দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে আগামী ২৮ মে বৃহস্পতিবার। শুরু হয়েছে ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং রাজধানীবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। ঈদের টানা সাত দিনের সরকারি ছুটিতে রাজধানী যখন প্রায় খালি হয়ে যাবে, তখন মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে র্যাব-পুলিশের সদস্যরা তৎপর থাকবেন। প্রস্তুত থাকবে ডগ স্কোয়াড, বোম্ব ডিসপোজাল টিম। এ সময় রাস্তায় তল্লাশিচৌকি বসানোর পাশাপাশি বিপণিবিতান ও আবাসিক এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা ৭ দিনের ছুটি থাকবে। এরই মধ্যে স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। রাজধানী ঢাকা শহর তুলনামূলক ফাঁকা হয়ে যায়, তখন অনেক এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে বাসাবাড়ি খালি থাকলে চুরি, ছিনতাই বা সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা নিয়ে মানুষের উদ্বেগ বেড়ে যায়। একইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রাজধানীতে আসতে শুরু করেছে কোরবানির পশুবোঝাই গাড়ি। পাশাপাশি নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট, মহাসড়ক ও পশুর হাটে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি; মাঠে সক্রিয় পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি।
ঈদ এলেই সাধারণত সক্রিয় হয়ে ওঠে প্রতারক চক্র। ঈদুল আজহা ঘিরে এবারও ছিনতাইকারী, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, টিকিট কালোবাজারি ও সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সক্রিয় হয়ে ওঠার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে এসব অপরাধ দমনে সক্রিয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পশুবাহী যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিতে রাজধানীসহ সারা দেশের নিরাপত্তায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও নৌপুলিশ এরই মধ্যে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট, মহাসড়ক, টোলপ্লাজা ও রাজধানীর প্রবেশমুখে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন, চেকপোস্ট, সিসিটিভি মনিটরিং ও বিশেষ টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে ঈদুল আজহা উদযাপনে একগুচ্ছ পরামর্শ দিচ্ছে পুলিশ সদর দপ্তর। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ঈদযাত্রায় সাধারণ মানুষের যেকোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-সহ হেডকোয়ার্টার্সের কন্ট্রোলরুমের যোগাযোগ নম্বরের মাধ্যমে র্যাব পুলিশের তাৎক্ষণিক সহযোগিতা নিতে পারবেন। এছাড়া বেশকিছু নির্দেশনাও মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। ঈদুল আজহা কেন্দ্র করে দেশবাসীর নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিতে র্যাব, পুলিশের পাশাপাশি মাঠে আছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এরই মধ্যে রাজধানীর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে টোলপ্লাজা, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার টোলপ্লাজা এবং পদ্মা সেতু টোলপ্লাজায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশের সূত্র বলছে, ঢাকা সিটিতে ডিএমপি নিয়ন্ত্রণাধীন ২ হাজারের বেশি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং চলবে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ঢাকা মহানগরেই অতিরিক্তি ৭ হাজার পুলিশ সদস্য ডিউটিতে নিয়োজিত থাকবেন। এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, আমাদের নিয়মিত যে ডিউটি থাকে সেটার পাশাপাশি ঈদুল আজহা কেন্দ্র করে আরো কয়েকটি বিষয় মাথায় নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। পশুর হাট, ঈদের জামাত, আর্থিক প্রতিষ্ঠান-মার্কেটের নিরাপত্তা এবং ঘরমুখো মানুষ যখন রাজধানী ছেড়ে চলে যাবে, তখন তাদের আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা, ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং ঈদযাত্রায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা- এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে আমাদের অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। জনবহুল ও অপরাধপ্রবণ স্থানগুলোয় ছিনতাই, মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা প্রতিরোধে সাদা পোশাকে পুলিশ থাকবে। সার্বক্ষণিক সিসিটিভির মাধ্যমে মনিটরিং চলবে। ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাটকেন্দ্রিক আমাদের কন্ট্রোলরুম থাকবে। ছিনতাইকারী মালম পার্টি, অজ্ঞান পার্টি প্রতিরোধের জন্য আমাদের টহল টিম থাকবে, সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এছাড়া নির্বিঘ্নে যাতায়াতের জন্য ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থা থাকবে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ঢাকার এক্সিট-এন্ট্রি পয়েন্টগুলোয় চেকপোস্ট রয়েছে।
