রোকসানা মনোয়ার : নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় সারা দেশ থেকে গত পাঁচ বছরে ৯৯৯-এ যত কল এসেছে, তার মাঝে ১০ হাজার ২০৭টি ছিল অত্যাচার সংক্রান্ত। এর মাঝে ২০২২ এর প্রথম আট মাসেই এসেছে ৩ হাজার ৫৫২টি কল, গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ২৯২টি। গত পাঁচ বছরে শুধু স্বামীর হাতে নির্যাতনের অভিযোগই এসেছে ৯ হাজার ৩১৩টি। এর ৪৫ শতাংশই এসেছে এ বছরের প্রথম আট মাসে। ২০১৮ সাল থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত সময়ে যৌন হয়রানি এবং ধর্ষণের ঘটনায় মোট কল এসেছে যথাক্রমে ৫ হাজার ৭৭০টি এবং ২ হাজার ৬৬৯টি। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা অ্যাসিড নিক্ষেপ এবং যৌতুকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে আসছে। তারপরও এ ধরনের ঘটনা বন্ধ হয়নি।
গত পাঁচ বছরে অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনায় ৪০টি এবং যৌতুকের প্রতিকার চেয়ে ৮৬৩টি কল এসেছে ৯৯৯-এ। জাতীয় জরুরি সেবার নম্বরে এ বছর আগস্ট পর্যন্ত সব মিলিয়ে মোট কল এসেছে ৫৫ লাখ ১৫ হাজার ৯৯৪টি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৯১ লাখ ৫৯ হাজার ৫০৭টি। আর ২০১৭ এর ডিসেম্বর থেকে ২০২২ এর আগস্ট পর্যন্ত মোট কল এসেছে ৪ কোটি ৪ লাখ ২১ হাজার ৪৩৫টি। এসব কলের মাঝে ৫৯ দশমিক ২৫ শতাংশই ছিল ‘প্র্যাংক’ ও ‘ব্ল্যাংক’ কল।
যে কলাররা সত্যিই সেবা পেতে কল করেছিলেন, তাদের মাঝে পুরুষের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। দ্বিতীয় অবস্থানে শিশু এবং সবচেয়ে কম কল করেছেন নারীরা।
জাতীয় জরুরি সেবা বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, ‘অপরাধ বাড়ছে কি না (এই সংখ্যা থেকে) তা বলা যাচ্ছে না। সচেতনতা বাড়ছে কি না সেটাও বলা যাচ্ছে না। তবে এটা বলা যায়, ৯৯৯-এর প্রতি আস্থা বাড়ছে। যে কারণে মানুষের মাঝে এটি ব্যবহার করার প্রবণতাও বাড়ছে। সরকারের তরফ থেকে বিভিন্ন ফোকাল পয়েন্ট থেকে বলা হয়েছে, ১৬২৬৩ (স্বাস্থ্য সেবা) অথবা ৩৩৩ (খাদ্য সহায়তা) তে ফোন দিন। কিন্তু তারপরও ৯৯৯-তে যে সংখ্যক কল এসেছে, তা মানুষের বিশ্বাস থেকেই এসেছে।
কোভিড সংক্রমণ শুরুর দুই মাস অর্থাৎ মার্চ ও এপ্রিলে ৯৯৯-এ সবচেয়ে বেশি কল এসেছে। ২০২০ এর মার্চে ১০ লাখ ২৯ হাজার ২৯৬টি এবং এপ্রিলে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১১ লাখ ৫ হাজার ৭১২। এরপর ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।
৯৯৯-এর পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, পুলিশি সহায়তা দেওয়ার কিছুক্ষণ পর ৯৯৯ থেকে কলারকে কল করা হয়, সমস্যার সমধান হয়েছে কি না তা জানতে চাওয়া হয়। এসব কারণেই হয়ত মানুষ আমাদের ওপর ভরসা পাচ্ছে। কিন্তু সেজন্য অপরাধ বাড়ছে এটা কোনোভাবেই বলা যাবে না। একটা ভালো দিক যে, এখন একটা মেয়ের অভিযোগ করার জায়গা আছে। তার পাশে রাষ্ট্র দাঁড়াচ্ছে, পুলিশ প্রশাসন দাঁড়াচ্ছে। এত দিন ধরে আমরা চেষ্টা করছি। কিন্তু আমাদের ক্ষমতা তো রাষ্ট্রের মতো না। আমাদের সবসময়ই দাবি ছিল রাষ্ট্রের এজেন্সিগুলো যেন এগিয়ে আসে।
নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়ছে
নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়ছে
রোকসানা মনোয়ার : নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় সারা দেশ থেকে গত পাঁচ বছরে ৯৯৯-এ যত কল এসেছে, তার মাঝে ১০ হাজার ২০৭টি ছিল অত্যাচার সংক্রান্ত। এর মাঝে ২০২২ এর প্রথম আট মাসেই এসেছে ৩ হাজার ৫৫২টি কল, গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ২৯২টি। গত পাঁচ বছরে শুধু স্বামীর হাতে নির্যাতনের অভিযোগই এসেছে ৯ হাজার ৩১৩টি। এর ৪৫ শতাংশই এসেছে এ বছরের প্রথম আট মাসে। ২০১৮ সাল থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত সময়ে যৌন হয়রানি এবং ধর্ষণের ঘটনায় মোট কল এসেছে যথাক্রমে ৫ হাজার ৭৭০টি এবং ২ হাজার ৬৬৯টি। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা অ্যাসিড নিক্ষেপ এবং যৌতুকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে আসছে। তারপরও এ ধরনের ঘটনা বন্ধ হয়নি।গত পাঁচ বছরে অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনায় ৪০টি এবং যৌতুকের প্রতিকার চেয়ে ৮৬৩টি কল এসেছে ৯৯৯-এ। জাতীয় জরুরি সেবার নম্বরে এ বছর আগস্ট পর্যন্ত
সব মিলিয়ে মোট কল এসেছে ৫৫ লাখ ১৫ হাজার ৯৯৪টি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৯১ লাখ ৫৯ হাজার ৫০৭টি। আর ২০১৭ এর ডিসেম্বর থেকে ২০২২ এর আগস্ট পর্যন্ত মোট কল এসেছে ৪ কোটি ৪ লাখ ২১ হাজার ৪৩৫টি। এসব কলের মাঝে ৫৯ দশমিক ২৫ শতাংশই ছিল ‘প্র্যাংক’ ও ‘ব্ল্যাংক’ কল।যে কলাররা সত্যিই সেবা পেতে কল করেছিলেন, তাদের মাঝে পুরুষের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। দ্বিতীয় অবস্থানে শিশু এবং সবচেয়ে কম কল করেছেন নারীরা।জাতীয় জরুরি সেবা বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, ‘অপরাধ বাড়ছে কি না (এই সংখ্যা থেকে) তা বলা যাচ্ছে না। সচেতনতা বাড়ছে কি না সেটাও বলা যাচ্ছে না। তবে এটা বলা যায়, ৯৯৯-এর প্রতি আস্থা বাড়ছে। যে কারণে মানুষের মাঝে এটি ব্যবহার করার প্রবণতাও বাড়ছে। সরকারের তরফ থেকে বিভিন্ন ফোকাল পয়েন্ট থেকে বলা হয়েছে, ১৬২৬৩ (স্বাস্থ্য সেবা) অথবা ৩৩৩ (খাদ্য সহায়তা) তে ফোন দিন। কিন্তু
তারপরও ৯৯৯-তে যে সংখ্যক কল এসেছে, তা মানুষের বিশ্বাস থেকেই এসেছে।কোভিড সংক্রমণ শুরুর দুই মাস অর্থাৎ মার্চ ও এপ্রিলে ৯৯৯-এ সবচেয়ে বেশি কল এসেছে। ২০২০ এর মার্চে ১০ লাখ ২৯ হাজার ২৯৬টি এবং এপ্রিলে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১১ লাখ ৫ হাজার ৭১২। এরপর ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।৯৯৯-এর পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, পুলিশি সহায়তা দেওয়ার কিছুক্ষণ পর ৯৯৯ থেকে কলারকে কল করা হয়, সমস্যার সমধান হয়েছে কি না তা জানতে চাওয়া হয়। এসব কারণেই হয়ত মানুষ আমাদের ওপর ভরসা পাচ্ছে। কিন্তু সেজন্য অপরাধ বাড়ছে এটা কোনোভাবেই বলা যাবে না। একটা ভালো দিক যে, এখন একটা মেয়ের অভিযোগ করার জায়গা আছে। তার পাশে রাষ্ট্র দাঁড়াচ্ছে, পুলিশ প্রশাসন দাঁড়াচ্ছে। এত দিন ধরে আমরা চেষ্টা করছি। কিন্তু আমাদের ক্ষমতা তো রাষ্ট্রের মতো না। আমাদের সবসময়ই দাবি ছিল রাষ্ট্রের এজেন্সিগুলো যেন এগিয়ে আসে।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত