রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
দেশের খবর মেস থেকে মাভাবিপ্রবির শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মেস থেকে মাভাবিপ্রবির শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

‎মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি :‎

‎মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০২০–২১ সেশনের শিক্ষার্থী মো. জুনায়েদ হোসেনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২০ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটবর্তী সন্তোষ পুরাতন পাড়ার একটি ছাত্রাবাস থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।‎

‎বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ইমাম হোসেন জানান, সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে তিনি ঘটনাটি জানতে পারেন এবং সঙ্গে সঙ্গে উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। কাগমারী পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দিলে পুলিশ এসে মেসের রুম থেকে লাশ উদ্ধার করে এবং পরে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জুনায়েদ দীর্ঘদিন ধরে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন, যা তাকে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

‎কাগমারী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ছাইফুল ইসলাম বলেন, প্রক্টর আমাকে ফোনে জানালে আমরা গিয়ে দরজা ভেঙে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা না গেলেও পুলিশ এটি আত্মহত্যা বলেই প্রাথমিকভাবে মনে করছে। তবে তদন্তের পর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা যাবে বলে জানায় তারা।

‎জুনায়েদের অকালমৃত্যুতে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। সহপাঠীরা গভীর কষ্ট ও বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, জুনায়েদ ছিলেন একজন অত্যন্ত ভদ্র, মৃদুভাষী ও শান্ত স্বভাবের তরুণ। তিনি কারও সঙ্গে কখনো তর্কে জড়াতেন না, সবসময় হাসিমুখে কথা বলতেন। বন্ধু ও সহপাঠীদের সঙ্গে ছিলেন আন্তরিক, সহযোগিতাপরায়ণ এবং বিনয়ী। 

‎মরদেহ উদ্ধারের পর তাঁর রুমে একটি দেয়ালে ইংরেজি ভাষায় লেখা একটি বাক্য পাওয়া যায়—"The world is a fine place and worth fighting for." (পৃথিবীটা একটা চমৎকার জায়গা এবং এর জন্য লড়াই করা মূল্যবান)। উক্তিটি বিখ্যাত আমেরিকান ঔপন্যাসিক ও সাংবাদিক আর্নেস্ট হেমিংওয়ের। এই লাইনটিই হয়তো তাঁর মনের দ্বন্দ্ব এবং জীবনের প্রতি একধরনের উপলব্ধিকে প্রকাশ করে।

‎মো. জুনায়েদ হোসেনের বাড়ি গাজীপুর জেলার পূবাইল গ্রামে। তাঁর অকাল মৃত্যুতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

খুঁজুন