শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
অর্থ ও বাণিজ্য মাছ-মুরগি-চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী, কিছুটা স্বস্তি ডিমে

মাছ-মুরগি-চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী, কিছুটা স্বস্তি ডিমে

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন খোলা বাজারে মাছ ও চালের দামে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। এবার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্রয়লার মুরগিও। মাস খানেক আগে মুরগির দাম কমলেও ফের বাড়তে থাকে। গত সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১০-২০ টাকা বেড়েছে। তবে হঠাৎ বেড়ে যাওয়া ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। ফলে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে ফার্মের ডিম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিদিনের নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যগুলোতে বাড়তি চাপ পড়েছে মধ্যবিত্ত ও স্বল্প আয়ের মানুষের ওপর।

শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আশপাশের এলাকায় দেখা গেছে, পাঙাশ, তেলাপিয়া ও রুইসহ বেশিরভাগ মাছের দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। কাতল আকার ভেদে ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, চিংড়ি ৭০০ থেকে ১৩০০ টাকা, পাবদা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, কই ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা, শিং ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম ১০-২০ টাকা বেড়ে কেজিপ্রতি ১৮০-২০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ১৭০-১৮০ টাকা।

এদিকে চালের বাজারেও উর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাজার তদারকির অভাবে লাগামহীন হয়ে পড়েছে বাজার- এমন অভিযোগ করছে ক্রেতারা। যদিও গত দুই সপ্তাহে মিনিকেট চালের দাম কেজিতে এক-দুই টাকা কমেছে। বর্তমানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল ৭২ থেকে ৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে প্রতি কেজি নাজিরশাইল চালের দাম এখন ৭৫-৯৫ টাকা। ব্রি-২৮ চাল ৬২ টাকা ও মোটা ধরনের স্বর্ণা চাল ৫৮-৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে ডিমের বাজারে ভোক্তাদের স্বস্তি ফিরেছে। এক ডজন ডিম বর্তমানে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে কয়েকদিন আগেও দাম ছিল ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা।

ক্রেতারা অভিযোগ করছেন, পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত মূল্য নিয়ন্ত্রণে তদারকি দুর্বল হওয়ায় প্রতি সপ্তাহেই নতুন করে চাপ তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে বিক্রেতাদের দাবি, সরবরাহ খরচ ও পাইকারি দামে ঊর্ধ্বগতি থাকায় খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, চাল ও মুরগির বাজারে নিয়ন্ত্রণ না আনতে পারলে আসন্ন উৎসব মৌসুমে আরও চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে ডিমের বাজারে উৎপাদন ও সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কিছুটা স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে এসেছে।

শনিরআখড়ায় ব্যবসায়ী স্বপন বলেন, সবজি-মাছসহ অন্যান্য পণ্যের চাহিদা বেশি। যে কারণে দামও সামান্য বেড়েছে। তবে ২০০ টাকা পযন্ত মুরগির দাম স্বাভাবিক বলা যায়।

এদিকে, বাজারে প্রতি ডজন ডিমের দাম এলাকাভেদে ৫-১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। এক সপ্তাহ আগে ব্রয়লার মুরগির ডিম (লাল) যেখানে ১৫০ টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন ১৪০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। যদিও কিছু খুচরা দোকানে এখনো এক হালি ডিম ৫০ টাকা রাখা হচ্ছে।

তবে অধিকাংশ বিক্রেতারা বলেছেন, সরবরাহ বাড়ার কারণে ডিমের দাম কমতে শুরু করেছে। যা গত সপ্তাহের চেয়ে ডজনে ৫-১০ টাকা কম।

খুঁজুন