শীতে বীজতলা হলুদ হয়ে গেছে। সময়মতো চারা না পেলে বোরো আবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।’

একই ইউনিয়নের রাজারভিটা এলাকার কৃষক আ. কাদের বলেন,‘বোরো চাষের জন্য বীজতলা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতের কারণে চারাগুলো বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। পলিথিন দিয়ে ঢাকার পরও আশানুরূপ ফল পাচ্ছেন না তিনি।’

চিলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান, ‘চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৫১০ হেক্টর জমিতে বোরো বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কিছু বীজতলায় সাময়িক ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা কম। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে বীজতলা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

খুঁজুন