সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
দেশের খবর নওগাঁয় ৮ বছর বয়সী শিশু শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু

নওগাঁয় ৮ বছর বয়সী শিশু শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টার :

নওগাঁর মহাদেবপুরে স্বাধীন বাবু (৮) নামের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশু শিক্ষার্থীর বিষ পানে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তার পিতা সহ স্বজনের দাবি 

নিহত শিশু শিক্ষার্থী স্বাধীন বাবু খেলা-ধুলার মাঝে বাড়িতে (ঘড়ে) থাকা বিষ কোন এক সময় খেয়েছেন, তবে কেউ খেতে দেখেননি বমি করার পর বিষের গন্ধ পেয়ে পরিবারের লোকজন বিষ খাওয়ার বিষয় জানতে পারেন এবং তাকে চিকিৎসার জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরই সেখানে তার মৃত্যু হলে মৃতদেহ বাড়িতে আনা হয় বলেই জানিয়েছেন স্বজনরা। 

ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌছে প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট অন্তে মৃতদেহ উদ্ধার পূর্বক ময়না তদন্ত শেষে শুক্রবার বেলা ২ টারদিকে স্বজনদের কাছে মৃতদেহ হস্তান্তর করেন পুলিশ। 

মর্মান্তিক এ শিশু মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার পাতনা (মৎস্যজীবি পাড়া) গ্রামে। নিহত শিশু স্বাধীন বাবু ঐ গ্রামের লোকমান হোসেন এর ছেলে এবং পার্শ্ববর্তী নওগাঁ সদর উপজেলার লারচি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থী।

শিশু স্বাধীন বাবু নিজেই বিষ পান করেছে, নাকি কেউ তাকে কৌশলে বিষ পান করিয়েছে এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনমনে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত শিশু শিক্ষার্থী স্বাধীন বাবু'র মা শারমিন আক্তার ৮/৯ মাস আগে বাড়িতে স্বামী ও সন্তান স্বাধীনকে রেখে চলে যায়। এরপর থেকে স্বাধীন তার বাবার সাথেই থাকেন। ঘটনার দিন সকালে নিহতের বাবা লোকমান হোসেন বাড়ি থেকে বেড়িয়ে মাঠে যায়। সে তিন টারদিকে বাড়িতে আসে তারপর সে আবারও বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায়। এরপর শিশুটি ছটফট ও বমি করতে থাকলে বিষ পানের বিষয়টি জানতে পেরে তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় পরিবারের লোকজন। হাসপাতালে পৌছার কিছু পরই তার মৃত্যু হয়।

নিহত শিশুর বাবা লোকমান হোসেন বলেন, আমি সকালে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে মাঠে যাই। বিকেল ৩ টারদিকে বাড়িতে এসে টিউবওয়েলে মুখচোখ ধুয়ে হাট চকগৌড়ীতে যাওয়ার ১০/১৫ মিনিট পরই মোবাইলে ঘটনার খবর পাই। 

স্থানিয়রা জানান, নিহত শিশুর বাবা লোকমান হোসেন এর মোট  ৩ টি বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রীর এক সন্তান রয়েছে, লোকমান কে ছেরেদিয়ে সন্তান নিয়ে পিতার চলে যায় প্রথম স্ত্রী। পরে লোকমান দ্বিতীয় বিয়ে করেন কিন্তু সেই স্ত্রীও তাকে ছেড়ে চলে যায়। সর্বশেষ লোকমান ভান্ডারপুর গ্রামের শারমিন আক্তারকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন এবং বিয়ের ২/৩ বছর পরই তাদের সন্তান স্বাধীন এর জন্ম হয়। সংসারে ঝামেলা লেগেই থাকত। তারপর ১১ বা ১২ বছরের মতো সংসার করার পর হঠাৎ করেই স্বামী লোকমান ও সন্তান স্বাধীন বাবুকে ছেড়ে অজানার উদ্দেশ্যে চলে যান শারমিন আক্তার। যাওয়ার পর থেকে আর ফিরে আসেন নি, বা স্বামীকে তালাকও দেন নি। মা শারমিন আক্তার যাওয়ার পর থেকে শিশু স্বাধীন বাবু তার বাবা লোকমান এর কাছেই থাকেন বলেও জানান স্থানিয়রা। হঠাৎ করেই শিশু স্বাধীন বাবু'র এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। 

এবিষয়ে মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোজাফফর হোসেন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে প্রাথমিক সুরত হাল রিপোর্ট অন্তে মৃতদেহ উদ্ধার পূর্বক শুক্রবার নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে ময়না তদন্ত শেষে মৃতদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এব্যাপারে থানায় ইউডি মামলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

খুঁজুন