শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
রাজনীতি পীর মাশায়েখদের নিয়ে বিএনপি নেতাদের অশোভন বক্তব্য কেন

পীর মাশায়েখদের নিয়ে বিএনপি নেতাদের অশোভন বক্তব্য কেন

শহিদুল ইসলাম কবির :

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ সাহেব সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বক্তৃতায় দেশের পীর মাশায়েখ,আলেম ওলামা বিশেষ করে পীর সাহেব চরমোনাইকে নিয়ে যেভাবে তিরোস্কার করাসহ অশোভন মন্তব্য করে যাচ্ছেন তা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান সাহেবের সম্মতিতে করছেন কিনা এ বিষয়টি দেশের মানুষ পরিস্কার জানতে চায়। 


এর আগে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাব মীর্জা আব্বাস সাহেব বলেছেন চরমোনাই পীর সাহেব নাকি মূর্খ। যুব দলের ঢাকা মহানগরীর এক নেতা শ্লোগান দিয়ে বলেছেন নেশা করে নেশা খায় পীর সাহেব চরমোনাই। 

উপরোক্ত এসব কথা যা বিএনপির থেকে বলা হচ্ছে তা আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আচরণকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এসব বক্তব্যের বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেবের স্পষ্ট বক্তব্য দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ জানতে চায়। 

সালাহউদ্দিন আহমেদ সাহেব ছারছীনা পীর সাহেব এর সাথে সাক্ষাৎ শেষে গণমাধ্যমের সাথে আলোচনার এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে এক পীর সাহেবের সাথে সাক্ষাৎ করে তার ফু নিয়ে আসলাম। আপনাকে হেদায়েত করলে আপনার কাছেও যেতে পারি। সালাহউদ্দিন আহমেদ সাহেব এর এ বক্তব্য চরম আপত্তিকর। পীর মাশায়েখ আলেম ওলামাদের নিয়ে হাসি মশকরা, ঠাট্টা বিদ্রুপ দেশের মানুষ কিন্তু কখনো ভালোভাবে নেয়না। এটা তার ইসলাম বিরোধী মানুষিকতার বহিঃপ্রকাশ।


১৯৯৬ এর আওয়ামী আমলে কুকুরের মাথায় টুপি দেয়ার যে ন্যাক্কারজনক ঘটনা এদেশে ঘটেছিলো আজকের জনাব তারেক রহমান সাহেবের আশকারা পেয়ে বিএনপি নেতৃবৃন্দ তেমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করছেন। যা দেশের মানুষ কখনো ভালোভাবে অতীতে নেয়নি ভবিষ্যতে ও নিবে না। 


বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাবেন এমন আশা করে এখন যা করা শুরু করেছে তাতে আগামীর বাংলাদেশে নতুন করে সঙ্কট সৃষ্টি হবার আশঙ্কা আছে বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে। 


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নির্দেশে বিএনপি মহাসচিব ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই'র সাথে সাক্ষাৎ করে ১০ দফা সমঝোতা স্বাক্ষর করেছেন। তার মানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দেশব্যাপী বিএনপির পথভ্রষ্ট নেতা কর্মীদের মাধ্যমে সংঘটিত চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, খুনের ঘটনার বিষয়ে কথা বলবে না? PR পদ্ধতির বিষয়ে কথা বলা যাবে না? ইসলামী দল সমূহের সাথে ঐক্যের প্রশ্নে অগ্রসর হওয়া অপরাধ? 


এজন্য পীর সাহেব চরমোনাই ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর বিরুদ্ধে যা ইচ্ছা তাই বলাতে লাগিয়ে দিবেন? তা তো হয় না। যদি আগামীতে রাষ্ট্রক্ষমতায় বিএনপি যায় তখন এদেশে বিএনপির বিরুদ্ধে থাকা আলেম ওলামা ও পীর মাশায়েদেরকে কি বঙ্গোপসাগরে নিক্ষেপ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন? যদি এমন চিন্তা করে থাকেন তবে মারাত্মক ভুল করবেন।


ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বা পীর সাহেব চরমোনাই এদেশে কখনো মাঝাভাঙ্গা,লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি করেননি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব পীর সাহেব চরমোনাই'র সাথে বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় স্পষ্ট করে বুঝতে পেরেছেন যে পীর সাহেব চরমোনাই বা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতার অংশীদারিত্বের জন্য রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলে কাজ করেন না। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও পীর সাহেব চরমোনাই আদর্শের রাজনীতি করেন। ইসলাম,দেশ ও মানবতার কল্যাণে রাজনীতি করেন। 


পীর সাহেব চরমোনাই ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চায় দেশের বিপথগামী মানুষ আল্লাহর পথে আসবে। সন্ত্রাস, ঘুষ-দুর্নীতি, সিন্ডিকেট, স্বজনপ্রীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি,খুন, রাহাজানি মুক্ত কল্যাণ রাষ্ট্র হবে। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও পীর সাহেব চরমোনাই'র এই চাওয়া কি অপরাধ? এজন্য তারা বিএনপি নেতাদের চক্ষুশূলে পরিনত হয়েছেন? যদি তাই হয় তবে দেশের মানুষের দুর্ভাগ্য। আগামীর বাংলাদেশে বড় সঙ্কট অপেক্ষা করছে। সেই সঙ্কট হবে বিএনপির কারণে।


এমনো শোনা যায় তৃনমুলে বিএনপির যে সম্মেলন হচ্ছে তা পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লুটেরাদের টাকায় হচ্ছে। বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ যে যায়গায়, যেভাবে অপকর্ম করেছে সেসব যায়গায় রিপ্লেসমেন্ট হয়েছে বিএনপির লোকেরা। এ কথার সত্যতা নিশ্চিত করতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান একটি নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য মানুষদের মাধ্যমে রাজধানী থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত তদন্ত কমিটি গঠন করে দেখতে পারেন। বিগত ১৭ বছরে কমিটি আর পদ বানিজ্য বিএনপির মধ্যে যা ছিলো জুলাই বিপ্লব ২০২৪ এর পরে তা আরো হাজার গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। 


পরবর্তী সরকার বিএনপির হবার সম্ভাবনা মনে করে প্রশাসনের কেউ বিএনপি নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে সাহস করছে না। এমন পরিস্থিতি যদি চলতে থাকে তবে আগামী দিনে দেশের মানুষের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হবে বলে আশা করা যায় না। যা হবে আওয়ামী লীগ ছিলো বিএনপি আসছে এই। কিন্তু পেশীশক্তির ব্যবহার কমবে না। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ দেশ হবে না। 


দেশের মানুষ আশা করে জনাব তারেক রহমান যদি দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করতে চান তবে সর্বাগ্রে তার দলের মধ্যে প্রকৃত সংস্কার করতে হবে। আলেম ওলামা, পীর মাশায়েখদের নিয়ে বিদ্রুপ করা, মশকরা ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অপবাদ দেয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। তাদের সমালোচনাকে আমলে নিয়ে নিজেদের দলকে পরিশুদ্ধ করতে হবে। 

খুঁজুন