শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
দেশের খবর অর্ধেক শরীর মাটিতে পুঁতে মাকে মারার শাস্তি

অর্ধেক শরীর মাটিতে পুঁতে মাকে মারার শাস্তি

সড়কের পাশে মাটি খুঁড়ে পা থেকে কোমর পর্যন্ত পুঁতে রাখা হয়েছে এক যুবককে। তার পাশে ফেস্টুনে লেখা ‘মা মারার শাস্তি’। অপর ফেস্টুনে লেখা ‘বাপ-মার গায়ে হাত তোলায় তার এই শাস্তি দেওয়া হলো’। গতকাল শনিবার সকালে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই যুবকের নাম মো. খলিল। সে ওই গ্রামের মো. নুরুদ্দীনের ছেলে। মাটিতে পুঁতে বিচার করার ভিডিও সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত খলিলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মাকে মারধরের শাস্তি হিসেবে গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা শাস্তি হিসেবে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, খলিল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। মায়ের অনুমতি নিয়ে তাকে শাস্তি দেওয়া হয় বলেও দাবি তাদের।

প্রতিবেশীরা বলেন, সকালে মায়ের কাছে মাদক সেবনের জন্য টাকা চেয়েছিল খলিল। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে খলিল উত্তেজিত হয়ে পড়ে। সে প্রথমে ইট দিয়ে মাকে আঘাত করে। একপর্যায়ে লাঠি দিয়েও আঘাত করে।

প্রতিবেশীরা বলেন, খলিল দীর্ঘদিন ধরে মাদকে আসক্ত হয়ে নানা অপরাধ করে যাচ্ছে। অনেকবার তাকে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে শাস্তিও দেওয়া হয়েছে। মুচলেকা দিয়ে সে আবার মাদকের টাকার জন্য মা-বাবার ওপর অমানুষিক নির্যাতন করে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. তোতা মিয়া বলেন, আজকের ঘটনায় খলিলের মা নিজেই ছেলেকে শাস্তি দেওয়ার জন্য এলাকার লোকজন জড়ো করেন। তিনি নিজে উপস্থিত থেকে ছেলেকে ভয় দেখাতে মাটিতে পুঁতে রাখার পরামর্শ দেন। এরপর এলাকার লোকজন মিলে তাকে ভয় দেখাতে মাটি খুঁড়ে পুঁতে রাখেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক বাসিন্দা বলেন, মা নিজেও সেখানে উপস্থিত থেকে খলিলকে মাটিতে পুঁতে রাখার কাজে অংশ নিয়েছেন। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে খলিল মাটি সরিয়ে সেখান থেকে পালাতে চাইলে তাকে আবার ধরে আটকে রাখা হয়।

খলিলের মা খোদেজা খাতুন বলেন, মাদকাসক্ত হয়ে ছেলে দীর্ঘদিন ধরে তাকে মারধর করছে। গতকাল শনিবার সকালেও মারধর করে। তাই এলাকাবাসীকে তিনি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার কথা বলেছেন। ছেলেকে ভয় দেখাতে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

খলিলের বাবা মো. নুরুদ্দীন বলেন, ছেলে তাকেও কয়েকবার মারধর করেছে। তার কারণে সংসারে অশান্তি সৃষ্টি হয়।

শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শন মুহাম্মদ আবুল বাশার জানান, সেখান থেকে মাকে নির্যাতন করার অভিযুক্ত খলিলকে আটক করি। তাকে মাটিতে পুঁতে শাস্তির বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন।

খুঁজুন