সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
জাতীয় মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে সিএনজি চালকরা

মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে সিএনজি চালকরা

যাত্রীদের জিম্মি করে দুই থেকে তিনগুণ ভাড়া আদায় করছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকরা। মিটার  থাকলেও শতভাগ সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মিটারে যেতে চান না। রাস্তায় এই মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে চালক ও মালিক একে অপরকে দুষছেন। মাঝখানে পথে পথে ভাড়ার পেছনে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে তাদের সুবিধা দেখার কেউ নেই। যাত্রীদের কাছ থেকে এভাবে মাসের পর মাস অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে না। ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সড়ক আইনে অস্পষ্টতায় কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। আর অটোরিকশা শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বলছেন, ২০১৫ সালের পর পাঁচবার গ্যাসের দাম বাড়লেও ভাড়া সমন্বয় করা হয়নি। ফলে খেসারত দিতে হচ্ছে সবাইকেই।

একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, চালকরা রীতিমতো জিম্মি করেই যাত্রী বহন করেন। তবে গন্তব্যে যাওয়ার সময় তারা মিটার চালু করে রাখেন, যা শুধু লোক দেখানো।

যাত্রীসাধারণের এই যে কষ্টের বর্ণনা, বাড়তি ভাড়া আদায় বা মিটার ছাড়া রাজধানীর রাজপথে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালানোর অভিযোগ-জবাবে কী বলেন চালকরা?

 শনির আখড়ায় কথা হয় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ইমনের সাথে। তিনি  বলেন, অনেক বছর ধরেই সিএনজি তো মিটারে চলে না। এখন যাত্রীরাও মিটারের নাম ভুলে গেছে। সবাই দরদাম করেই যেতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি যাত্রীদের ওপর উলটো দোষ চাপিয়ে বলেন, তারা এসেই জিজ্ঞাসা করেন ভাড়া কত? আমরাও আমাদের যেভাবে পোষায়, সেভাবেই ভাড়া চাই।

তবে ইমন কিছু সত্যও স্বীকার করেন। মিটারে গাড়ি চালাতে হলে আগে মালিকদের ঠিক করতে হবে। মালিকরা তো সরকারের আইন মানে না। সরকার দৈনিক জমার হার দিনচুক্তি বেঁধে দিয়েছে ৯০০ টাকা। অথচ মালিকরা এক গাড়ি দুই বেলা ভাড়ায় খাটান।

রাজধানীতে ১৫ হাজার ৬৯৬টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলছে জানিয়ে ঢাকা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ খোকন বলেন, পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে আশপাশের বিভিন্ন জেলার অটোরিকশা ঢাকায় দেদার চলছে। পুলিশ এসব দেখে না। তিনি বলেন, সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে প্রথম দুই কিমি. ৪০ টাকা, পরবর্তী প্রতি কিলোমিটার ১২ টাকা এবং ওয়েটিং বিল প্রতি মিনিট দুই টাকা নির্ধারণ করা হয়। মালিকের জমা নির্ধারণ করা হয় ৯০০ টাকা। এরপর এ পর্যন্ত গ্যাসের দাম পাঁচবার বাড়ানো হলেও ভাড়া সমন্বয় করা হয়নি।

বাংলাদেশ অটোরিকশা ও হালকা যান পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম ফারুক বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশার মালিকরা জমার হার বাড়িয়ে নিচ্ছেন। এ কারণে চালকরাও মিটারে গাড়ি চালাতে চান না। তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়েই বলছি, শুরু থেকেই মালিকরা বাড়তি জমা আদায় করছেন। যখন সরকার নির্ধারিত জমা ছিল ৩০০ টাকা, তখন মালিকরা আদায় করতেন ৫০০ টাকা। এখনো তারা একইভাবে অনেকটা জোর করে বাড়তি জমা আদায় করছেন।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. মুনিবুর রহমান বলেন, মিটার ছাড়া রাস্তায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিয়ে শাস্তির বিষয়ে সড়ক আইনে সুস্পষ্ট কিছু বলা নেই। এ কারণে মিটারে না চললেও এসব অটোরিকশার বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

এদিকে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, সড়ক আইন অনুযায়ী দরকষাকষি করে চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে বিআরটিএ-এর ভ্রাম্যমাণ আদালত অব্যাহত আছে। কোনো অটোরিকশাচালক মিটারে না চললে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

খুঁজুন