রোকসানা মনোয়ার:সারা দেশে আবারও বুধ, বৃহস্পতিবার
পঞ্চম দফার অবরোধ ডেকেছে বিএনপি-জামায়াত। অবরোধকারীদের রাজপথে সেভাবে দেখা না
গেলেও অবরোধের নামে গত কয়েক দিনে যাত্রীবাহী বাসসহ অসংখ্য যানবাহনে অগ্নিসংযোগ
করেছে তারা। এতে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি তো হচ্ছেই, এই হরতাল-অবরোধ নিয়ে জনমনে তৈরি
হয়েছে ত্রাস-আতঙ্ক। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনীতির মাঠে দাবি আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে
অবরোধ একটি শক্তিশালী কর্মসূচি হলেও এখন সেটি রূপ নিয়ে অগ্নিসন্ত্রাসে। রাজনৈতিক
মাঠের পাশাপাশি এই অগ্নিসন্ত্রাসরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক
খাতকেও অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে।
দেশে মাস দুয়েকের
মধ্যেই হতে যাচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আজকালের মধ্যে ঘোষণা হবে
নির্বাচনের তফসিল। এ অবস্থায় দেশের রাজনীতিকে সংঘাতের পথে হাঁটাতে চাইছে অবরোধ
ডাকা রাজনৈতিক দল দুটো।
রাজধানীতে গত ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশ আহ্বান করেও তা সফল করতে পারেনি রাজনীতির মাঠে
প্রধানবিরোধী দল বিএনপি। তার জেরে পরদিন ২৯ অক্টোবর সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল
ডাকে দলটি। হরতালে জনগণের সাড়া না পেলেও দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে দফায়
দফায় অবরোধ ডাকছে দলটি, সঙ্গে চালাচ্ছে আগুন সন্ত্রাস।
প্রথম দফায় ৩১ অক্টোবর
থেকে টানা তিন দিন বিএনপি-জামায়াতের অবরোধ চলে। তারপর শুক্র ও শনিবার বিরতি দিয়ে ৫
ও ৬ নভেম্বর দ্বিতীয় দফা অবরোধ ডাকে তারা। একদিনের বিরতি দিয়ে ৮ ও ৯ নভেম্বর
দুদিনের জন্য তৃতীয় দফায় অবরোধ ডাকা হয়। এরপর শুক্র ও শনিবার বিরতি দিয়ে চতুর্থ দফায়
১২ ও ১৩ নভেম্বর অবরোধ ডাকা হয়। পঞ্চম দফায় আগামীকাল বুধবার ও পরদিন অবরোধ ডাকা
হয়েছে।
সবচেয়ে ভয়ানক বিষয়
হচ্ছে, অবরোধ মানেই এখন অগ্নিসন্ত্রাস, যানবাহনে আগুন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্রে জানা গেছে, ৩১ অক্টোবর অবরোধ শুরুর আগের দিন
সন্ধ্যা থেকেই শুরু হয়েছে আগুন সন্ত্রাস। বিএনপি-জামায়াতের মহাসমাবেশের দিন (২৮
অক্টোবর) থেকে শুরু করে সোমবার (১৩ নভেম্বর) বিকাল পর্যন্ত ১৫৩টি অগ্নিসন্ত্রাসের
ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ১০৫টি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৭৩টিই যাত্রীবাহী
বাস।
সর্বশেষ গতকাল সোমবার
সন্ধ্যায় রাজধানীর শনিরআখড়া চৌরাস্তা সেতুর ওপর মৌমিতা পরিবহনের একটি বাসে আগুন
দেয় নাশকতাকারীরা। সোমবার ভোর ৪টায় ফরিদপুর বাসস্ট্যান্ডের উত্তর দিকে নতুন বাস
টার্মিনালের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা সাউদিয়া পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
এতে পুড়ে যায় বাসের আসনগুলো। এ সময় বাসের মধ্যে ঘুমিয়ে থাকা চালকের সহকারী লাফিয়ে
নেমে প্রাণ বাঁচান।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল
ডিফেন্স সূত্র জানিয়েছে, ১২ থেকে ১৩ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট (অবরোধের দুদিন)
পর্যন্ত অবরোধের নামে মোট ১৪টি আগুন সন্ত্রাসের খবর পেয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এর
মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে ৮টি, ঢাকা বিভাগে (নারায়ণগঞ্জ, সাভার, ফরিদপুর) ৩টি, বরিশাল
সদরে ১টি, রাজশাহী বিভাগের নাটোরে ১টি, রংপুর বিভাগের দিনাজপুর একটি অগ্নিসংযোগের
ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১১টি বাস, ১টি ট্রাক, ২টি নছিমন পুড়ে গেছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বিডিটুডেসকে বলেন, ২৮ অক্টোবর
থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত হরতাল-অবরোধে পরিবহন খাতে ক্ষতি হয়েছে ২১ কোটি ৪০ লাখ
টাকা। অবরোধে প্রতিদিনই পরিবহন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, বাসে আগুন
দেওয়ায় চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মালিকরা। সরকারের কাছে আমরা ক্ষতিপূরণের দাবি
জানিয়েছি। যারা রাজনীতির নামে যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে, তাদের দ্রুত শাস্তি চাই
আমরা।
তথ্যানুসন্ধানে দেখা
গেছে, ২০১৩ সালের ২৬ নভেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারির মধ্যে বিএনপি
নেতৃত্বাধীন জোট ছয় দফা অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। ২০১৩ সালের ২৬ নভেম্বর থেকে ২৪
ডিসেম্বর একমাসের মধ্যে ২৪ দিন বিএনপির অবরোধ ছিল। সঙ্গে ছিল জামায়াত ইসলামী। ওই
সময় হরতালও পালন করা হয়। এসব কর্মসূচি চলাকালে কমপক্ষে ১২৭ জনের প্রাণহানি ঘটে।
নিহতদের বেশির ভাগই ছিল পরিবহন শ্রমিক।
ওই বছর ২৬ নভেম্বর
শুরু হওয়া প্রথম দফা অবরোধের তৃতীয় দিন রাজধানীর শাহবাগে যাত্রীবাহী বাসে
পেট্রলবোমা ছোড়ার পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে তা ছড়িয়ে পড়ে। ১২ বছরের শিশুকেও
প্রাণ দিতে হয়েছে গুলিবিদ্ধ হয়ে। এভাবে ২০১৪ ও ২০১৫ সালেও অবরোধের নামে সহিংসতা
চালায় বিএনপি-জামায়াত।
২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি
রাতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণার ১৫ দিনের মধ্যেই
সহিংসতা ও নাশকতায় প্রাণহানি ঘটে ২৮ ব্যক্তির। তাদের মধ্যে ১১ জন পরিবহন শ্রমিক,
ছয়জন রাজনৈতিক কর্মী ও বাকিরা যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ ছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও
অবরোধের নামে আগুন-সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে।
এদিকে অবরোধ ডাকা রাজনৈতিক দলগুলোর মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা নেই। তারপরও অবরোধ
ডাকা হচ্ছে। এতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। যানবাহনে চড়তে গিয়ে
যাত্রীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। দেশের বিভিন্ন জেলায় গণপরিবহনে সংকট তৈরি হয়েছে।
পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে অবরোধে। অবরোধের প্রভাবে বাজারে নিত্যপণ্যের দামও বাড়ছে।
কক্সবাজার ও
সুন্দরবনের মতো পর্যটনকেন্দ্রেও ধস নেমেছে ব্যবসায়। পর্যটকদের অনেকে কর্মসূচি
বাতিল করছেন। ভরা মৌসুমে বিদেশ থেকেও পর্যটকরা আসার সাহস পাচ্ছে না। বিভিন্ন
সামাজিক অনুষ্ঠানও বাতিল হচ্ছে আতঙ্কের কারণে। এমন পরিস্থিতিতে সচেতন নাগরিকরা
প্রশ্ন করছেন, এভাবে আগুন সন্ত্রাসের নামই কি রাজনীতি?
