শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
অর্থ ও বাণিজ্য পণ্য কিনতে জমানো টাকায় হাত

পণ্য কিনতে জমানো টাকায় হাত

সঙ্কটের শুরু হয়েছিল ২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে। তখন অনেকের আয় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সবচেয়ে বেশি বিপদ হয়েছিল মধ্যবিত্তের। সেই ধাক্কা সামলে না উঠতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম ভোগাচ্ছে মানুষকে। এখন অনেকেই জমানো টাকায় হাত দিতে বাধ্য হচ্ছেন। 

সপ্তাহের ব্যবধানে আটার দাম বেড়েছে প্রতি কেজি ১০ টাকা করে। এ ছাড়া আমদানির অনুমোদন দেওয়া হলেও তার প্রভাব নেই চালের বাজারে। ৫৩ টাকার নিচে মিলছে না মোটা চালও। বাড়তি ব্রয়লার মুরগী ও ডিমের দামও। প্রতিটি ফার্মের মুরগির ডিম কিনতে হচ্ছে ১২ টাকায়। আর ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা দরে।

মুরগি চড়া দামেই : আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মুরগি। ব্রয়লার প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০ টাকা ও দেশি মুরগি ৪৬০ থেকে ৪৮০ টাকা। কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের মেসার্স মা আয়েশা ব্রয়লার হাউসের ব্যবসায়ী মো. আমজাদ হোসেন বলেন, ‘সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির বাজারে কোনো পরিবর্তন আসেনি। মুরগির খাদ্যের বাড়তি দাম এবং পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে মুরগির দাম কমার সম্ভাবনা কম। 

চাল-আটায় স্বস্তি নেই : সপ্তাহের ব্যবধানে আবার বেড়েছে আটার দাম। প্রতি কেজি খোলা আটা কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেটজাত আটা আগের বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। দুই কেজি ওজনের আটার প্যাকেট ১২৫ টাকা। চাল আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। মোটা ব্রি ২৮ চাল প্রতি কেজি ৬০ টাকা, মিনিকেট বলে পরিচিত চিকন চাল প্রতি কেজি ৭৫ টাকা ও নাজিরশাইল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি। 

বেড়েছে সবজির দাম : সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে কয়েকটি সবজির দাম পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে। গোল বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, লম্বা বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা, দেশি শসা ৮০ টাকা, পটোল, ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ টাকা, ছোট ফুলকপি ৫০ টাকা, শিম ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ৮০ টাকা, টমেটো ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, গাজর ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ অবস্থায় মানুষের সঞ্চয়ে টান পড়ছে মূলত মূল্যস্ফীতির চাপে। জীবন যাপনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় নির্দিষ্ট আয়ের মানুষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

আমানত এভাবে কমতে থাকলে ব্যাংক খাতের তারল্যে চাপে পড়বে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা। সেরকম হলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিতে পারে। সুদহার নিয়ন্ত্রণ করা ব্যাংকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেবে তখন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে ব্যাংক খাতে ৯৭ হাজার ১৫০ কোটি টাকার মেয়াদী আমানত যোগ হয়েছে, যা আগের অর্থ বছরের চেয়ে ৩০ দশমিক ৪১ শতাংশ কম।

গত বছরের জুন শেষে দেশে ব্যাংক খাতে সঞ্চিত আমানত ছিল ১৩ লাখ ৫১ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা। এক বছরের মাথায় এ বছরের জুন শেষে তা বেড়ে ১৪ লাখ ৭১ হাজার কোটি টাকা হয়। কিন্তু জুলাই মাসে তা কমে ১৪ লাখ ৬৫ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা হয়েছে। অর্থাৎ, এক মাসে ব্যাংকে আমানত হিসাবে জমা টাকার পরিমাণ কমেছে ৫ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা।

খুঁজুন