শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
দেশের খবর মানিকগঞ্জে ১৩০টাকায় পুলিশের চাকুরী পেয়েছে ৩৯ জন

মানিকগঞ্জে ১৩০টাকায় পুলিশের চাকুরী পেয়েছে ৩৯ জন

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি, 

মানিকগঞ্জে পুলিশ কনস্টেবল পদে ১৩০ টাকায় চাকুরী পেয়েছেন ৩৯ জন। এদের মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ এবং ৬জন নারী।

আজ শনিবার বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ লাইন্স ড্রিল শেডে উত্তীর্ণদের ফলাফল ঘোষনা করেন নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান। 

এসময় নিয়োগ বোর্ডের অপর দুই সদস্য রাজবাড়ি সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাইন উদ্দিন, সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলামসহ মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( ক্রাইম এন্ড অপস)  হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান উপস্থিত ছিলেন। 

জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূ্ত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ জেলায় বাংলাদেশে পুলিশে ট্রেইনি রিক্রট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে চুড়ান্তভাবে ৩৯জন উত্তীর্ণ হয়েছে। গত ২২ মার্চ জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠে ১২০০ জন চাকুরী প্রার্থীদের শারিরীক মাপ ও কাগজপত্র যাচাই বাছাই করা হয়। ঐসময় মাঠ পরীক্ষায় ৩২১ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়। পরে ২৯ মার্চ তারিখে লিখিত পরীক্ষায় ১০০ জন পাশ করে। এদের মধ্যে আজ মৌখিক ও মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষায় ৩৯ জন চুড়ান্তভাবে পাশ করে। 

এদিকে কোন ধরনের টাকা-পয়সা ছাড়াই শুধুমাত্র ব্যাংক ড্রাফটের ১৩০টাকা দিয়ে পুলিশের চাকুরী পেয়ে খুশি উত্তীর্ণরা। 

উত্তীর্ণ ওয়াকিল আহমেদ জয় বলেন, কোন ধরনের ঘুষ কিংবা অর্থ লেনদেন ছাড়া শুধুমাত্র যোগ্যতার মাপকাঠিতে চাকুরী পেয়ে আমি খুবই খুশি। স্বচ্ছতার মাধ্যমে চাকুরী পেয়েছি। এজন্য জেলার পুলিশ সুপারের প্রতি কৃতজ্ঞ। পুলিশের পোষাক পড়ে দেশের জন্য কাজ করবো-এটাই কামনা করছি। 

উত্তীর্ণ নারী প্রার্থী স্বর্না জানায়, পুলিশের চাকুরীর করবো আগে চিন্তা ছিলনা। নিয়োগ পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ায় মনোবল তৈরী হয়। কোন ধরনের তদবির ছাড়াই নিজ যোগ্যতাই চাকুরী পেয়ে আমি বেজায় খুশি।

বাকী উত্তীর্ণরাও বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার শুরুতেই পুলিশ সুপার বলেছিলেন, কোন ধরনের টাকা-পয়সা, ঘুষ কিংবা তদবির নয়, যোগ্যতার বলেই চাকুরী হবে। সেটিই প্রমানিত হয়েছে। আমরা মেধা ও যোগ্যতায় চাকুরী পেয়েছি। কৃতজ্ঞ জেলা পুলিশকে। 

মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান বলেন, আমাদের মাননীয় ইন্সপেক্টর জেনারেল ড. বেনজির আহমেদ বিপিএম বার পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে একটি যুগান্তকারী পদ্ধতির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। পুলিশ হেড কোয়ার্টাস থেকেই সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। আমাদের এখানে শুধুমাত্র মৌখিক পরীক্ষা গ্রহন করা হয়। এতে পুলিশ নিয়োগে কোন ধরনের অনিয়মে সুযোগ নেই। নিজ নিজ যোগ্যতার মাপকাঠিতে তারা চাকুরী পেয়েছে। 

নিয়োগ পরীক্ষার শুরু থেকেই প্রার্থীদের বলা হয়েছিল কোন ধরনের দালাল কিংবা মধ্যস্বত্যভোগীদের খপ্পরে না পড়তে। বর্তমানে পুলিশের চাকুরীতে কোন টাকা পয়সা কিংবা ঘুষ লাগে না। কেউ তদবির কিংবা দালালের মাধ্যমে টাকা দিলে তারা এমনিতেই বাদ পড়বে। কারন পুলিশের নিয়োগে এখন আর  কোন অনিয়ম হয় না। মানিকগঞ্জে উত্তীর্ণ ৩৯ জনই তাদের যোগ্যতায় চাকুরী পেয়েছে। 

খুঁজুন