এফবিসিসিআই সভাপতি
মাহবুবুল আলম গণমাধ্যমকে এরই মধ্যে অবরোধ কর্মসূচির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে
বলেছেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা জরুরি। আমরা অবরোধ চাই
না। অবরোধ অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। হরতাল বা অবরোধে দিনে সাড়ে ছয় হাজার
কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান
সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম
রায়হান বলেন, এখনকার রাজনৈতিক কর্মসূচি সংকটময় অর্থনীতিকে বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে
যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নেই। সামষ্টিক অর্থনীতির কোনো সূচকই ইতিবাচক
অবস্থায় নেই। তাই সচল অর্থনীতির জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দরকার।
অবরোধ মানেই অগ্নিসন্ত্রাস, যানবাহনে আগুন
অবরোধ মানেই অগ্নিসন্ত্রাস, যানবাহনে আগুন
রোকসানা মনোয়ার:সারা দেশে আবারও বুধ, বৃহস্পতিবার পঞ্চম দফার অবরোধ ডেকেছে বিএনপি-জামায়াত। অবরোধকারীদের রাজপথে সেভাবে দেখা না গেলেও অবরোধের নামে গত কয়েক দিনে যাত্রীবাহী বাসসহ অসংখ্য যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করেছে তারা। এতে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি তো হচ্ছেই, এই হরতাল-অবরোধ নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে ত্রাস-আতঙ্ক। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনীতির মাঠে দাবি আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে অবরোধ একটি শক্তিশালী কর্মসূচি হলেও এখন সেটি রূপ নিয়ে অগ্নিসন্ত্রাসে। রাজনৈতিক মাঠের পাশাপাশি এই অগ্নিসন্ত্রাসরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাতকেও অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে।দেশে মাস দুয়েকের মধ্যেই হতে যাচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আজকালের মধ্যে ঘোষণা হবে নির্বাচনের তফসিল। এ অবস্থায় দেশের রাজনীতিকে সংঘাতের পথে হাঁটাতে চাইছে অবরোধ ডাকা রাজনৈতিক দল দুটো। রাজধানীতে গত ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশ আহ্বান করেও তা সফল করতে পারেনি রাজনীতির মাঠে প্রধানবিরোধী দল বিএনপি। তার জেরে পরদিন ২৯ অক্টোবর সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকে দলটি। হরতালে জনগণের সাড়া না পেলেও দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে দফায় দফায় অবরোধ ডাকছে দলটি, সঙ্গে চালাচ্ছে আগুন সন্ত্রাস।প্রথম দফায় ৩১ অক্টোবর থেকে টানা তিন দিন বিএনপি-জামায়াতের অবরোধ চলে। তারপর শুক্র ও শনিবার বিরতি দিয়ে ৫ ও ৬ নভেম্বর দ্বিতীয় দফা অবরোধ ডাকে তারা। একদিনের বিরতি দিয়ে ৮ ও ৯ নভেম্বর দুদিনের জন্য তৃতীয় দফায় অবরোধ ডাকা হয়। এরপর শুক্র ও শনিবার বিরতি দিয়ে চতুর্থ দফায় ১২ ও ১৩ নভেম্বর অবরোধ ডাকা হয়। পঞ্চম দফায় আগামীকাল বুধবার ও পরদিন অবরোধ ডাকা হয়েছে।সবচেয়ে ভয়ানক বিষয় হচ্ছে, অবরোধ মানেই এখন অগ্নিসন্ত্রাস, যানবাহনে আগুন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্রে জানা গেছে, ৩১ অক্টোবর অবরোধ শুরুর আগের দিন সন্ধ্যা থেকেই শুরু হয়েছে আগুন সন্ত্রাস। বিএনপি-জামায়াতের মহাসমাবেশের দিন (২৮ অক্টোবর) থেকে শুরু করে সোমবার (১৩ নভেম্বর) বিকাল পর্যন্ত ১৫৩টি
অগ্নিসন্ত্রাসের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ১০৫টি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৭৩টিই যাত্রীবাহী বাস।সর্বশেষ গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শনিরআখড়া চৌরাস্তা সেতুর ওপর মৌমিতা পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয় নাশকতাকারীরা। সোমবার ভোর ৪টায় ফরিদপুর বাসস্ট্যান্ডের উত্তর দিকে নতুন বাস টার্মিনালের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা সাউদিয়া পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে পুড়ে যায় বাসের আসনগুলো। এ সময় বাসের মধ্যে ঘুমিয়ে থাকা চালকের সহকারী লাফিয়ে নেমে প্রাণ বাঁচান।ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্র জানিয়েছে, ১২ থেকে ১৩ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট (অবরোধের দুদিন) পর্যন্ত অবরোধের নামে মোট ১৪টি আগুন সন্ত্রাসের খবর পেয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে ৮টি, ঢাকা বিভাগে (নারায়ণগঞ্জ, সাভার, ফরিদপুর) ৩টি, বরিশাল সদরে ১টি, রাজশাহী বিভাগের নাটোরে ১টি, রংপুর বিভাগের দিনাজপুর একটি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১১টি বাস, ১টি ট্রাক, ২টি নছিমন পুড়ে গেছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বিডিটুডেসকে বলেন, ২৮ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত হরতাল-অবরোধে পরিবহন খাতে ক্ষতি হয়েছে ২১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। অবরোধে প্রতিদিনই পরিবহন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, বাসে আগুন দেওয়ায় চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মালিকরা। সরকারের কাছে আমরা ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছি। যারা রাজনীতির নামে যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে, তাদের দ্রুত শাস্তি চাই আমরা।তথ্যানুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০১৩ সালের ২৬ নভেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারির মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ছয় দফা অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। ২০১৩ সালের ২৬ নভেম্বর থেকে ২৪ ডিসেম্বর একমাসের মধ্যে ২৪ দিন বিএনপির অবরোধ ছিল। সঙ্গে ছিল জামায়াত ইসলামী। ওই সময় হরতালও পালন করা হয়। এসব কর্মসূচি চলাকালে কমপক্ষে ১২৭ জনের প্রাণহানি ঘটে। নিহতদের বেশির ভাগই ছিল পরিবহন শ্রমিক।ওই বছর ২৬ নভেম্বর শুরু হওয়া প্রথম দফা অবরোধের
তৃতীয় দিন রাজধানীর শাহবাগে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা ছোড়ার পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে তা ছড়িয়ে পড়ে। ১২ বছরের শিশুকেও প্রাণ দিতে হয়েছে গুলিবিদ্ধ হয়ে। এভাবে ২০১৪ ও ২০১৫ সালেও অবরোধের নামে সহিংসতা চালায় বিএনপি-জামায়াত।২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি রাতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণার ১৫ দিনের মধ্যেই সহিংসতা ও নাশকতায় প্রাণহানি ঘটে ২৮ ব্যক্তির। তাদের মধ্যে ১১ জন পরিবহন শ্রমিক, ছয়জন রাজনৈতিক কর্মী ও বাকিরা যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ ছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও অবরোধের নামে আগুন-সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে। এদিকে অবরোধ ডাকা রাজনৈতিক দলগুলোর মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা নেই। তারপরও অবরোধ ডাকা হচ্ছে। এতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। যানবাহনে চড়তে গিয়ে যাত্রীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। দেশের বিভিন্ন জেলায় গণপরিবহনে সংকট তৈরি হয়েছে। পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে অবরোধে। অবরোধের প্রভাবে বাজারে নিত্যপণ্যের দামও বাড়ছে।কক্সবাজার ও সুন্দরবনের মতো পর্যটনকেন্দ্রেও ধস নেমেছে ব্যবসায়। পর্যটকদের অনেকে কর্মসূচি বাতিল করছেন। ভরা মৌসুমে বিদেশ থেকেও পর্যটকরা আসার সাহস পাচ্ছে না। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানও বাতিল হচ্ছে আতঙ্কের কারণে। এমন পরিস্থিতিতে সচেতন নাগরিকরা প্রশ্ন করছেন, এভাবে আগুন সন্ত্রাসের নামই কি রাজনীতি?এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম গণমাধ্যমকে এরই মধ্যে অবরোধ কর্মসূচির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা জরুরি। আমরা অবরোধ চাই না। অবরোধ অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। হরতাল বা অবরোধে দিনে সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, এখনকার রাজনৈতিক কর্মসূচি সংকটময় অর্থনীতিকে বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নেই। সামষ্টিক অর্থনীতির কোনো সূচকই ইতিবাচক অবস্থায় নেই। তাই সচল অর্থনীতির জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দরকার।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত