অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশীদের প্রথম অভিবাসন কখন হয়েছিল, এর সুনির্দিষ্ট তথ্য কোথাও পাওয়া যায়নি। তবে দুহাজার উনিশ সালে নিউ সাউথ ওয়েলসের ব্রোকেন হিল শহরে আঠারশ পঁচাশি সালের দিকে নির্মিত একটি মসজিদ থেকে বাংলা পুঁথি পাওয়ার পর ধারণা করা হয়, অস্ট্রেলিয়ায় বাংগালীদের আগমন শত বছরেরও আগে আফগানদের হাত ধরেই।
এখানে জানিয়ে রাখি, ব্রিটিশরা আঠারো শতকের শেষ দিকে কঠোর পরিশ্রমী আফগান উট বাহকদের অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে আসে, মূলত মরুভূমিতে রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করতেই। আজকের সিডনি থেকে এডিলেইডের ট্রেন লাইন তৈরীতে আফগানদের ভূমিকা সিংহভাগ। এ সকল মুসলিম আফগান শ্রমিকরা ব্রোকেন হিলে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিল। ধারণা করা হয় সেই সময় কলকাতা থেকে কিছু বাংগালী নাবিক আফগানদের হাত ধরেই অস্ট্রেলিয়ায় বসতি স্হাপন করে। যদিও কালক্রমে এদের বংশধরদের অধিকাংশই অস্ট্রেলিয়ানদের সাথে বিলীন হয়ে গেছে।
উন্নিশ ছিষট্রি সালে অস্ট্রেলিয়ান গর্ভনমেন্ট হোয়াইট অস্ট্রেলিয়ান পলিসি রদ করার পর থেকেই অস্ট্রেলিয়া নন ইউরোপিয়ান ইমিগ্রেন্টদের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়। আর বাংলাদেশেীদের মাইগ্রেশনের শুরুটা মূলত এর পর থেকেই। সত্তর দশক থেকেই স্কিলড মাইগ্রেশন নিয়ে বাংলাদেশীদের অস্ট্রেলিয়ায় পদচারনা শুরু হয়ে যায়। যদিও এর আগে থেকেই কিছু বাংলাদেশী স্কলার বৃত্তি নিয়ে এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়তে এসেছিল। এদর কেউ কেউ স্হায়ীভাবে এদেশে থেকেও যায়।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় কতজন বাংলাদেশীর বসবাস তার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে দু হাজার একুশ সালের অফিসিয়াল আদমশুমারী অনুযায়ী বাংলাদেশী অস্ট্রলিয়ানদের সংখ্যা একান্ন হাজার চার শত একান্নব্বই। দু হাজার ষোল সালের আদমশুমারী অনুযায়ী এ সংখ্যা ছিল একচল্লিশ হাজার দুশত সাইত্রিশ। অর্থাৎ পাঁচ বছরে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশীদের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় দশ হাজার।
যদিও এই তথ্যটা মোটেও অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশীদের প্রকৃত অবস্হা বর্ণনা করে না। অস্ট্রেলিয়ায় এখন অগনিত বাংলাদেশী স্টুডেন্ট, রিফুইজি বা এসাইলাম সিকার, টেম্পররারি ভিসাধারী এমনকি অবৈধভাবে বসবাসকারী অনেক বাংলাদেশীও রয়েছে। তাইতো বাংলাদেশেীদের সংখ্যা লাখ পেরিয়ে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।
অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশীদের বতর্মান অবস্থান বিশ্লেষন করার আগে দেশটি সম্পর্কে সংক্ষেপে জানিয়ে রাখি। ছিয়াত্তুর লক্ষ স্কয়ার কিলোমিটারেরও বেশি আয়তনের এই দেশটি পৃথিবীর ষষ্ঠ বৃহত্তম দেশ আর ওসেনিয়া দেশ গুলোর মধ্যে বৃহৎ। দেশটির বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ছাব্বিশ মিলিয়ন বা দু কোটি ষাট লক্ষ।
সতেরশ আটাশি সালে ইউরোপিয়ান সেটেলারদের আগমনের পূর্বে বৃহৎ এই দেশটি আদিবাসীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। সে সূত্রে পুরো ল্যান্ডের মালিকানা এবোরিজিনালদের, সরকারও এটা স্বীকার করে।
পার্লামেন্টারি গনতন্ত্র নির্ভর অস্ট্রেলিয়া পাঁচটি স্টেট ও দুটি টেরিটরির সমন্বয়ে গঠিত ফেডারেল গর্ভনমেন্টের মাধ্যমেই আইন প্রনয়ন করে থাকে। তিন স্তর বিশিষ্ট অস্ট্রেলিয়ান সরকারের প্রথম স্তর স্হানীয় সরকার বা সিটি কাউন্সিল। দ্বিতীয় স্তর রাজ্য সরকার যা অনেকগুলো কাউন্সিলের সমন্বয়ে গঠিত আর সর্বশেষ হল কেন্দ্রীয় সরকার। সবগুলো সরকারই কিন্তু নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে গনতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হয়।
অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরা। যদিও প্রত্যেকটি স্টেট গভর্নমেন্টের আলাদা আলাদা রাজধানী রয়েছে। যেমন নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের রাজধানী সিডনি আর ভিক্টোরিয়ার হল মেলবোর্ন। অস্ট্রেলিয়ার ওয়েদার রাজ্য ভেদে ভিন্ন হলেও মূলত আবহাওয়ায় চারপাশ বেস্টিত সমুদ্রের প্রভাব রয়েছে।
অটাম, সামার, স্প্রিং আর উইন্টার এই চার ঋতুর দেশ অস্ট্রেলিয়ায় সামুদ্রিক আবহাওয়ার প্রভাবে খরা, সাইক্লোন কিংবা বন্যা হওয়াটা কিন্তু কমন। তবে মোটের উপর অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া বেশ সহনশীল, শীত বা গরম দুটোই মাত্রার মধ্যে থাকে। তাইতো বাংলাদেশ থেকে আগতদের অস্ট্রেলিয়ার ওয়েদারে মানিয়ে নিতে খুব একটা সমস্যা হয় না।
লেখার মূল প্রসঙ্গে আসি। অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশীদের জীবন যাপনের গল্প। প্রথমেই শুরু করি অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশীরা কিভাবে মাইগ্রেট করে থাকেন। মূলত দুটো উপায়েই অধিকাংশ বাংলাদেশীদের এই দেশে আসা। এক. স্কিলড মাইগ্রেশন নিয়ে আর দ্বিতীয়টি স্টুডেন্ট ভিসার মাধ্যমে। যদিও স্পাউস, ফ্যামিলি, এসাইলাম সিকিং বা অন্যান্য টেম্পোরারি ভিসাতেও অনেকে এদেশে এসে স্হায়ী হয়ে থাকে। তবে তার সংখ্যা উপরের দুই ক্যাটাগরির চেয়ে অনেক কম।
মাইগ্র্যান্ট ফ্রেন্ডলি অস্ট্রেলিয়ান গভর্নমেন্ট কিন্তু সারা বিশ্বের দক্ষ জনশক্তিকে তাদের দেশে সবসময়ই স্বাগত জানায়। স্কিলড বা দক্ষ জনশক্তির ক্যাটাগরি এবং এই ভিসার যোগ্যতা থাকলেই সরকার আবেদনকারীকে ভিসা দিয়ে থাকে। এই ভিসায় আগতরা সাধারণত পারমানেন্ট রেসিডেন্স (পিআর) বা টেম্পরারি রেসিডেন্স (টিআর) ভিসা পেয়ে থাকেন। এই দুই ক্যাটাগরির ভিসা প্রাপ্তরাই কিন্তু একটা সময় পর কিছু শর্তপূরনের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ান সিটিজেনশিপ পেয়ে যায়।
