সিরাজগঞ্জে নির্মিত শেখ হাসিনা ট্রমা সেন্টার ও হাসপাতালটির নির্মাণকাজ এক বছর আগে শেষ হয়েছে। কিন্তু এখনও চালু হয়নি এর সেবাকার্যক্রম। এতে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম-সংযোগ মহাসড়কে দুর্ঘটনায় আহত রোগীরা দ্রুত সেবা পাওয়ার সুযোগ বঞ্চিত হচ্ছেন। বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। অথচ ট্রমা সেন্টারটি চালু হলে মহাসড়কে দুর্ঘটনার শিকার রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা যেত।
মহাসড়কে দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা দিয়ে মৃত্যু হ্রাস করার লক্ষ্যে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের উদ্যোগে এই সেন্টারটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।
বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড়ে সিরাজগঞ্জের মুলিবাড়িতে শেখ হাসিনা ট্রমা সেন্টারটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে এক কোটি ৮০ লাখ টাকা। স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয় এটি। এই সেন্টারে ডাক্তার, নার্স ও স্টাফদের জন্য ডরমিটরি বিল্ডিং, আধুনিকমানের অপারেশন থিয়েটার রুমসহ দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের সর্বাধুনিক চিকিৎসার উপযোগী স্থাপনা রয়েছে। নির্মাণকাজ শেষে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্থাপনাটি হস্তান্তর করেছে অনেক আগেই। অথচ এ পর্যন্ত সেবাদান চালু করা যায়নি নানা কারণে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, জনবল নিয়োগের আদেশ পেলেই প্রতিষ্ঠানটি চালু করা যাবে।
সূত্র বলছে, এতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা চলছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর নামে নির্মিত ট্রমা সেন্টারটি এখনও মানবসেবায় আসতে পারেনি।
স্থানীয়রা জানায়, বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম-সংযোগ মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন প্রায় সময়ই দুর্ঘটনায় পড়ে । এতে আহত ও নিহতের ঘটনা ঘটে। ঈদ, পূজা ছাড়াও সরকারি ছুটির দিনে এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ অনেক বেড়ে যায়। তখন দুর্ঘটনাও বাড়ে।
দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য মহাসড়কের কাছাকাছি কোথাও কোনও সরকারি হাসপাতাল নেই। গত ২৫ মে রাতে হাটিকুমরুল-নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কের সলঙ্গা থানার রামারচর এলাকায় পাথরবাহী ট্রাকের সাথে লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচযাত্রী নিহত হন। তাদের মধ্যে দু’জন হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা গেছেন। কাছাকাছি চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলে হয়তো তাদেরকে বাঁচানো যেত । এমন অনেক দুর্ঘটনাতেই আহত অনেককেই সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, বগুড়া অথবা ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যায়।
সেতুর পশ্চিমে প্রায় ৪০ কিমি দূরে নাটোর জেলার বনপাড়া, সিরাজগঞ্জ জেলার উত্তর সীমানায়ও প্রায় ৪০ কিমি চান্দাইকোনা এবং দক্ষিণের সীমানা ৬০কিমি শাহজাদপুর পর্যন্ত বিস্তৃত মহাসড়কে দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসারও কোনও ব্যবস্থা নেই। জেলা সদরের হাসপাতালগুলোতেও আহতদের উপযুক্ত চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ কম।
এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম মহাসড়কে ২০২১ সালে মোট ৪৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিহত হয়েছে ৫৭ জন। আহত হয়েছে পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, ১৮ জন। ২০২২ সালের মে মাস পর্যন্ত এই সড়কে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ২৮ জন, আহত ১০ জন।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লুৎফর রহমান এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, দুর্ঘটনায় আহত অনেক রোগীকে দ্রুত চিকিৎসা দিতে পারলে হয়তো তাদের জীবন বাঁচানো সম্ভব।
সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা: রামপদ রায় বলেন, ট্রমা সেন্টারের জন্য জনবল নিয়োগসহ যন্ত্রপাতি স্থাপন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইতোমধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চ মহলে লিখিতভাবে জনবল নিয়োগসহ যন্ত্রপাতি স্থাপন-সংক্রান্ত চিঠি দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা গত ১৪ মে শেখ হাসিনা ট্রমা সেন্টার পরিদর্শন করেছেন। খুব শিগগিরই ট্রমা সেন্টারটি চালু করা যাবে বলে এই কর্মকর্তা আশা প্রকাশ করেছেন।
নির্মাণ কাজ শেষ ,চালু হয়নি শেখ হাসিনা ট্রমা সেন্টার
নির্মাণ কাজ শেষ ,চালু হয়নি শেখ হাসিনা ট্রমা সেন্টার
সিরাজগঞ্জে নির্মিত শেখ হাসিনা ট্রমা সেন্টার ও হাসপাতালটির নির্মাণকাজ এক বছর আগে শেষ হয়েছে। কিন্তু এখনও চালু হয়নি এর সেবাকার্যক্রম। এতে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম-সংযোগ মহাসড়কে দুর্ঘটনায় আহত রোগীরা দ্রুত সেবা পাওয়ার সুযোগ বঞ্চিত হচ্ছেন। বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। অথচ ট্রমা সেন্টারটি চালু হলে মহাসড়কে দুর্ঘটনার শিকার রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা যেত।মহাসড়কে দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা দিয়ে মৃত্যু হ্রাস করার লক্ষ্যে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের উদ্যোগে এই সেন্টারটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড়ে সিরাজগঞ্জের মুলিবাড়িতে শেখ হাসিনা ট্রমা সেন্টারটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে এক কোটি ৮০ লাখ টাকা। স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয় এটি। এই সেন্টারে ডাক্তার, নার্স ও স্টাফদের জন্য ডরমিটরি বিল্ডিং, আধুনিকমানের অপারেশন থিয়েটার রুমসহ দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের সর্বাধুনিক চিকিৎসার উপযোগী স্থাপনা রয়েছে। নির্মাণকাজ শেষে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্থাপনাটি হস্তান্তর করেছে অনেক আগেই। অথচ এ পর্যন্ত সেবাদান চালু করা যায়নি নানা কারণে।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, জনবল নিয়োগের
আদেশ পেলেই প্রতিষ্ঠানটি চালু করা যাবে।সূত্র বলছে, এতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা চলছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর নামে নির্মিত ট্রমা সেন্টারটি এখনও মানবসেবায় আসতে পারেনি।স্থানীয়রা জানায়, বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম-সংযোগ মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন প্রায় সময়ই দুর্ঘটনায় পড়ে । এতে আহত ও নিহতের ঘটনা ঘটে। ঈদ, পূজা ছাড়াও সরকারি ছুটির দিনে এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ অনেক বেড়ে যায়। তখন দুর্ঘটনাও বাড়ে।দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য মহাসড়কের কাছাকাছি কোথাও কোনও সরকারি হাসপাতাল নেই। গত ২৫ মে রাতে হাটিকুমরুল-নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কের সলঙ্গা থানার রামারচর এলাকায় পাথরবাহী ট্রাকের সাথে লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচযাত্রী নিহত হন। তাদের মধ্যে দু’জন হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা গেছেন। কাছাকাছি চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলে হয়তো তাদেরকে বাঁচানো যেত । এমন অনেক দুর্ঘটনাতেই আহত অনেককেই সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, বগুড়া অথবা ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যায়।সেতুর পশ্চিমে প্রায় ৪০ কিমি দূরে নাটোর জেলার বনপাড়া, সিরাজগঞ্জ জেলার উত্তর সীমানায়ও প্রায় ৪০ কিমি চান্দাইকোনা এবং দক্ষিণের সীমানা ৬০কিমি শাহজাদপুর পর্যন্ত বিস্তৃত মহাসড়কে দুর্ঘটনায়
আহতদের দ্রুত চিকিৎসারও কোনও ব্যবস্থা নেই। জেলা সদরের হাসপাতালগুলোতেও আহতদের উপযুক্ত চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ কম।এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম মহাসড়কে ২০২১ সালে মোট ৪৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিহত হয়েছে ৫৭ জন। আহত হয়েছে পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, ১৮ জন। ২০২২ সালের মে মাস পর্যন্ত এই সড়কে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ২৮ জন, আহত ১০ জন।হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লুৎফর রহমান এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, দুর্ঘটনায় আহত অনেক রোগীকে দ্রুত চিকিৎসা দিতে পারলে হয়তো তাদের জীবন বাঁচানো সম্ভব।সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা: রামপদ রায় বলেন, ট্রমা সেন্টারের জন্য জনবল নিয়োগসহ যন্ত্রপাতি স্থাপন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইতোমধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চ মহলে লিখিতভাবে জনবল নিয়োগসহ যন্ত্রপাতি স্থাপন-সংক্রান্ত চিঠি দেওয়া হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা গত ১৪ মে শেখ হাসিনা ট্রমা সেন্টার পরিদর্শন করেছেন। খুব শিগগিরই ট্রমা সেন্টারটি চালু করা যাবে বলে এই কর্মকর্তা আশা প্রকাশ করেছেন।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত