শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
জাতীয় মুগদা হাসপাতালে শয্যা ও ওষুধ সঙ্কট

মুগদা হাসপাতালে শয্যা ও ওষুধ সঙ্কট

রোকসানা মনোয়ার : দেশের স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ডেঙ্গু চিকিৎসার ব্যবস্থাপনা। প্রতিবছর বর্ষার আগে ও পরে রাজধানীসহ সারাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ লক্ষ্য করা যায়। তবে চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। যা জুন-জুলাই মাসে এসে মহামারি আকার ধারণ করেছে।

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকায় রোগী বাড়ছে রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। হাসপাতালটিতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকার রোগীরা যেমন আসছেন, তেমনি রোগী আসছেন দূরের জেলা থেকেও।

মাত্র ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালে নিয়মিত রোগীর বাইরে এত সংখ্যক ডেঙ্গু রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। তিনটি ডেডিকেটেড ডেঙ্গু ওয়ার্ডের মাধ্যমে এসব রোগীকে সেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গতকাল মোট ৭৩২ জন রোগী ভর্তি ছিল। এর মধ্যে ডেঙ্গু রোগী ছিল ২৬৫ জন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি ছিল ৭০টি শিশু। প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে নারী ও পুরুষের আলাদা তথ্য রাখা হচ্ছে না।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, জুনের শুরু থেকে ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে। ১ জুন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ৯৪। ১২ জুন সংখ্যাটি বেড়ে দাঁড়ায় ১৮৬ জনে। ২৪ জুনে সব চেয়ে বেশি ৩১৯ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। ডেঙ্গুতে এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চলতি মৌসুমে (এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত) মারা গেছেন ১০ জন।


হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ড ঘুরে গতকাল রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেশির ভাগই এসেছেন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, ধলপুর, শান্তিবাগ, কাজলা, মেরাদিয়া, মুগদা, বনশ্রীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে। তবে পটুয়াখালী, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসেও রোগীরা হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

মুগদা হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. নিয়াতুজ্জামান বলেন, ডেঙ্গু রোগীর ব্যবস্থাপনায় এ হাসপাতাল পর্যাপ্ত সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছে। ঢাকার বাইরে, বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ে রোগীরা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে সেখানে চিকিৎসা নিতে তেমন ভরসা পান না বলে হয়তো এ হাসপাতালে আসছেন।


ডেঙ্গু বাড়ায় মুগদা হাসপাতালের ১০ম তলায় পুরুষ রোগীদের এবং ৮ম তলায় ওপেন স্পেস বা খোলা জায়গায় শিশুদের রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নারীদের তৃতীয় তলার একটি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হচ্ছে। তবে ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুদের সঙ্গে ডায়রিয়া ও অন্যান্য অসুখের শিশু

রোগীদেরও রাখা হচ্ছে।


হাসপাতালটির পরিচালক মো. নিয়াতুজ্জামান বলেন, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ায় এভাবেই রোগীদের রাখতে হচ্ছে। বিছানা নেই বলে রোগীদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। মেঝেতে বিছানা পেতে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ৫০০ শয্যার হাসপাতালটিতে রোগীর চাপ থাকে সব সময়।

রোগী ও রোগীর স্বজনেরা জানান, হাসপাতালটিতে স্যালাইনও বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। স্যালাইন শেষ হয়ে গেলে বা স্যালাইনের নল দিয়ে রক্ত চলে এলে নার্সের দেখা মেলে না। মেঝেতে বিছানা করে রেখেছে। কিন্তু বিছানার চাদরও পাল্টে দেয় না। হাসপাতালের খাবার মোটামুটি ভালো। তবে অনেক সময় দিতে দেরি হয়।


অবশ্য তকাল বেলা দুইটার দিকে শিশু ডেঙ্গু রোগীদের খাবার দিতে দেখা যায়। রোগীদের বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে হাসপাতালটির পরিচালক মো. নিয়াতুজ্জামান বলেন, ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেশি। তাঁদের স্যালাইন দেওয়া, তা ঠিক সময়ে খুলে ফেলাসহ সার্বিকভাবে নজরদারির মধ্যে রাখতে হয়। অথচ হাসপাতালে একেক পালায় তিন থেকে চারজন নার্সকে প্রায় ২০০ রোগীর দেখভাল করতে হচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে স্যালাইনের (ডিএনএস) সরবরাহ নেই। স্যালাইনসহ রোগীদের কিছু ওষুধ কিনতে হচ্ছে। তবে বলা যায়, ৭০ শতাংশ ওষুধই হাসপাতাল থেকে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

খুঁজুন