এবার প্রাসঙ্গিকভাবেই বলছি, অস্ট্রেলিয়ায় আগত বাংলাদেশীরা কোন শহরে বেশি বাস করে এবং কি কারণে? অভিবাসীরা মূলত নিজেদের সুযোগ সুবিধা বুঝেই বিদেশে পছন্দের শহরকে বেছে নেয়। তবে স্টুডেন্টরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যে শহরে অবস্হিত, সেখানেই আসতে বাধ্য থাকে।
দু হাজার একুশ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী প্রায় আটান্ন শতাংশ বাংলাদেশী সিডনি শহরে বসবাস করে। আর মেলবোর্ণে আছে প্রায় বিশ শতাংশ। আর বাকি বাংলাদেশীরা অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে। ইদানীং অস্ট্রেলিয়ান সরকার রিজিওনাল ভিসার মাধ্যমে মাইগ্র্যান্টদের রুরাল এলাকায় যাওয়ার জন্যও উৎসাহিত করছে। তাইতো বাংলাদেশীদের কম বেশি সব জায়গাতেই দেখা যায়।
মাইগ্র্যান্টরা কেনো বড় শহরে থাকতে পছন্দ করে? এর প্রধান কারণ, জীবিকার সুযোগ বেশি বলেই। আর স্বভাবতই মাইগ্র্যান্টদের সিডনির মতো শহর পছন্দ, এর কসমোপলিটন ন্যাচারের জন্যই। বাংলাদেশী একটা বড় কমিউনিটি অলরেডি তৈরী হয়ে গেছে, এটাও হয়তো অন্যতম কারণ।
এবার বাইরের লোকদের অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রতি থাকা সবচাইতে আগ্রহের বিষয়টি নিয়েই কথা বলবো। মাইগ্র্যান্টরা অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে কি ধরনের কাজ করে থাকেন। আমাদের কমন পেশাগুলো কি?
অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশীদের জীবন
অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশীদের জীবন
অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশীদের প্রথম অভিবাসন কখন হয়েছিল, এর সুনির্দিষ্ট তথ্য কোথাও পাওয়া যায়নি। তবে দুহাজার উনিশ সালে নিউ সাউথ ওয়েলসের ব্রোকেন হিল শহরে আঠারশ পঁচাশি সালের দিকে নির্মিত একটি মসজিদ থেকে বাংলা পুঁথি পাওয়ার পর ধারণা করা হয়, অস্ট্রেলিয়ায় বাংগালীদের আগমন শত বছরেরও আগে আফগানদের হাত ধরেই। এখানে জানিয়ে রাখি, ব্রিটিশরা আঠারো শতকের শেষ দিকে কঠোর পরিশ্রমী আফগান উট বাহকদের অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে আসে, মূলত মরুভূমিতে রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করতেই। আজকের সিডনি থেকে এডিলেইডের ট্রেন লাইন তৈরীতে আফগানদের ভূমিকা সিংহভাগ। এ সকল মুসলিম আফগান শ্রমিকরা ব্রোকেন হিলে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিল। ধারণা করা হয় সেই সময় কলকাতা থেকে কিছু বাংগালী নাবিক আফগানদের হাত ধরেই অস্ট্রেলিয়ায় বসতি স্হাপন করে। যদিও কালক্রমে এদের বংশধরদের অধিকাংশই অস্ট্রেলিয়ানদের সাথে বিলীন হয়ে গেছে।