মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
দেশের খবর পানগুছি নদীর ভাঙনের মুখে ৬শ’ পরিবার

পানগুছি নদীর ভাঙনের মুখে ৬শ’ পরিবার

এম.পলাশ শরীফ,বাগেরহাট:

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের পানগুছি নদীর অব্যাহত ভাঙনের মুখে ৬শ’ পরিবার। প্রতিনিয়ত শত শত বিঘা ফসলী জমি, বসত বাড়ি গাছপালা, রাস্তাঘাট নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে। বন্যা, জলোচ্ছাস এলেই আতংকে থাকতে হয় নদীর তীববর্তী বাসিন্দাদের। সন্ন্যাসী হয়ে ঘষিয়াখালী পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার স্থায়ী ভেড়িবাঁধের দাবি স্থানীয়দের।  

সরেজমিনে খোজ নিয়ে জানাগেছে, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার নদীর তীরবর্তী ৮টি ইউনিয়নের ২০টি গ্রাম নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে নিঃস্ব হচ্ছে শত শত পরিবার। প্রতিদিনই ভাঙ্গছে নতুন নতুন এলাকা।  

মোরেলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের গাবতলা, কাঠালতলা নদীর তীরবর্তী এ দুটি গ্রামে এক সময়ে ৩/৪ হাজার পরিবার বসবাস ছিলো। বর্তমানে সেখানে দাড়িয়েছে ৬শ’ পরিবারের। তাও আবার ভাঙ্গনের মুখে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছে গত ৪০ বছরে বিলীন হয়েছে এ এলাকার ৩শ’ একর ফসলি জমি। শত শত পরিবারের বসতবাড়ি, গাছপালা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ একাধিক স্থাপনা প্রতিবছর হারিয়েছে যাচ্ছে। অব্যাহত এ ভাঙন থেমে নেই।  

গাবতলা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বলেন, এ গ্রামের অনেকেই নদীগর্ভে সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে অন্যত্র চলে গেছে।  

জেলে পল্লীর বাসিন্দা সেলিম তালুকদার, গফফার তালুকদার, শহিদ বেপারী বলেন, ছোট বেলা থেকেই শুনে আসছি ভেড়িবাঁধ হবে। এ পর্যন্ত ৩/৪ বার বসতবাড়ি ভেঙ্গে গেছে। আবার নতুন করে গড়েছি। এখন আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। বাপ দাদার অনেক জমি ছিলো, এখন নিঃস্ব হয়ে গেছি। নদীতে মাছ ধরে তা বিক্রি করে পরিবারের সকলকে নিয়ে দু’মুটো খেয়ে পড়ে বেঁচে আছি। ঘূর্ণিঝড় বন্যা এলেই আতংকে থাকতে হয় আমাদের। কবে হবে স্থায়ী ভেড়িবাধ?।

অপরদিকে কাঠালতলায় আশ্রয়ন প্রকল্পের ১১টি পরিবারের নেই কোন যাতায়েতের রাস্তা। কথা হয়, আশ্রয়নের বাসিন্দা সাফিয়া বেগম, মাহিনুর, নূরজাহান, চম্বা বেগমসহ একাধিক বাসিন্দারা বলেন, সরকারিভাবে ৪ মাস হয়েছে ঘর পেয়েছি। এখান থেকে যাতায়েতের কোন রাস্তা নেই। বন্যা হলে পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে ঘরেই থাকতে হবে আাদের। মাটির রাস্তার কাজ শুরু করেও মাঝপথে তাও আবার বন্ধ হয়ে গেছে।  

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম তারেক সুলতান বলেন, এ উপজেলার সন্যাসী হয়ে ঘষিয়াখালী পর্যন্ত স্থায়ী ভেড়িবাঁধের জন্য ইতোমধ্যে সংসদ সদস্য’র মাধ্যমে পানিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের একটি টিম সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। কাজটির অগ্রগতিও রয়েছে। সকল আশ্রয়ন প্রকল্পের যোগাযোগ ব্যবস্থা রাস্তা নির্মাণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পরিকল্পনা রয়েছে। 

খুঁজুন