নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি:
পরিবেশ রক্ষায় নিরন্তর কাজ করায় বিশেষ সম্মাননা পেলো নেত্রকোনার দুর্গাপুরের পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য এনিমেলস অফ সুসং। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসক হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্যদের সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন নবাগত জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিস।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনির হোসেনের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর সহকারী পরিচালক পারভেজ আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর মূর্শেদা খাতুন, জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুন, নেত্রকোনা প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মুখলেসুর রহমান খান, বারসিক জেলা আঞ্চলিক সমন্বয়কারী অহিদুল রহমান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে এনজিও প্রতিষ্ঠান বারসিকের সহযোগিতায় পরিবেশ দিবস কে ঘিরে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা সহ বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরির বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার দেয়া হয়। এর মাঝে পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য এবছর সেভ দ্য এনিমেলস অফ সুসং সহ ২টি প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচিত করেন তারা। পরে পরিবেশ বন্ধু স্বীকৃতিস্বরূপ ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। সংগঠনের পক্ষে সম্মাননা ক্রেস্ট গ্রহণ করেন সেভ দ্য এনিমেলস অফ সুসং সংগঠনের সভাপতি রিফাত আহমেদ রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিসুল হক সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক সুশান্ত প্রাসাদ।
সেভ দ্য এনিমেলস অফ সুসং এর স্বেচ্ছাসেবকরা দীর্ঘদিন ধরেই পাহাড়ি সুসং জনপদের পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। ২০২০ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে লোকালয় থেকে বিরল প্রজাতির অসংখ্য প্রাণী উদ্ধার করে আবারো বনে অবমুক্ত করে আসছে। গত আড়াই বছরে সংগঠনটি মোট ২৩টি রেস্কিউ অভিযানের মাধ্যমে বিপন্ন প্রাণীদের রক্ষা করে আসছেন। এর মাঝে অজগর সাপ ৮টি, বিরল প্রজাতির লজ্জাবতী বানর ৬টি, সন্ধি কাছিম, মেছো বাঘের ছানা, গন্ধগোকুল, গুইসাপ, গিরগিটি, গাংচিল সহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী অবমুক্ত করেছেন।
স্বেচ্ছাসেবকরা বলছেন, পাহাড়ি সীমান্তবর্তী সুসং-দুর্গাপুরে ছোট-বড় অসংখ্য পাহাড়ি টিলায় একসময় গাছপালা থাকলেও কালের বিবর্তনে গাছপালা নিধনের ফলে বন্যপ্রাণীরা আবাসস্থল হারিয়ে চলে আসছে লোকালয়ে। এর মাঝে অনেক প্রাণী মানুষের নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। প্রাণীদের রক্ষায় এবং বন্যপ্রাণীর প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে সেভ দ্য এনিমেলস অফ সুসং।
তারা আরো বলেছেন, পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় সবাইকেই নিজ নিজ জায়গা থেকে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি পর্যটন সম্ভাবনাময় সুসং দুর্গাপুরকে বাঁচাতে হলে আগে সোমেশ্বরী নদীকে বাঁচাতে হবে। কারণ উপজেলার মানুষ ও প্রকৃতির প্রাণ স্বচ্ছ জলরাশি সোমেশ্বরী নদীতে মিঠা পানির শুশুক ও বিভিন্ন প্রজাতির কাছিমের অবাধ বিচরণ থাকলেও আজ পুরোপুরি বিলুপ্ত। এছাড়া গত ১২ বছর ধরে স্বার্থন্বেষী মহল ও বালুখেকোদের তাণ্ডবে পুরো নদীই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। নিষিদ্ধ বাংলা ড্রেজার বসিয়ে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনে এ নদীর ঐতিহ্যবাহী মহাশোল মাছ, জলজ প্রাণীসহ সুসং জনপদের পরিবেশে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। তাই সোমেশ্বরীতে বালু উত্তোলন বন্ধ সহ এই জনপদকে বাঁচাতে প্রশাসনের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি স্বেচ্ছাসেবকদের।
পরিবেশ বন্ধু সম্মাননা পেলো সেভ দ্য এনিমেলস অফ সুসং
পরিবেশ বন্ধু সম্মাননা পেলো সেভ দ্য এনিমেলস অফ সুসং
নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি:পরিবেশ রক্ষায় নিরন্তর কাজ করায় বিশেষ সম্মাননা পেলো নেত্রকোনার দুর্গাপুরের পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য এনিমেলস অফ সুসং। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসক হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্যদের সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন নবাগত জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিস। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনির হোসেনের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর সহকারী পরিচালক পারভেজ আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর মূর্শেদা খাতুন, জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুন, নেত্রকোনা প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মুখলেসুর রহমান খান, বারসিক জেলা আঞ্চলিক সমন্বয়কারী অহিদুল রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে এনজিও প্রতিষ্ঠান বারসিকের সহযোগিতায় পরিবেশ দিবস কে ঘিরে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা সহ বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরির বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার দেয়া হয়। এর মাঝে পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য এবছর সেভ দ্য এনিমেলস অফ সুসং সহ ২টি প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচিত করেন তারা।
পরে পরিবেশ বন্ধু স্বীকৃতিস্বরূপ ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। সংগঠনের পক্ষে সম্মাননা ক্রেস্ট গ্রহণ করেন সেভ দ্য এনিমেলস অফ সুসং সংগঠনের সভাপতি রিফাত আহমেদ রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিসুল হক সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক সুশান্ত প্রাসাদ। সেভ দ্য এনিমেলস অফ সুসং এর স্বেচ্ছাসেবকরা দীর্ঘদিন ধরেই পাহাড়ি সুসং জনপদের পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। ২০২০ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে লোকালয় থেকে বিরল প্রজাতির অসংখ্য প্রাণী উদ্ধার করে আবারো বনে অবমুক্ত করে আসছে। গত আড়াই বছরে সংগঠনটি মোট ২৩টি রেস্কিউ অভিযানের মাধ্যমে বিপন্ন প্রাণীদের রক্ষা করে আসছেন। এর মাঝে অজগর সাপ ৮টি, বিরল প্রজাতির লজ্জাবতী বানর ৬টি, সন্ধি কাছিম, মেছো বাঘের ছানা, গন্ধগোকুল, গুইসাপ, গিরগিটি, গাংচিল সহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী অবমুক্ত করেছেন। স্বেচ্ছাসেবকরা বলছেন, পাহাড়ি সীমান্তবর্তী সুসং-দুর্গাপুরে ছোট-বড় অসংখ্য পাহাড়ি টিলায় একসময় গাছপালা থাকলেও কালের বিবর্তনে গাছপালা নিধনের ফলে বন্যপ্রাণীরা আবাসস্থল হারিয়ে চলে আসছে
লোকালয়ে। এর মাঝে অনেক প্রাণী মানুষের নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। প্রাণীদের রক্ষায় এবং বন্যপ্রাণীর প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে সেভ দ্য এনিমেলস অফ সুসং। তারা আরো বলেছেন, পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় সবাইকেই নিজ নিজ জায়গা থেকে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি পর্যটন সম্ভাবনাময় সুসং দুর্গাপুরকে বাঁচাতে হলে আগে সোমেশ্বরী নদীকে বাঁচাতে হবে। কারণ উপজেলার মানুষ ও প্রকৃতির প্রাণ স্বচ্ছ জলরাশি সোমেশ্বরী নদীতে মিঠা পানির শুশুক ও বিভিন্ন প্রজাতির কাছিমের অবাধ বিচরণ থাকলেও আজ পুরোপুরি বিলুপ্ত। এছাড়া গত ১২ বছর ধরে স্বার্থন্বেষী মহল ও বালুখেকোদের তাণ্ডবে পুরো নদীই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। নিষিদ্ধ বাংলা ড্রেজার বসিয়ে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনে এ নদীর ঐতিহ্যবাহী মহাশোল মাছ, জলজ প্রাণীসহ সুসং জনপদের পরিবেশে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। তাই সোমেশ্বরীতে বালু উত্তোলন বন্ধ সহ এই জনপদকে বাঁচাতে প্রশাসনের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি স্বেচ্ছাসেবকদের।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত