রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
জাতীয় অস্তিত্ব সংকটে শীতলক্ষ্যা

অস্তিত্ব সংকটে শীতলক্ষ্যা

রবিবার বিশ্ব নদী দিবস। প্রতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের শেষ রবিবার সারা বিশ্বে দিবসটি পালিত হয়। বাংলাদেশেও নানা আয়োজন থাকে। বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত সব নদ-নদীকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। তুরাগ নদ রক্ষায় মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের করা এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ওই রায় দেয় হাইকোর্ট।

এর আগে ২০১৭ সালে কলম্বিয়ার সাংবিধানিক আদালত ‘রিয়ো এট্রাটো’ নামক একটি নদীকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করে। নদীটি সোনা আর কয়লার খনির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াতে সেখানকার আদিবাসী সম্প্রদায় ও অন্যদের জন্য ব্যাপক সমস্যা হচ্ছিল।

নিউজিল্যান্ডের একটি নদীকেও জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করা হয়, ওই নদীকে সেখানকার মানুষ খুবই পবিত্র মনে করে একে ঘিরে নানা উপাসনাও করত। ভারতের মধ্য প্রদেশের রাজ্য আদালত থেকে নর্মদা নদীকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা দেওয়া হয়।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ২০২১ সালের এক জরিপে জানা গেছে, সারা দেশে ৬৫ হাজার ১২৭ জন নদী দখলদার রয়েছে। তবে এরমধ্যে ১৯ হাজার ৮৭৪ জন অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসক জেলা নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি একই সঙ্গে তিনি জেলা পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক। জেলা প্রশাসক পরিবেশ অধিদপ্তর, মৎস্য অফিস, কৃষি অফিস, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিআরডিবি, পরিবেশবাদী, জনপ্রতিনিধি, সিভিল সোসাইটি, মিডিয়ার প্রতিনিধির সমন্বয়ে নদী রক্ষার কাজকে এগিয়ে নিতে হবে। তাছাড়া জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০০০, পানি আইন ২০১৩, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫, বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন ২০১৭, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ কঠোর প্রয়োগে সুফল আসতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।

 শীতলক্ষ্যার পানি হাতে বা শরীরে লাগলে চর্মরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি নদী ভরাট, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও স্থাপনা নির্মাণ করছেন।

তারা আরো জানান, উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া শীতলক্ষ্যা নদী পাড়ের কৃষিজমিগুলো ছিল ফসলে ভরা। নদীতে ছিল নানা প্রজাতির মাছ। এখন শীতলক্ষ্যায় বিপন্ন জীববৈচিত্র্য, আর বেকার জেলে পরিবার।

তারা আরো জানান, কারখানা গড়ার আগে স্থানীয় কিছু মানুষকে সেখানে চাকরির ব্যবস্থা করা হয়। আর চাকরির কারণে স্থানীয়রাও তেমন কিছু বলেন না। মাঝে মাঝে সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো নদী রক্ষায় আন্দোলন করে। আর নীতিনির্ধারকরা বরাবরই উদাসীন থাকেন।

ঘোড়াশাল পৌর এলাবার জামালপুর গুদারাঘাটের নৌকার মাঝি হাসমত আলী বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর যাবত এই ঘাটে নৌকা চলাই। নদীর পানি আগে এতটাই দূষিত যে নৌকা চালাতে ভয় হয়। ‘বাঁচাও শীতলক্ষ্যা’ আন্দোলনের সমন্বয়ক মাহবুব সৈয়দ বলেন, একটা সময় আসবে যখন দেশজুড়ে নগর-জনপদের বিপুল পানির চাহিদা পূরণ করতে হবে নদী থেকে। কারণ ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বিপজ্জনক মাত্রায় নিচে নেমে গেছে।

খুঁজুন