শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
জাতীয় “নিষিদ্ধ সংগঠন–সাবেক সেনা যোগাযোগ ঘিরে তদন্তে পুলিশ”

“নিষিদ্ধ সংগঠন–সাবেক সেনা যোগাযোগ ঘিরে তদন্তে পুলিশ”

বাংলাদেশে সক্রিয় একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে দুই প্রাক্তন সেনাসদস্যের সম্ভাব্য যোগাযোগের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। একই সঙ্গে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনাগুলোকে ঘিরে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কায় সারাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্যানুযায়ী, ইস্তিয়াক আহমেদ (ছদ্মনাম: সামি, আবু বকর ও আবু মোহাম্মদ) নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া দুই সদস্যের যোগাযোগ থাকার বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। এই যোগাযোগকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে কিছু ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে এসেছে।
গত ২৩ এপ্রিল জারি করা একটি গোপন নথিতে স্পেশাল ব্রাঞ্চের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়, দেশে সক্রিয় কিছু চক্র দেশীয় ধারালো অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র বা বিস্ফোরক ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করতে পারে এমন আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে জাতীয় সংসদ ভবন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্থাপনা, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদন কেন্দ্র এবং রাজধানীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এসব তথ্যের পূর্ণ সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
এদিকে, পৃথকভাবে বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা শাখা এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার তদন্তে একটি আন্তর্জাতিক নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে কিছু সদস্যের যোগাযোগের সন্দেহে কয়েকটি বিমানঘাঁটিতে অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানা যায়। এ ঘটনায় কিছু সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ ও আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে, যদিও এ বিষয়ে সরকারি পর্যায় থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এছাড়া তদন্তে কয়েকজন সদস্যের বিদেশে অবস্থান বা যোগাযোগের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পর্যালোচনা জোরদার করেছে। একই ধরনের কোনো যোগাযোগ সেনাবাহিনী বা নৌবাহিনীর সদস্যদের মধ্যেও রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেশের সব থানাকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানানো হয়েছে।
তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।

খুঁজুন