স্টাফ রিপোর্টার :
দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দূর্ণীতিবাজ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বিশ^স্ত সহচর ও অবৈধ উৎকোচ বাণিজ্যের কালেক্টর মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) ঢাকা বিভাগ। সরকার পতনের পরও দাপটের সাথে বহাল তবিয়তে ছিলেন এবং সরকার পতন হলেও বিআরটিএ এর বদলী বাণিজ্যের সাথে ছিলো শহিদুল্লাহ ও তার সহযোগীদের আধিপত্য।
অফিস আদেশে জানানো হয়, গত ৪ মার্চ স্মারক নং ৩৫.০৩.০০০০.০০১.১৯.১৭৬.২৪-৪৪৭ অনুযায়ী মোহাম্মদ শহিদুল্লাহকে ঢাকা বিভাগীয় অফিস থেকে বিআরটিএ সদর কার্যালয়ে সংযুক্তিতে পদায়ন করা হয়।
তবে ৬ এপ্রিলের একটি নির্দেশনায় বদলির দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের কথা বলা হলেও তিনি দীর্ঘ সাড়ে তিন মাসেও তা করেননি।
গত ২৩ জুন এক অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিআরটিএ সদর দপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী। ফলে তাকে অবমুক্ত করে আগামী ২৬ জুন (বৃহস্পতিবার) দুপুরের পূর্বে সদর দপ্তরে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকা বিভাগীয় অফিসের উপপরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) স্বদেশ কুমার দাসকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ঢাকা বিভাগীয় পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আদেশটি ২৩ জুন থেকেই কার্যকর ধরা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিআরটিএর অভ্যন্তরে নানান আলোচনা শুরু হয়েছে। কর্মকর্তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করছেন, দীর্ঘ সময় অমান্য করায় প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষ কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।
শহিদুল্লাহ আধিপত্য বিস্তার করে সরকারের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে বহাল তবিয়তে বিভাগীয় কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করে বিভিন্ন অনৈতিক কাজগুলো করেছেন। এর মধ্যে বদলী সংক্রান্ত বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য। গত ৩ জুন ২০২৫ তারিখে মোঃ তৌহিদুল হোসেন উপ-পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) ময়মনসিংহ কে বড় অংকের লেনদেনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে বদলী করার তদবীরকারক ছিলেন শহিদুল্লাহ। অথচ এই তৌহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে সিএনজি রিপ্লেসমেন্টের ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ তৌহিদ হোসেনকে গত ১৪ অক্টোবর ২০২৪ ময়মনসিংহে বদলী করেন। ৭ মাস না পেরুতেই তাকে আবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় অফিসে বদলী করা অর্থাৎ শহীদুল্লাহর ঘুষ বাণিজ্যের জায়গাগুলো পাকাপোক্ত করা। চট্টগ্রামে একেকটি সিএনজি অটোরিকশা প্রতিস্থাপনে স্ক্র্যাব ও রেজিষ্ট্রেশন বাবদ প্রতি গাড়ীতে ২ লক্ষ টাকা হতে ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত উৎকোচ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে শহিদুল্লাহ যখন চট্টগ্রামের বিভাগীয় উপ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে তার আমলে ১১৮০০ সিএনজি চালিত সিএনজি অটোরিকশা প্রতিস্থাপন হয়েছে। তৌহিদ হোসেন ময়মনসিংহ বদলী হলেও চট্টগ্রাম বিআরটিএ নিয়ন্ত্রন করতেন তার সেকেন্ড ইন কমান্ড বাবু দাস ও রিয়াজ কে দিয়ে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদ্বয় বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে ওবায়দুল কাদেরের ফান্ড কালেকশনকারী শহিদুল্লাহ, উপ-পরিচালক (ইঞ্জি), চট্টগ্রাম বিভাগীয় দপ্তর মোঃ তৌহিদুল হোসেন, উপ-পরিচালক (ইঞ্জিঃ) বরিশাল বিভাগীয় দপ্তর প্রকৌশলী মোঃ রফিকুল ইসলাম, উপ-পরিচালক (অর্থ) সদর কার্যালয়ে কর্মরত সরদার মাহাবুব গংদের ও তাদের পরিবার পরিজনের জ্ঞাত আয়ের বহির্ভূত সম্পত্তির হিসাব নিলেই প্রকৃত থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন। তার এই সকল দর্ণীতিবাজ কর্মকর্তাদের চাকুরী থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা অত্যাবশক বলে মনে করেন।
অবশেষে বিদায় হতে যাচ্ছেন বিআরটি’র ঘুষের হাটের মহাজন শহিদুল্লাহ
অবশেষে বিদায় হতে যাচ্ছেন বিআরটি’র ঘুষের হাটের মহাজন শহিদুল্লাহ
স্টাফ রিপোর্টার :দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দূর্ণীতিবাজ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বিশ^স্ত সহচর ও অবৈধ উৎকোচ বাণিজ্যের কালেক্টর মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) ঢাকা বিভাগ। সরকার পতনের পরও দাপটের সাথে বহাল তবিয়তে ছিলেন এবং সরকার পতন হলেও বিআরটিএ এর বদলী বাণিজ্যের সাথে ছিলো শহিদুল্লাহ ও তার সহযোগীদের আধিপত্য। অফিস আদেশে জানানো হয়, গত ৪ মার্চ স্মারক নং ৩৫.০৩.০০০০.০০১.১৯.১৭৬.২৪-৪৪৭ অনুযায়ী মোহাম্মদ শহিদুল্লাহকে ঢাকা বিভাগীয় অফিস থেকে বিআরটিএ সদর কার্যালয়ে সংযুক্তিতে পদায়ন করা হয়। তবে ৬ এপ্রিলের একটি নির্দেশনায় বদলির দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের কথা বলা হলেও তিনি দীর্ঘ সাড়ে তিন মাসেও তা করেননি। গত ২৩ জুন এক অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিআরটিএ সদর দপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী। ফলে তাকে অবমুক্ত করে আগামী ২৬ জুন (বৃহস্পতিবার) দুপুরের পূর্বে সদর দপ্তরে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকা বিভাগীয়
অফিসের উপপরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) স্বদেশ কুমার দাসকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ঢাকা বিভাগীয় পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আদেশটি ২৩ জুন থেকেই কার্যকর ধরা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিআরটিএর অভ্যন্তরে নানান আলোচনা শুরু হয়েছে। কর্মকর্তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করছেন, দীর্ঘ সময় অমান্য করায় প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষ কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।শহিদুল্লাহ আধিপত্য বিস্তার করে সরকারের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে বহাল তবিয়তে বিভাগীয় কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করে বিভিন্ন অনৈতিক কাজগুলো করেছেন। এর মধ্যে বদলী সংক্রান্ত বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য। গত ৩ জুন ২০২৫ তারিখে মোঃ তৌহিদুল হোসেন উপ-পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) ময়মনসিংহ কে বড় অংকের লেনদেনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে বদলী করার তদবীরকারক ছিলেন শহিদুল্লাহ। অথচ এই তৌহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে সিএনজি রিপ্লেসমেন্টের ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ তৌহিদ হোসেনকে গত ১৪ অক্টোবর ২০২৪ ময়মনসিংহে বদলী করেন। ৭ মাস না পেরুতেই তাকে আবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় অফিসে বদলী করা অর্থাৎ শহীদুল্লাহর ঘুষ বাণিজ্যের জায়গাগুলো
পাকাপোক্ত করা। চট্টগ্রামে একেকটি সিএনজি অটোরিকশা প্রতিস্থাপনে স্ক্র্যাব ও রেজিষ্ট্রেশন বাবদ প্রতি গাড়ীতে ২ লক্ষ টাকা হতে ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত উৎকোচ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে শহিদুল্লাহ যখন চট্টগ্রামের বিভাগীয় উপ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে তার আমলে ১১৮০০ সিএনজি চালিত সিএনজি অটোরিকশা প্রতিস্থাপন হয়েছে। তৌহিদ হোসেন ময়মনসিংহ বদলী হলেও চট্টগ্রাম বিআরটিএ নিয়ন্ত্রন করতেন তার সেকেন্ড ইন কমান্ড বাবু দাস ও রিয়াজ কে দিয়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদ্বয় বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে ওবায়দুল কাদেরের ফান্ড কালেকশনকারী শহিদুল্লাহ, উপ-পরিচালক (ইঞ্জি), চট্টগ্রাম বিভাগীয় দপ্তর মোঃ তৌহিদুল হোসেন, উপ-পরিচালক (ইঞ্জিঃ) বরিশাল বিভাগীয় দপ্তর প্রকৌশলী মোঃ রফিকুল ইসলাম, উপ-পরিচালক (অর্থ) সদর কার্যালয়ে কর্মরত সরদার মাহাবুব গংদের ও তাদের পরিবার পরিজনের জ্ঞাত আয়ের বহির্ভূত সম্পত্তির হিসাব নিলেই প্রকৃত থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন। তার এই সকল দর্ণীতিবাজ কর্মকর্তাদের চাকুরী থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা অত্যাবশক বলে মনে করেন।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত