রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
জাতীয় পথশিশুদের কঠিন জীবন

পথশিশুদের কঠিন জীবন

মইনুল ইসলাম মিতুল : আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। মায়ের কোল হলো তাদের নিরাপদ আশ্রয়। আন্তর্জাতিক শিশু সনদ, শিশু আইনসহ দেশের প্রচলিত আইনে প্রতিটি শিশু তাদের সুষ্ঠু শারীরিক ও মানসিক বিকাশ লাভের জন্য শিক্ষা, খেলাধুলা, খাদ্য ও পুষ্টি, বিনোদন পাওয়ার অধিকার রাখে। শিশুদের সব ধরনের নির্যাতন ও বৈষম্যমূলক আচরণ থেকে আত্মরক্ষার ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে এসব সনদ ও আইনে। কিন্তু পথশিশুরা এসব অধিকার থেকে বঞ্চিত। এসব শিশু নিজেদের পথ খুঁজে পাবে কবে?

ময়লা পোশাক, জীর্ণ-শীর্ণ দেহ, এলোমেলো চুল। এবেলা খাবার জুটে তো ও বেলা নেই। কিন্তু মুখে বেশ হাসি। ৪/৫ জন মিলে চলাচল করে। ঘুমায় ফুটওভারব্রিজ কিংবা ফুটপাতে। খুব কম শিশুই জানে পরিবারের লোকজনের খোঁজ। এমনকি পরিবার কোথায় আছে সেটা জানার আগ্রহও খুব কম একটা নেই। তবে তাদের বেশ সৌহার্দ্য পূর্ণ একটা বন্ধুত্ব আছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ আদম শুমারির তথ্য মতে, দেশের প্রায় ৪ লাখের বেশি পথশিশু রয়েছে। যার অর্ধেকই অবস্থান করছে ঢাকায়। আবার জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনেস্কোর তথ্য মতে, বাংলাদেশের পথশিশুর সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য মতে, বাংলাদেশে পথশিশুর সংখ্যা ১০ লাখের বেশি।

একাকিত্বের কষ্টে, ক্ষুধার জ্বালা, মানসিক অশান্তি এমনকি হতাশার জন্য ভিড় করছে মাদকাসক্ত নামক ধ্বংসস্তূপ জীবনে। বাংলাদেশ শিশু ফোরামের তথ্য মতে, বাংলাদেশের ৮৫ শতাংশ শিশুরাই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মাদকাসক্তে আসক্ত।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সোশ্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রামের (সিপ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পথশিশুদের প্রায় ৪৪ শতাংশ মাদকাসক্ত, ৪১ শতাংশ শিশুর ঘুমানোর কোনো বিছানা নেই, ৪০ শতাংশ শিশু প্রতিদিন গোসলহীন থাকে, ৩৫ শতাংশ খোলা জায়গায় মলত্যাগ করে, ৫৪ শতাংশ অসুস্থ হলে দেখার কেউ নেই এবং ৭৫ শতাংশ শিশু অসুস্থতায় ডাক্তারের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে পারে না।

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য মতে, পথশিশুর ৮৫ ভাগ শিশু কোনো না কোনোভাবে মাদকের নেশায় জড়িত। তার মধ্যে ১৯ শতাংশ হেরোইন, ৪৪ শতাংশ ধূমপান, ২৮ শতাংশ বিভিন্ন ইয়াবা বা ট্যাবলেট জাতীয়, ৮ শতাংশ ইনজেকশন মাধ্যমে নেশা করে থাকে। বেশিরভাগ পথশিশু ১০-১৭ বছরের মধ্যেই বেশি মাদকাসক্ত হয়।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের তথ্য মতে, অন্য সব বিভাগের তুলনায় ঢাকা বিভাগেই মাদকাসক্ত ছেলের সংখ্যা ৩০ শতাংশ এবং মেয়ের সংখ্যা ১৭ শতাংশ।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অপর এক গবেষণায় দেখা গেছে, পথশিশুদের ৫১ ভাগ ‘অশ্লীল কথার শিকার’ হয়। শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয় ২০ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি যৌন হয়রানির শিকার হয় মেয়েশিশুরা। ১৪.৫ শতাংশ পথশিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। আর মেয়ে পথশিশুদের মধ্যে ৪৬ ভাগ যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার। এই অবস্থার মধ্য দিয়েই আজ এলো পথশিশু দিবস।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিশুদের সুরক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তার ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুবান্ধব আইন-নীতিমালা সংশোধন ও পরিমার্জন করেছেন। পথশিশু কেন, আগে কারো জন্মনিবন্ধন ছিল না। অথচ এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সরকার এই কাজটি শুরু করেছে। এক্ষেত্রে জটিলতাগুলো নিরসন করা হবে।


খুঁজুন