শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
জাতীয় মাদক কারবারের অভয়ারণ্য কু‌মিল্লার বুড়িচং ও সদ‌রের গোলাবা‌ড়ি সীমান্ত !!

মাদক কারবারের অভয়ারণ্য কু‌মিল্লার বুড়িচং ও সদ‌রের গোলাবা‌ড়ি সীমান্ত !!

নিজস্ব প্রতি‌বেদক,কু‌মিল্লা

কুমিল্লা জেলার ভারত সীমান্তবর্তী উপজেলা বুড়িচং, এই উপজেলাটি যে মাদক পাচার, কারবার ও সেবীদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠছে দিনদিন। অবৈধ মাদকের টাকা, আগ্নেয়াস্ত্র ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে পড়েছে মাদক কারবারি সিন্ডিকেট। এই সীমান্ত এলাকার ওপর দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও সিলেট-কুমিল্লা- ঢাকা মহাসড়ক ও রেলপথের একটি বিশাল অংশ। মাদকের প্রধান বাজার রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত। বহিরাগত মাদকসেবী ও কারবা‌রিরা তো আছেই সেই সাথে সীমান্তবর্তী এ উপজেলার তরুণ, কিশাের-কিশােরী ও যুবকরা দিন দিনই মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। সহজলভ্য হওয়ায় জড়িয়ে পড়ছে মাদক কারবারেও। বিশেষ করে উপজেলার সীমান্তবর্তী পাঁচোড়া, চড়ানল, জগৎপুর, শংকুচাইল, বারেশ্বর ও লড়িবাগ, আনন্দপুর, ঘিলাতলী, নজুপুড়া, জামতলা সহ বিভিন্ন গ্রামে নিত্য নতুন মাদক ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছে প্রতিদিনই। এরা বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন কায়দায় মদ, গাঁজা, স্কার্প, বিয়ার, ফেন্সিডিলের পাশাপাশি দেদারে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা। বুড়িচংয়ে ভারতীয় সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রতিদিনই নদীর স্রোতের মত প্রবেশ করছে মাদক। মাদকের ডিলার ও ব্যবসায়ীরা এক শ্রেণীর অসাধু সীমান্তরক্ষী ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ম্যানেজ করে মদ, গাঁজা, বিয়ার, ইয়াবা, ফেন্সিডিলসহ নানা প্রকার মাদক ও ভারতীয় অবৈধ পণ্য ওপাড় থেকে এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে। ফলে যুব ও তরুণ সমাজ মাদকের নীল নেশায় আসক্ত হয়ে দিন দিন ধ্বংসের দিকে পতিত হচ্ছে। সেই সাথে ঘটছে খুন, ডাকাতি, ছিনতাই সহ নানা অপ্রিয়কর ঘটনাও।  ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জেলার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ও রাজাপুর ইউনিয়নের প্রায় ১৫ কিলােমিটার অংশ জুড়ে রয়েছে ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা। এর মধ্যে ভারতী সীমান্ত লাগোয়া আনন্দপুর, জঙ্গলবাড়ি, পাহাড়পুর, কোদালিয়া, মিরপুর, শঙ্কুচাইল, হায়দ্রাবাদ, পাঁচোরা, চড়ানল, নবিয়াবাদ এসমস্ত গ্রামের ওপড় দিয়ে ভারত থেকে আসা মাদকের চালান প্রতিদিন পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। মাদক পাচারে নিত্য নতুন কৌশল এবং নারী মাদক কারবারির সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে অনেকাংশে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে এর সামান্য কিছু আটক হলেও বেশীর ভাগ মাদকের চালান গোপনে পৌঁছে যাচ্ছে গন্তব্যে। চিহ্নিত ও তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিদের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন মাদককারবার‌রি ও চোরাকারবারি। এদের মাধ্যমেই দেশে আসছে ইয়াবা সহ নানা জাতের মরণ নেশা। 

নাম না প্রকাশে স্থানীয়রা জানায় , সীমান্ত পার হ‌য়ে এপাড়ে আসা মাদকের বড় চালান উপজেলার কংশনগর, জগৎপুর, ময়নামতি সহ বিভিন্ন এলাকায় জড়ো করা হয়। পরে সময় সুযোগ বুঝে এম্বুলেন্স, বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, সিএনজি, পিকআপ সহ নানা পরিবহন পাঠানো হয় রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে। প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে গেলে সীমান্তের চিহ্নিত মাদক কারবারিরা গা-ঢাকা দিয়ে থাকে অথবা সীমান্ত পার হ‌য়ে ভার‌তে অবস্থান করে । সীমান্ত এলাকার বড় বড় মাদক ডিলাদের অধিকাংশই ভারত বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিক হওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।সীমান্ত এলাকার সচেতন স্থানীয়রা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মাদক কারবারিরা বেপরোয়া হয়ে পরছে। মাদকের সাথে সাথে অবৈধ  আগ্নেয়াস্ত্রের ঝনঝনানিও বেড়েছে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে। মাদক কারবারে জড়িতরা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবসার সাথেও জড়িত। পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পবিত্র ঈদের দিন জেলা সদরের গেলাবাড়ি এলাকায় ঈদের জামাতে গোলাগুলিতে একজন গুলিবিদ্ধ হয়। গত ১৩ এপ্রিল বুড়িচং হায়দ্রাবাদ সীমান্তে সাংবাদিক মহিউদ্দিন সরকার নাঈম হত্যায় একাধিক আগ্নেস্ত্রের ব্যবহার করা হয়।  এর আগে জেলার সদর দক্ষিণে র‌্যাবের ওপর মাদক কারবারিদের হামলা ও গোলাগুলিতে গুলিবিদ্ধ হন র‌্যাবের এক সদস্য। এছাড়া নগরীতে কাউন্সিলর সোহেল ও হরিপদ হত্যাকান্ডে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি উদ্বিগ্ন করে তুলেছে প্রশাসনকেও। জেলায় সংঘঠিত  বেশির ভাগ অপরাধের সাথেই প্রত্যক্ষ বা পরোভাবে মাদকের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়া যায়। মাদক একেবারে নির্মূল করা সম্ভব না হলেও সচেনত জনগণের প্রত্যাশা এর প্রসার ও পাচার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণে আরো কঠোর হবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। তবে মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের সচেতনতার বিকল্প নেই বলে মনে করে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান।

খুঁজুন