রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
দেশের খবর প্রধান শিক্ষিকা ও তার স্বামীকে হত্যার হুমকির অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

প্রধান শিক্ষিকা ও তার স্বামীকে হত্যার হুমকির অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

হাসিবুর রহমান, ঝালকাঠি প্রতিনিধি :

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় এক প্রধান শিক্ষিকা ও তার স্বামীকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সুবিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. শহিদ খানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ওই শিক্ষিকা ও তার পরিবার।

ভুক্তভোগী পশ্চিম সুবিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা খাদিজা বেগম গত ২৭ মে (মঙ্গলবার) নলছিটি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, শহিদ খান দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ আত্মসাতের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।

সম্প্রতি বিদ্যালয়ের উন্নয়নে পাওয়া ২৯ হাজার টাকা খরচের পর ২১ মে বিকেল ৩টার দিকে শহিদ খান বিদ্যালয়ে এসে উক্ত টাকার হিসাব চান। তবে তিনি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য না হওয়ায় প্রধান শিক্ষিকা তার কাছে হিসাব দেওয়ার যৌক্তিকতা জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তখন অন্যান্য শিক্ষকদের উপস্থিতিতে শহিদ খান তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।

পরদিন বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের জানালে তা বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এরপর ২৩ মে দুপুর দেড়টার দিকে শহিদ খান ৩০-৪০ জন লোক নিয়ে বিদ্যালয়ের সামনে গিয়ে শিক্ষিকার নাম ধরে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। সেদিন শিক্ষিকা ছুটিতে থাকলেও তিনি উপস্থিত লোকজনের সামনে শিক্ষিকা ও তার স্বামীকে হত্যার হুমকি দেন এবং চাকরিচ্যুত করার হুমকিও প্রদান করেন বলে অভিযোগে বলা হয়।

শিক্ষিকা খাদিজা বেগম জানান, শহিদ খান ও তার অনুসারীদের হুমকির কারণে তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং তারা ঘর থেকে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তরেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি শহিদ খানের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মো. শহিদ খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়মের প্রতিবাদে স্থানীয়রা ২৫ মে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

নলছিটি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুস সালাম বলেন, “প্রধান শিক্ষিকা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, এর আগেও শহিদ খানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ত্রাণের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ কেন্দ্রীয় মহাসচিবসহ দলের বিভিন্ন দপ্তরে পৌঁছালেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এতে স্থানীয় বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

তাদের দাবি, একজন দায়িত্বশীল নেতার এমন কর্মকাণ্ড দলীয় ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অবিলম্বে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এর দায় দলকে বহন করতে হতে পারে।

খুঁজুন