শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
প্রবাস অস্ট্রেলিয়ায় যোগ‍্যতার ভিত্তিতেই চাকুরী বা ব‍্যবসার সুযোগ

অস্ট্রেলিয়ায় যোগ‍্যতার ভিত্তিতেই চাকুরী বা ব‍্যবসার সুযোগ

শুধুমাত্র অস্ট্রেলিয়া নয় পৃথিবীর সব জায়গাতেই দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাগত যোগ‍্যতার ভিত্তিতেই চাকুরী বা ব‍্যবসার সুযোগ মেলে। অস্ট্রেলিয়াতেও অভিবাসীরা নিজ নিজ যোগ‍্যতায় বিভিন্ন সেক্টরে এমনকি কেউ কেউ উচুঁ পদেও সুনামের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে মাইগ্র‍্যান্টদের একটা বড় অংশ কিন্তু ব‍্যবসা বা স্বাধীন পেশাতেও জড়িত। সত‍্য বলতে কি বাংলাদেশী বিশাল মাইগ্র‍্যান্ট জনগোষ্ঠী এখন কমবেশি সব পেশাতেই আছেন। তবে কিছু স্পেসিফিক প্রফেশনের কথা বলছি, যেখানে বাংলাদেশীদের উপস্হিতি লক্ষ‍্যনীয় ও বলার মতো।

মেডিসিন: বাংলাদেশ থেকে পাশ করে আসা অনেক ডাক্তারই এখন অস্ট্রেলিয়ায়। এদের বড় একটা অংশই অস্ট্রেলিয়ান মেডিক্যাল কাউন্সিলের কোয়ালিফাইং এক্সাম পাশ দিয়ে, মেডিক্যাল বোর্ড রেজিস্ট‍্রেশন নিয়ে ডাক্তার হিসেবে কাজও করছেন। দেশ জুড়ে নানা হসপিটাল কিংবা জিপি সেন্টারে কাজ করা এই সকল ডাক্তারদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্হান এ দেশে খুব ভালো। সোসাইটিতে এরা নোটেবল কন্ট্রিবিউটরও।

প্রকৌশল তথ‍্যপ্রযুক্তি: বাংলাদেশ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং বা আইটি প্রফেশনালদের অনেকেই অস্ট্রেলিয়ায় এখন বেশ ভালো চাকুরী করছেন। এই সব ডিগ্রীগুলো অস্ট্রেলিয়ায় গ্রহণযোগ্য, তাই কাজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা থাকলে ডিগ্রীধারীদের সরাসরি জব পাওয়া সম্ভব। ট্র‍্যান্সফারেবল স্কিলস। তবে মনে রাখতে হবে শুধু ডিগ্রী থাকলেই কিন্তু এদেশে চাকুরী পাওয়া যায় না। প্রফেশনাল দক্ষতা আর সেই সাথে ভালো কমিউনিকেশন স্কিলস দুটো থাকা বেশ জরুরী। আর সেই সাথে অস্ট্রেলিয়ান কালচার আর ভ‍্যালুজ সম্পর্কে ধারনা থাকাটাও সম‍্যক জরুরী। আইটি প্রফেশনাল বিশেষ করে কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ে পারদর্শীদের জন‍্য অস্ট্রেলিয়া এখনো স্বর্গরাজ‍্য।

শিক্ষা গবেষণা: উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশী এখন অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন ভার্সিটির ফ‍্যাকাল্টি মেম্বার বা সিনিয়র গবেষক। প্রতিবছরই বিপুল সংখ‍্যক বাংলাদেশী অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রীও অর্জন করেন। এদের সাথে এখানকার স্কুল গুলোতেও বাংলাদেশী শিক্ষক হিসেবে কাজ করছে। ভালো একাডেমিক হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশীদের কিন্তু বেশ সুনামও রয়েছে।

সরকারি চাকুরী: অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশীরা কাউন্সিল, স্টেট বা ফেডারেল গভর্নমেন্টের বিভিন্ন পদেও কর্মরত রয়েছে। সংখ‍্যায় খুব বেশি না হলেও সময়ের সাথে সরকারি চাকুরীতে বাংলাদেশীদের সংখ্যা বাড়ছে। এদের মধ‍্যে অনেকেই নিজ মেধা ও যোগ‍্যতা দিয়ে সরকারের এক্সিকিউটিভ পদে, আবার এমনকি দু একজন সিনিয়র এক্সিকিউটিভ পদেও রয়েছেন। প্রসঙ্গত লেখক নিজেও বর্তমানে গর্ভনমেন্টের এক্সিকিউটিভ পদে কর্মরত রয়েছেন।

একাউন্টিং ব‍্যাংকিং: বাংলাদেশেীদের উল্লেখযোগ্য একটা অংশ অস্ট্রেলিয়ায় একাউন্টিং প্রফেশনাল। এদের কেউ কেউ স্বাধীনভাবে নিজের ব‍্যবসাও করেন। আর ব‍্যাংকিং সেক্টরে একেবারে কাস্টমার সার্ভিস থেকে শুরু করে কর্পোরেট উঁচু পদেও কিন্তু বাংলাদেশীরা কাজ করে যাচ্ছে সুনামের সাথে।

উপরোল্লিখিত প্রফেশন ছাড়াও বাংলাদেশীদেরা কমবেশি সবধরনের পেশাতেই আছেন। লইয়ার, এলাইড হেলথ, নার্স, চাইল্ড কেয়ার এসিসট‍্যান্ট, রিয়েল এস্টেট এজেন্ট, মার্কেটিং, কাস্টমার কেয়ার, কল সেন্টার সহ সব ধরনের পেশাতেই অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশীদের পদচারনা।

স্বভাবতই আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় মাইগ্রেশন নেওয়া সবাই কি তাহলে ভালো জব করে বা পায়? খুব কমন এই প্রশ্নের উত্তর, অধিকাংশ বাংলাদেশীই কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় অফিস জব করেন না। এখানে এমনকি অনেকেই চাকুরীর পথই মাড়ান না। বেচে থাকার হাজারো সুযোগটা রয়েছে বলেই।

কিন্তু তাই বলে কেউই কিন্তু মোটেও খারাপ অবস্হায় নেই। বাংলাদেশীদের বড় একটা অংশ হসপিটালিটি ও ট‍্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রি যেমন রেস্টুরেন্ট, হোটেল, ট‍্যাক্সি, উবার কিংবা সিকিউরিটি গার্ডের চাকুরী করেও বেশ ভালো আছে। এর একটাই কারণ এ ধরনের চাকুরীর বেতন বা আয় কিন্তু কম না। তাছাড়া বেশ কিছু বাংলাদেশী বিভিন্ন ধরনের ব‍্যবসা বা দোকান রেস্টুরেন্টও চালায়। তাদের আয় রোজগারও বেশ ভালো।

এখানে একটা কথা বলে রাখি। অস্ট্রেলিয়া একটি সোশ‍্যাল ওয়েলফেয়ার টাইপের দেশ। সরকার তার নাগরিকদের পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করে থাকেন। নিম্ন আয়ের পরিবারকে সরকার প্রয়োজন মাফিক ভাতা প্রদান ও অন‍্যান‍্য সুবিধা প্রদান করে থাকে। যার ফলে যারা অস্ট্রেলিয়ায় স্হায়ী তাদের কারোরই কিন্তু অন্ততপক্ষে থাকা খাওয়ার কষ্টটা নেই। তাইতো কমিউনিটিতে এমন কিছু বাংলাদেশীও রয়েছে, যাদের মূল আয় এই সরকারি সহযোগিতাটুকু। তারাও কিন্তু এর উপর নির্ভর করে জীবন ভালো ভাবেই চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সকলের ছেলে মেয়েরাই পড়াশোনা করে সমাজে প্রতিষ্ঠাও পাচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার মূল ধারা রাজনীতিতে সরব উপস্হিতি, এ দেশে বাংলাদেশীদের ভালো অবস্হানের বার্তাটাই দেয়। ইতোমধ্যে বৃহ‍ৎ তিনটি রাজনৈতিক দল লেবার, লিবারেল বা গ্রীন পার্টির নমিনেশন নিয়ে বাংলাদেশীরা কাউন্সিল, রাজ‍্য এমনকি ফেডারেল ইলেকশনও করেছে। সম্প্রতি নিউ সাউথ ওয়েলসের বিভিন্ন কাউন্সিল নির্বাচনে বাংলাদেশী পাঁচজন কাউন্সিলরের নির্বাচিত হওয়াকে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে বাংলাদেশীদের অর্জনের মাইলফলকই বলা যায়। অস্ট্রেলিয়ার মূলধারা রাজনীতিতে বাংলাদেশীদের অবস্হান আগামীতে আরো জোরালো হবে বলেই কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের দৃঢ় বিশ্বাস।

খুঁজুন