শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
দেশের খবর পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে শিশুকে হত্যা

পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে শিশুকে হত্যা

নরসিংদীর পলাশে পায়ুপথে বাতাস দিয়ে এক শিশুকে মর্মান্তিক হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পলাশ উপজেলার গজারিয়া বাজারে এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

ঘটনার বিবরনে জানা যায়, বুধবার সকাল ১০টার দিকে গজারিয়া বাজারে দাদা আমজাদ হোসেনের দোকানে আসে ৯ বছর বয়সী রামিম। বাজারের পাশেই গজারিয়া চড়কারারদী গ্রামের রিপন মিয়ার ছেলে রামিম।

রামিনের স্বজনরা জানান, রামিম মানসিকভাবে কিছুটা সমস্যা থাকার কারণে দিনের বেশিরভাগ সময়ই গজারিয়া বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে আনন্দ করে দিন কাটায়। ওই বাজারের ঢেউটিন ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন নিহত রামিনের দাদা। তাই সে বাজারে এসে বেশিরভাগ সময়ে তার দাদার সাথে সময় কাটাতো। অপরদিকে নিহত রামিনের বাবা রিপন মিয়া গজারিয়া বাজারের একজন স্যানেটারি ব্যবসায়ী। যার ফলে দাদা বাবা ও অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সাথে আনন্দ করেই দিন পার করত রামিন।

রামিমের দাদার দোকানের পাশেই ফয়সাল মিয়ার রিকশা ও অটো ইজিবাইকের গ্যারেজ। ওই গ্যারেজেই সকালে খেলা করছিল রামিন। এ সময় প্রতিবেশী একই গ্রামের লোকমান মিয়ার ছেলে রিকসাচালক সবুজ মিয়া, ফয়সাল ও শিশির দুষ্টামির ছলে রামিনের পায়ুপথে মেশিনের সাহায্যে বাতাস ঢুকিয়ে দেয়। এ অবস্থায় রামিনের পেট বাতাসে ফুলে গিয়ে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে রামিনের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থা খারাপ দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করে। এদিকে রামিনের স্বজনরা ঢাকার উত্তরায় ১১ নম্বর সেক্টর এলাকায় বেসরকারি একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসারত অবস্থায় রামিন সন্ধা ৬টায় মারা যায় বলে জানান রামিনের বাবা।

নিহত রামিমের বাবা রিপন মিয়া জানান, সকালে রামিমকে নিয়ে প্রথমে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ও উওরা একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করি, সেখানে আইসিইউতে রাখে ডাক্তাররা। সন্ধ্যা ৬টার সময় সে মারা যায়। বাড়িতে তার লাশ নিয়ে এসেছি রাত সাড়ে ৮টায়।

আমার ছেলেটা সহজ শরল ছিল। তারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। ফয়সাল, সবুজ ও শিশির তারা আমার কলিজার টুকরাকে এভাবে হত্যা করবে, আমি জানতাম না। আমি তাদের বিচার চাই।

এদিকে রামিমের লাশ বাড়িতে আনলে তাদের মাবাবা ও আত্মীয়স্বজনের কান্নায় আকাশ বাতাশ ভারি হয়ে উঠে। এ ঘটনায় গজারিয়া বাজার সহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। আগামীকাল (আজ) বৃহস্পতিবার আইনিপ্রক্রিয়া শেষ হলে তার লাশ দাফন করা হবে বলে জানায় তার বাবা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল-মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে, তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। এছাড়া নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

খুঁজুন