শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
জাতীয় অনুমোদনহীন হাসপাতাল ক্লিনিকের ছড়াছড়ি

অনুমোদনহীন হাসপাতাল ক্লিনিকের ছড়াছড়ি

অনুমতি ছাড়াই চলছে হাজার হাজার হাসপাতাল ও ক্লিনিক। স্বাস্থ্য বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা এবং পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় এসব অবৈধ ক্লিনিক চলছে দীর্ঘদিন ধরে। মাঝে সাময়িক বন্ধ করে দিলেও কয়েক দিন পর সমঝোতার ভিত্তিতে আবার চালু হয়। তবে উদ্বেগ শুধু অনুমোদনহীন ক্লিনিক বা হাসপাতাল নিয়েই নয়। বৈধ ক্লিনিকেরও একটি অংশ লাইসেন্সের শর্ত পূরণ করছে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে বৈধ বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ৫ হাজার ৫৫। আর ডায়াগনস্টিক সেন্টার আছে ছয় হাজারের মতো। লাইসেন্সপ্রাপ্ত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার আছে ১২ হাজার; অবৈধ এরও বেশি। সাভারে বৈধ ক্লিনিকের চেয়ে অবৈধ প্রায় তিন গুণ বেশি। ময়মনসিংহেও একই অবস্থা। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের চিত্র সবখানেই প্রায় একই রকম। এজন্য প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে দুদিনে সারা দেশে প্রায় ৯০০ অবৈধ বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে বন্ধ করে দেওয়া অবৈধ ডায়াগনস্টিক ও ক্লিনিকগুলো অনুমোদনের ন্যূনতম শর্ত মানলে সেগুলোকে নিবন্ধন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচপালক আহমেদুল কবীর।

গতকাল সোমবার নিজ কার্যালয়ে আহমেদুল কবীর বলেন, অনুমোদিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতেও অভিযান চালানো হবে। আগামীতে মান যাচাইয়ে অনুমোদিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতেও অভিযান পরিচালনা করা হবে; সে প্রস্তুতি চলছে।

অভিযানে বন্ধ হয়ে যাওয়া অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিষয়ে আহমেদুল কবীর বলেন, অনুমোদনের ন্যূনতম শর্ত পূরণ করতে পারলে তাদের নিবন্ধন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

সাভার বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল হালিম বলেন, ওই ৪০টি ক্লিনিকই আমাদের সদস্য। বাকি যে আরো শতাধিক ক্লিনিক আছে তাদের আমরা সদস্যপদ দেইনি। কারণ তাদের লাইসেন্স নেই। কিন্তু তারা বছরের পর বছর ধরে ক্লিনিক চালাচ্ছে। এমনকি এক রুমের ঘর ভাড়া নিয়েও কেউ কেউ ক্লিনিক খুলে বসেছেন। হাতুড়ে ডাক্তার আর নার্স দিয়ে চালাচ্ছেন। এরা কেউ ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ক্লিনিক চালান। আবার কেউ লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেই ক্লিনিক চালু করে দেন। আমরা সমিতির পক্ষ থেকে অনেক দিন ধরেই ওইসব অবৈধ ক্লিনিক ও হাসপাতাল বন্ধের দাবি করে আসছি। আমরা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান করেও বন্ধ করতে পারিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. মো. বেলাল হোসেন বলেন, আমরা অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিক নিজেদের উদ্যোগেই বন্ধ করার জন্য ৭২ ঘণ্টার সময় বেধে দিয়েছিলাম। সেটা শেষ হওয়ার পর দুদিন ধরে সারা দেশে অভিযান শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত আমরা ৮৮২টি বন্ধ করে দিয়েছি। আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতির সভাপতি ডা. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আমাদের সদস্য সংখ্যা ১১ হাজার। তারা সবাই লাইসেন্সপ্রাপ্ত। তবে অনেক অবৈধ প্রতিষ্ঠান আছে। তাদের বিরুদ্ধে আমরা এই অভিযানকে স্বাগত জানাই।

খুঁজুন