উন্নিশ ছিষট্রি সালে অস্ট্রেলিয়ান গর্ভনমেন্ট হোয়াইট অস্ট্রেলিয়ান পলিসি রদ করার পর থেকেই অস্ট্রেলিয়া নন ইউরোপিয়ান ইমিগ্রেন্টদের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়। আর বাংলাদেশেীদের মাইগ্রেশনের শুরুটা মূলত এর পর থেকেই। সত্তর দশক থেকেই স্কিলড মাইগ্রেশন নিয়ে বাংলাদেশীদের অস্ট্রেলিয়ায় পদচারনা শুরু হয়ে যায়। যদিও এর আগে থেকেই কিছু বাংলাদেশী স্কলার বৃত্তি নিয়ে এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়তে এসেছিল। এদর কেউ কেউ স্হায়ীভাবে এদেশে থেকেও যায়।বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় কতজন বাংলাদেশীর বসবাস তার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে দু হাজার একুশ সালের অফিসিয়াল আদমশুমারী অনুযায়ী বাংলাদেশী অস্ট্রলিয়ানদের সংখ্যা একান্ন হাজার চার শত একান্নব্বই। দু হাজার ষোল সালের আদমশুমারী অনুযায়ী এ সংখ্যা ছিল একচল্লিশ হাজার দুশত সাইত্রিশ। অর্থাৎ পাঁচ বছরে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশীদের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় দশ হাজার।যদিও এই তথ্যটা মোটেও অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশীদের প্রকৃত অবস্হা বর্ণনা করে না। অস্ট্রেলিয়ায় এখন অগনিত বাংলাদেশী স্টুডেন্ট, রিফুইজি বা এসাইলাম সিকার, টেম্পররারি ভিসাধারী
এমনকি অবৈধভাবে বসবাসকারী অনেক বাংলাদেশীও রয়েছে। তাইতো বাংলাদেশেীদের সংখ্যা লাখ পেরিয়ে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশীদের বতর্মান অবস্থান বিশ্লেষন করার আগে দেশটি সম্পর্কে সংক্ষেপে জানিয়ে রাখি। ছিয়াত্তুর লক্ষ স্কয়ার কিলোমিটারেরও বেশি আয়তনের এই দেশটি পৃথিবীর ষষ্ঠ বৃহত্তম দেশ আর ওসেনিয়া দেশ গুলোর মধ্যে বৃহৎ। দেশটির বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ছাব্বিশ মিলিয়ন বা দু কোটি ষাট লক্ষ।সতেরশ আটাশি সালে ইউরোপিয়ান সেটেলারদের আগমনের পূর্বে বৃহৎ এই দেশটি আদিবাসীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। সে সূত্রে পুরো ল্যান্ডের মালিকানা এবোরিজিনালদের, সরকারও এটা স্বীকার করে।পার্লামেন্টারি গনতন্ত্র নির্ভর অস্ট্রেলিয়া পাঁচটি স্টেট ও দুটি টেরিটরির সমন্বয়ে গঠিত ফেডারেল গর্ভনমেন্টের মাধ্যমেই আইন প্রনয়ন করে থাকে। তিন স্তর বিশিষ্ট অস্ট্রেলিয়ান সরকারের প্রথম স্তর স্হানীয় সরকার বা সিটি কাউন্সিল। দ্বিতীয় স্তর রাজ্য সরকার যা অনেকগুলো কাউন্সিলের সমন্বয়ে গঠিত আর সর্বশেষ হল কেন্দ্রীয় সরকার। সবগুলো সরকারই কিন্তু নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে গনতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হয়।অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরা। যদিও প্রত্যেকটি স্টেট গভর্নমেন্টের আলাদা আলাদা রাজধানী রয়েছে। যেমন নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের রাজধানী সিডনি আর ভিক্টোরিয়ার হল মেলবোর্ন। অস্ট্রেলিয়ার ওয়েদার রাজ্য ভেদে ভিন্ন হলেও মূলত আবহাওয়ায় চারপাশ বেস্টিত সমুদ্রের প্রভাব রয়েছে।অটাম, সামার, স্প্রিং আর উইন্টার এই চার ঋতুর দেশ অস্ট্রেলিয়ায় সামুদ্রিক আবহাওয়ার প্রভাবে খরা, সাইক্লোন কিংবা বন্যা হওয়াটা কিন্তু কমন। তবে মোটের উপর অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া বেশ সহনশীল, শীত বা গরম দুটোই মাত্রার মধ্যে থাকে। তাইতো বাংলাদেশ থেকে আগতদের অস্ট্রেলিয়ার ওয়েদারে মানিয়ে নিতে খুব একটা সমস্যা হয় না।লেখার মূল প্রসঙ্গে আসি। অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশীদের জীবন যাপনের গল্প। প্রথমেই শুরু করি অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশীরা কিভাবে মাইগ্রেট করে থাকেন। মূলত দুটো উপায়েই অধিকাংশ বাংলাদেশীদের এই দেশে আসা। এক. স্কিলড মাইগ্রেশন নিয়ে আর দ্বিতীয়টি স্টুডেন্ট
ভিসার মাধ্যমে। যদিও স্পাউস, ফ্যামিলি, এসাইলাম সিকিং বা অন্যান্য টেম্পোরারি ভিসাতেও অনেকে এদেশে এসে স্হায়ী হয়ে থাকে। তবে তার সংখ্যা উপরের দুই ক্যাটাগরির চেয়ে অনেক কম।মাইগ্র্যান্ট ফ্রেন্ডলি অস্ট্রেলিয়ান গভর্নমেন্ট কিন্তু সারা বিশ্বের দক্ষ জনশক্তিকে তাদের দেশে সবসময়ই স্বাগত জানায়। স্কিলড বা দক্ষ জনশক্তির ক্যাটাগরি এবং এই ভিসার যোগ্যতা থাকলেই সরকার আবেদনকারীকে ভিসা দিয়ে থাকে। এই ভিসায় আগতরা সাধারণত পারমানেন্ট রেসিডেন্স (পিআর) বা টেম্পরারি রেসিডেন্স (টিআর) ভিসা পেয়ে থাকেন। এই দুই ক্যাটাগরির ভিসা প্রাপ্তরাই কিন্তু একটা সময় পর কিছু শর্তপূরনের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ান সিটিজেনশিপ পেয়ে যায়।এবার প্রাসঙ্গিকভাবেই বলছি, অস্ট্রেলিয়ায় আগত বাংলাদেশীরা কোন শহরে বেশি বাস করে এবং কি কারণে? অভিবাসীরা মূলত নিজেদের সুযোগ সুবিধা বুঝেই বিদেশে পছন্দের শহরকে বেছে নেয়। তবে স্টুডেন্টরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যে শহরে অবস্হিত, সেখানেই আসতে বাধ্য থাকে।দু হাজার একুশ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী প্রায় আটান্ন শতাংশ বাংলাদেশী সিডনি শহরে বসবাস করে। আর মেলবোর্ণে আছে প্রায় বিশ শতাংশ। আর বাকি বাংলাদেশীরা অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে। ইদানীং অস্ট্রেলিয়ান সরকার রিজিওনাল ভিসার মাধ্যমে মাইগ্র্যান্টদের রুরাল এলাকায় যাওয়ার জন্যও উৎসাহিত করছে। তাইতো বাংলাদেশীদের কম বেশি সব জায়গাতেই দেখা যায়।মাইগ্র্যান্টরা কেনো বড় শহরে থাকতে পছন্দ করে? এর প্রধান কারণ, জীবিকার সুযোগ বেশি বলেই। আর স্বভাবতই মাইগ্র্যান্টদের সিডনির মতো শহর পছন্দ, এর কসমোপলিটন ন্যাচারের জন্যই। বাংলাদেশী একটা বড় কমিউনিটি অলরেডি তৈরী হয়ে গেছে, এটাও হয়তো অন্যতম কারণ।এবার বাইরের লোকদের অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রতি থাকা সবচাইতে আগ্রহের বিষয়টি নিয়েই কথা বলবো। মাইগ্র্যান্টরা অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে কি ধরনের কাজ করে থাকেন। আমাদের কমন পেশাগুলো কি?
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত