জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে দ্রুতই এগিয়ে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন । নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ মুহূর্তের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আগামী ১৩ নভেম্বর সংলাপ শুরু করতে যাচ্ছে ইসি। এ সংলাপে ধাপে ধাপে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলবে ইসি। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলীয় জোটের কাউকে সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না। যদিও জাতীয় পার্টিকে ডাকা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আগামী মাস ডিসেম্বরের প্রথম দিকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার লক্ষ্য রয়েছে ইসির। নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে নতুন বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে। সেক্ষেত্রে ১২ ফেব্রুয়ারি বা এর আগে যেকোনো দিন ভোটগ্রহণ হবে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখা থেকে জানানো হয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সংলাপ শুরু হতে যাচ্ছে আগামী বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর)। সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজন নিয়ে দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে আলোচনা হবে। এর আগে শিক্ষক, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ করেছে নির্বাচন কমিশন।
ইসি সূত্র জানায়, তফসিলের আগে সময় কম থাকায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এবার পৃথক সংলাপ হবে না। প্রতিটি সংলাপে সমমনা দলগুলোর নেতাদের একসঙ্গে ডাকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে এ সংলাপ সফলভাবে শেষ করাকে বড় ধরনের কাজ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি সেশনে ৬টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি থাকবেন। এক দিনে দুটি সেশনে ১২টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিকে ডাকার কথা আছে। ১৩ নভেম্বর সংলাপ শুরু হলে সর্বশেষ বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর সঙ্গে সংলাপ করবে নির্বাচন কমিশন। ইসি সূত্রে জানা গেছে, এ সংলাপে জাতীয় পার্টি, জাসদ, গণতন্ত্রী পার্টি, জাকের পার্টি, তরীকত ফেডারেশন, সাম্যবাদী দল, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিসহ ১৪ দলীয় জোটের কাউকে না ডাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
সূত্র আরো জানায়, তফসিল ঘোষণার আগে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও করণীয় নির্ধারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফের বৈঠকের কথা ভাবছে কমিশন। গণভোট বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা না পাওয়ায় আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি পূর্ণোদ্যমে চলছে। ডিসেম্বর মাসে তফসিল ঘোষণা হবে, সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই এসব কাজ চলছে। দুয়েকটি বিষয় ছাড়া সবকিছুই কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী হচ্ছে। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের বিষয়ে তিনি বলেন, চলতি মাসের মাঝামাঝি সংলাপ শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ সংলাপই নির্বাচনী প্রস্তুতির শেষ পর্ব। বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আরপিও ফের সংশোধন হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে যেসব কাজ বাকি, নভেম্বরের মধ্যে তা শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। দুয়েকদিনের মধ্যে ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা’ সংশোধনীর গেজেট প্রকাশ হতে যাচ্ছে। বড় ধরনের সংশোধনীসহ খসড়া বিধিমালার এসআরও জারির জন্য গত বৃহস্পতিবার আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে ইসি।
এছাড়া ‘নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা’র সংশোধনীর খসড়া চলতি সপ্তাহে চূড়ান্ত করতে যাচ্ছেন ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আচরণ বিধিমালা এবং পরিচালনা বিধিমালা সংশোধন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা ম্যানুয়েল’ চূড়ান্ত করবে ইসি। এরই মধ্যে এ-সংক্রান্ত খসড়া তৈরি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সব ধরনের আয়োজন চলছে। গণভোট বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা না পাওয়ায় আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। তবে অনানুষ্ঠানিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।
এ সংলাপই নির্বাচনী প্রস্তুতির শেষ পর্ব। বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আরপিও ফের সংশোধন হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে যেসব কাজ বাকি, নভেম্বরের মধ্যে তা শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। দুয়েকদিনের মধ্যে ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা’ সংশোধনীর গেজেট প্রকাশ হতে যাচ্ছে। বড় ধরনের সংশোধনীসহ খসড়া বিধিমালার এসআরও জারির জন্য গত বৃহস্পতিবার আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে ইসি।
এছাড়া ‘নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা’র সংশোধনীর খসড়া চলতি সপ্তাহে চূড়ান্ত করতে যাচ্ছেন ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আচরণ বিধিমালা এবং পরিচালনা বিধিমালা সংশোধন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা ম্যানুয়েল’ চূড়ান্ত করবে ইসি। এরই মধ্যে এ-সংক্রান্ত খসড়া তৈরি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সব ধরনের আয়োজন চলছে। গণভোট বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা না পাওয়ায় আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। তবে অনানুষ্ঠানিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির মাঠপর্যায়ের ৫ কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে আগামী ১৮ নভেম্বর ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ নামে অ্যাপ চালু করতে যাচ্ছে ইসি। এর মাধ্যমে প্রবাসী এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন। এজন্য ১৫ নভেম্বরের মধ্যে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নাম ও প্রয়োজনীয় তথ্য ‘নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সিস্টেমে (ইএমএস)’ এন্ট্রি করা হচ্ছে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে এ অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। কর্মকর্তারা বলেন, ভোটার এলাকা স্থানান্তরের শেষ তারিখ ১০ নভেম্বর। এদিন পর্যন্ত যেসব আবেদন জমা হবে, সেগুলো নিষ্পত্তি করা হবে। এছাড়া ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম নিয়ে দাবি ও আপত্তি নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। সংসদ নির্বাচনের আগে আগামী ৩০ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। তারা বলেন, এরই মধ্যে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণের কাজ শেষ।
গুচ্ছ পদ্ধতিতে সংলাপ : কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, আইন সংশোধন ও নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধন কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারেনি ইসি। গত ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ কাজগুলো শেষ করার কথা ছিল। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ দুটি কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে না পারায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপও পিছিয়ে গেছে। ১৩ নভেম্বর প্রথম দিনের সংলাপ করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে দুই দফায় পাঁচটি করে রাজনৈতিক দলের নেতাদের সংলাপে আমন্ত্রণ জানানোর কথা। সংলাপে জাতীয় পার্টিসহ নিবন্ধিত দলগুলো ডাকার পরিকল্পনা আছে।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত থাকায় দলটিকে সংলাপে ডাকা হবে না। যদিও জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোকে ফ্যাসিস্টের সহযোগী হিসেবে আখ্যায়িত করে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে কয়েকটি রাজনৈতিক দল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, তফসিল ঘোষণার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শেষ করতে হবে। তাই আমরা প্রতিবার কয়েকটি দল নিয়ে বৈঠকের পরিকল্পনা করছি। জাতীয় পার্টিকে সংলাপে ডাকা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত থাকায় দলটিকে সংলাপে ডাকা হবে না। যদিও জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোকে ফ্যাসিস্টের সহযোগী হিসেবে আখ্যায়িত করে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে কয়েকটি রাজনৈতিক দল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, তফসিল ঘোষণার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শেষ করতে হবে। তাই আমরা প্রতিবার কয়েকটি দল নিয়ে বৈঠকের পরিকল্পনা করছি। জাতীয় পার্টিকে সংলাপে ডাকা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।
আচরণবিধির গেজেট দুয়েকদিনে : ইসি সূত্র জানায়, দুয়েকদিনের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালার গেজেট প্রকাশ হতে যাচ্ছে। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, বিগত নির্বাচনের তুলনায় এবার বেশকিছু বড় পরিবর্তন আসছে। এর মধ্যে আছে, নির্বাচনি প্রচারে পোস্টার এবং ড্রোন ব্যবহার নিষিদ্ধ। তবে বিলবোর্ডে প্রচার করা যাবে। একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবে। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাদের সরকারি অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করায় তারা নির্বাচনী কোনো প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না। রাজনৈতিক দলগুলো বিদেশে নির্বাচনী সভা-সমাবেশ বা কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারবে না। নির্বাচনী প্রচারও চালাতে পারবে না।
এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণাকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। প্রার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বা সদস্য হয়ে থাকলে, প্রচার শুরুর আগে পদত্যাগ করতে হবে। আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনে সাজা বাড়ানো হয়েছে। কারাদণ্ডের বিধান আগের মতো ৬ মাস থাকলেও অর্থদণ্ড ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে দেড় লাখ টাকা করা হয়েছে। বিধিমালা লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। জানতে চাইলে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আশা করছি সংলাপ শুরুর আগে আচরণ বিধিমালার এসআরও জারি হবে।
এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণাকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। প্রার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বা সদস্য হয়ে থাকলে, প্রচার শুরুর আগে পদত্যাগ করতে হবে। আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনে সাজা বাড়ানো হয়েছে। কারাদণ্ডের বিধান আগের মতো ৬ মাস থাকলেও অর্থদণ্ড ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে দেড় লাখ টাকা করা হয়েছে। বিধিমালা লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। জানতে চাইলে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আশা করছি সংলাপ শুরুর আগে আচরণ বিধিমালার এসআরও জারি হবে।