১৪ জুন। মৌলভীবাজার জেলাবাসীর এক ভয়াল স্মৃতির দিন। ১৯৯৭
সালের এই দিনের (১৪ জুন) মধ্যরাতে লাউয়াছড়া বনের পাশে মাগুরছড়া গ্যাসকূপে ভয়াবহ
বিস্ফোরণ ঘটে। আগুনে পুড়ে যায় মাগুরছড়া এলাকার বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণী।
পরিবেশবাদীদের তথ্য মতে, ৬৩ প্রজাতির পশু-পাখির বিনাশ হয়। সিলেটের
সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ ১৬৩ দিন বন্ধ ছিল। আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ধরা
হয়েছিল ১৫ হাজার কোটি টাকা। মার্কিন তেল-গ্যাস কোম্পানি অক্সিডেন্টাল ক্ষয়ক্ষতির
আংশিক পরিশোধ করলেও গত ২৬ বছরেও বন বিভাগ কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি।
জানা যায়, মার্কিন তেল-গ্যাস কোম্পানি অক্সিডেন্টালের
গ্যাসকূপ খনন চলাকালে প্রচণ্ড শব্দে কেঁপে ওঠে মৌলভীবাজার। দাউ দাউ করা আগুনের
লেলিহান শিখায় সেদিন লাল হয়ে উঠেছিল গোটা আকাশ। ঘটনার পর সারা দেশের সঙ্গে সিলেটের
সরাসরি রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার আকস্মিকতা বুঝে উঠতে না পেরে কমলগঞ্জ
শ্রীমঙ্গলের ভীতসন্ত্রস্ত অনেক লোক তখন ঘরের মালাপত্র রেখেই প্রাণভয়ে দিগ্বিদিক
ছুটে যায়। সেদিন আগুনের লেলিহান শিখা প্রায় ৫০০-৬০০ ফুট উচ্চতায় উঠেছিল বলে
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কমলগঞ্জ উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভিতরে
লাউয়াছড়া ফরেস্ট বিটের অভ্যন্তরে মাগুরছড়া এলাকায় ১৯৮৪-৮৬ ও ১৯৯৪ সালে সাইসলিক
সার্ভেতে গ্যাস মজুদের সন্ধান পাওয়া যায়। এ পরিপ্রেক্ষিতে উৎপাদন ভাগাভাগির
চুক্তিতে ১৯৯৫ সালের ১১ জানুয়ারি মার্কিন বহুজাতিক তেল ও গ্যাস উত্তোলণকারী প্রতিষ্ঠান
অক্সিডেন্টালের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। গ্যাস উত্তোলনে ১৪
নম্বর ব্লকের মাগুরছড়াস্থ মৌলভীবাজার-১ গ্যাসক্ষেত্র খননকালে ৮৫০ মিটার গভীরে
যেতেই ১৯৯৭ সালের ১৪ জুন মধ্যরাতে ঘটে ভয়াবহ বিষ্ফোরণ।
পরিবেশবাদীদের তথ্য মতে, আগুনে ৬৩ প্রজাতির পশু-পাখির বিনাশ হয়।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছিল ১৫ হাজার কোটি টাকা। তবে মার্কিন তেল-গ্যাস কোম্পানি
অক্সিডেন্টাল ক্ষয়ক্ষতির আংশিক পরিশোধ করলেও বন বিভাগ কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি।
ক্ষতিপূরণ না দিয়েই ইউনিকলের কাছে হস্তান্তর করে কূপটি। সর্বশেষ শেভরনের কাছে
বিক্রি করেছে। শেভরন ২০০৮ সালে ওই বনে ত্রি-মাত্রিক ভূতাত্বিক জরিপ কাজ সম্পন্ন
করে।
বাংলাদেশ পরিবেশন আন্দোলনের (বাপা) মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি
আ স ম সালেহ সোহেল এ বিষয়ে বলেন, মাগুরছড়া গ্যাসকূপের আগুন লাউয়াছড়া এলাকার
বন ও পরিবেশ এমনকি জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি করেছে, তা
হয়তো পাওয়া যাবে না। কিন্তু দুর্ঘটনার জন্য দায়ী মার্কিন তেল-গ্যাস উত্তোলনকারী
প্রতিষ্ঠান অক্সিডেন্টাল ক্ষয়ক্ষতির আংশিক পরিশোধ করে পালিয়ে গেছে। বন ও পরিবেশের
ক্ষয়ক্ষতি পাওয়ার জন্য সরকার আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করলেও আজ পর্যন্ত বিষয়টির
সুরহা হয়নি। আমরা চাই সরকার এ ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করুক।
বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরাম মৌলভীবাজারের সাধারণ
সম্পাদক নুরুল মোয়াইমিন মিল্টন বলেন, দুর্ঘটনার পর তৎকালীন সরকারের খনিজ ও
জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুল ইসলামকে প্রধান করে একটি তদন্ত
কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটি ১৯৯৭ সালের ৩০ জুলাই মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট পেশ
করে। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী অক্সিডেন্টালের দায়িত্বহীনতাকেই দায়ী করা হয়।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের প্রাক্তন
সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বনের ক্ষতি নিরূপণ করে দেওয়া
হলেও এ পর্যন্ত কিছুই পাওয়া যায়নি। প্রাকৃতিক বনের ক্ষতি কোনো সময়ে পুষিয়ে উঠার
নয়।
মাগুরছড়া ট্র্যাজেডির ২৬ বছর
মাগুরছড়া ট্র্যাজেডির ২৬ বছর
১৪ জুন। মৌলভীবাজার জেলাবাসীর এক ভয়াল স্মৃতির দিন। ১৯৯৭ সালের এই দিনের (১৪ জুন) মধ্যরাতে লাউয়াছড়া বনের পাশে মাগুরছড়া গ্যাসকূপে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। আগুনে পুড়ে যায় মাগুরছড়া এলাকার বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণী।পরিবেশবাদীদের তথ্য মতে, ৬৩ প্রজাতির পশু-পাখির বিনাশ হয়। সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ ১৬৩ দিন বন্ধ ছিল। আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছিল ১৫ হাজার কোটি টাকা। মার্কিন তেল-গ্যাস কোম্পানি অক্সিডেন্টাল ক্ষয়ক্ষতির আংশিক পরিশোধ করলেও গত ২৬ বছরেও বন বিভাগ কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি।জানা যায়, মার্কিন তেল-গ্যাস কোম্পানি অক্সিডেন্টালের গ্যাসকূপ খনন চলাকালে প্রচণ্ড শব্দে কেঁপে ওঠে মৌলভীবাজার। দাউ দাউ করা আগুনের লেলিহান শিখায় সেদিন লাল হয়ে উঠেছিল গোটা আকাশ। ঘটনার পর সারা দেশের সঙ্গে সিলেটের সরাসরি রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার আকস্মিকতা বুঝে উঠতে না পেরে কমলগঞ্জ শ্রীমঙ্গলের ভীতসন্ত্রস্ত অনেক লোক তখন ঘরের মালাপত্র রেখেই প্রাণভয়ে দিগ্বিদিক ছুটে যায়। সেদিন আগুনের লেলিহান শিখা প্রায় ৫০০-৬০০ ফুট উচ্চতায় উঠেছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।সংশ্লিষ্ট
সূত্র জানায়, কমলগঞ্জ উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভিতরে লাউয়াছড়া ফরেস্ট বিটের অভ্যন্তরে মাগুরছড়া এলাকায় ১৯৮৪-৮৬ ও ১৯৯৪ সালে সাইসলিক সার্ভেতে গ্যাস মজুদের সন্ধান পাওয়া যায়। এ পরিপ্রেক্ষিতে উৎপাদন ভাগাভাগির চুক্তিতে ১৯৯৫ সালের ১১ জানুয়ারি মার্কিন বহুজাতিক তেল ও গ্যাস উত্তোলণকারী প্রতিষ্ঠান অক্সিডেন্টালের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। গ্যাস উত্তোলনে ১৪ নম্বর ব্লকের মাগুরছড়াস্থ মৌলভীবাজার-১ গ্যাসক্ষেত্র খননকালে ৮৫০ মিটার গভীরে যেতেই ১৯৯৭ সালের ১৪ জুন মধ্যরাতে ঘটে ভয়াবহ বিষ্ফোরণ।পরিবেশবাদীদের তথ্য মতে, আগুনে ৬৩ প্রজাতির পশু-পাখির বিনাশ হয়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছিল ১৫ হাজার কোটি টাকা। তবে মার্কিন তেল-গ্যাস কোম্পানি অক্সিডেন্টাল ক্ষয়ক্ষতির আংশিক পরিশোধ করলেও বন বিভাগ কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি। ক্ষতিপূরণ না দিয়েই ইউনিকলের কাছে হস্তান্তর করে কূপটি। সর্বশেষ শেভরনের কাছে বিক্রি করেছে। শেভরন ২০০৮ সালে ওই বনে ত্রি-মাত্রিক ভূতাত্বিক জরিপ কাজ সম্পন্ন করে।বাংলাদেশ পরিবেশন আন্দোলনের (বাপা) মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি আ স ম সালেহ সোহেল এ বিষয়ে বলেন, মাগুরছড়া গ্যাসকূপের আগুন লাউয়াছড়া এলাকার
বন ও পরিবেশ এমনকি জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি করেছে, তা হয়তো পাওয়া যাবে না। কিন্তু দুর্ঘটনার জন্য দায়ী মার্কিন তেল-গ্যাস উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান অক্সিডেন্টাল ক্ষয়ক্ষতির আংশিক পরিশোধ করে পালিয়ে গেছে। বন ও পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি পাওয়ার জন্য সরকার আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করলেও আজ পর্যন্ত বিষয়টির সুরহা হয়নি। আমরা চাই সরকার এ ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করুক।বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরাম মৌলভীবাজারের সাধারণ সম্পাদক নুরুল মোয়াইমিন মিল্টন বলেন, দুর্ঘটনার পর তৎকালীন সরকারের খনিজ ও জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুল ইসলামকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটি ১৯৯৭ সালের ৩০ জুলাই মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট পেশ করে। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী অক্সিডেন্টালের দায়িত্বহীনতাকেই দায়ী করা হয়। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের প্রাক্তন সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বনের ক্ষতি নিরূপণ করে দেওয়া হলেও এ পর্যন্ত কিছুই পাওয়া যায়নি। প্রাকৃতিক বনের ক্ষতি কোনো সময়ে পুষিয়ে উঠার নয়।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত