মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
দেশের খবর নারায়ণগঞ্জের কিশোরীকে ভারতের পতিতালয়ে বিক্রির চেষ্টা

নারায়ণগঞ্জের কিশোরীকে ভারতের পতিতালয়ে বিক্রির চেষ্টা

বুলবুল আহমেদ সোহেল :

নিখোঁজের ২ মাস পর জানা গেল নারায়ণগঞ্জের এক কিশোরী ভারতের সেভ হোমে। প্রেমের টানে যুবকের সাথে পালানোর পর কথিত শাশুড়ী তাকে বিক্রি করতে নিয়ে যায় ভারতের এক পতিতালয়ে। আর কিশোরী তা বুঝতে পেরে আশ্রয় নেয় পুলিশের কাছে। ভারতের পুলিশ তাকে উদ্ধারসহ গ্রেপ্তার করে পাচারকারী চক্রের সদস্য ফরজানাকে। কিশোরীকে দেশে ফরিয়ে আনতে প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছে কিশোরীটির পরিবার।

নারায়ণগঞ্জ নগরের গলাচিপা এলাকার পোশাক কারখানার শ্রমিক দম্পতির সপ্তম শ্রেনী পড়ুয়া কিশোরী প্রতিবেশী যুবক নাঈমের সঙ্গে প্রেমের টানে ১৪ রমজান ঘর ছাড়ে।  বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ থাকে ওই কিশোরী। পরিবারের লোকজন খোঁজ খবর নিয়ে জানাতে পারে পাশের বাড়ির ভাড়াটিয়া নাঈমকে বিয়ে করে তার সঙ্গে আছে। পরবর্তীতে নাঈমের পরিবার নগর থেকে বাসা নিয়ে চলে যায় বন্দরে। কিশোরীর পরিবার রাগে ক্ষোভে কিশোরীর খোঁজ খবর নেয়া বন্ধ করে দেয়।

কিশোরীর মা সুলতানা বেগম জানান, ঘটনার প্রায় দুই মাসপর ৫ মে ভারতীয় দুতাবাসের মাধ্যমে খবর মিলে ওই কিশোরী ভারতের একটি সেভ হোমে রয়েছে। কিশোরীটি তার বাবা মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলে দেশে ফিরিয়ে আনতে আকুঁতি জানায়। পরে তারা স্থানীয় কাউন্সিলরের দারস্থ হন।

ঘটনা শুনে অনেকটাই শঙ্কিত স্থানীয়রা। ভারত থেকে ওই কিশোরীকে দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি গোটা চক্রটিকে চিহ্নিত করে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।


নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ জানান, খোঁজে খবর নিয়ে জানা গেছে নাঈমের মা ফারজানা ঘরে মুন্সি ডেকে কথিত বিয়ে পড়ান। এর কিছুদিন পর ওই কিশোরীকে চিকিৎসার কথা বলে বাংলাদেশ থেকে জয়পুর সীমান্ত পেড়িয়ে নিয়ে যায় ভারতে। ভারতের রাজস্থানের জয়পুরের একটি পতিতালয়ে ওই কিশোরীকে বিক্রির চেষ্টা করেন। ঘটনা বুঝতে পেরে ওই কিশোরী সেখানকার পুলিশের সাহায্য চায়। পরে সেখানকার পুলিশ তাকে সেভ হোমে রাখে। কিশোরীর দেয়া তথ্যানুযায়ী তার কথিত শাশুড়ী ফারজানাকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে সেখানকার দূতাবাস কিশোরীর সঙ্গে তার পরিবারকে ফোনে যোগাযোগ করিয়ে বিস্তারিত জানায়।

সিটি কাউন্সিলর খোরশেদ জানান,ঘটনা জানার পর কিশোরীর পরিবারকে দিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করানো হয়। কিশোরীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে যোগাযোগ সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরী করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

ভারতে অবস্থানরত কিশোরীর এমন ঘটনা শুনে তাকে ফিরিয়ে আনতে পরিবারের সদস্যদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলে জানান জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।   

ভারতে থাকা ওই কিশোরীকে ফিরে আনতে পুলিশও সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে জানান পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তাফা রাসেল। পাশাপাশি মানব পাচার রোধে স্থানীয়দের সচেতন হওয়ার আহবানও জানান তিনি।

খুঁজুন