উপপুলিশ কমিশনার নাসিরুদ্দিন বলেন, পুলিশের নিয়ন্ত্রণে ঢাকা সিটিতে ২ হাজারের বেশি সিসি ক্যামেরা আছে। সেগুলোর মাধ্যমে আমরা ঢাকা সিটির গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো মনিটর করব। কোথাও কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি লক্ষ করলে সেখানে আমরা দ্রুত রেস্পন্স করব। ঈদকেন্দ্রিক রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্তি ৭ হাজার পুলিশ সদস্য ডিউটিতে নিয়জিত থাকবেন জানিয়ে তিনি বলেন, এর মধ্যে পশুর হাটকেন্দ্রিক ২ হাজার ৪৮৯ জন। এ ডিউটি চলবে ২৮ মে পর্যন্ত। এরপর থেকে আবার ঈদ জামাত এবং ঈদ-পরবর্তী আলাদা রোস্টার (সিডিউল) তৈরি করা হবে। এছাড়া ট্রাফিক পুলিশের ডেপ্লয়মেন্ট আলাদা হবে। বর্তমানে ডিএমপিতে ৩২ হাজারের কিছু বেশি সদস্য আছেন। এ ৩২ হাজার পুলিশ সদস্য থেকে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ ছুটিতে যেতে পারবেন।
র্যাবের মুখপাত্র উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ঢাকা শহরসহ সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোয় চেকপোস্ট বসানো হবে। এ বাড়তি চেকপোস্টের পাশাপাশি আমাদের অতিরিক্ত টহলের ব্যবস্থা থাকছে। ঈদের সময় যেন কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম না হয় সে বিষয় মাথায় রেখে কার্যক্রম সাজানো হচ্ছে। ছিনতাই-রাহাজানি যেকোনো সময় হয় সেই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই আমাদের টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তিনি বলেন, বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চ টার্মিনালগুলোয় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় কন্ট্রোলরুম স্থাপনের মাধ্যমে র্যাব সদস্যদের সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন ও সাধারণ মানুষের যেকোনো অভিযোগে গুরুত্ব সহকারে প্রতিকারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে গাবতলী, সায়েদাবাদ, রেলস্টেশন, লঞ্চ টার্মিনালগুলোয় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি ঈদে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমাদের ডগ স্কোয়াড, বোম্ব ডিসপোজাল টিম সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত থাকবে।
এছাড়া র্যাব হেডকোয়ার্টার্সের সাইবার মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক চলমান থাকবে। মহাসড়কে পশুবাহী যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে র্যাব। সবাইকে সচেতন থাকার পাশাপাশি কোনো সন্দেহজনক তথ্য বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দেখলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা র্যাবকে জানানোর আহ্বানও জানান তিনি। আসন্ন ঈদুল আজহায় যানজট নিয়ন্ত্রণ ও ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে যাত্রার বিষয়ে বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন উপলক্ষে যানজট নিয়ন্ত্রণ ও জনসাধারণের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঢাকার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে টোলপ্লাজা, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার টোলপ্লাজা এবং পদ্মা সেতু টোলপ্লাজায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। যানজট নিয়ন্ত্রণ, জনসাধারণের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ টোলপ্লাজা, মহাসড়ক ও যানজটপ্রবণ এলাকায় ঈদের ৭ দিন আগে থেকে শুরু করে ঈদের তৃতীয় দিন পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে গত বুধবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত মিট দ্য প্রেসে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর হাট, ঈদ জামাত, শপিংমল ও আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশনে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঈদের ছুটিতে নগরীর নিরাপত্তায় অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হবে। পুলিশ কমিশনার বলেন, আসন্ন ঈদ ঘিরে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, ছিনতাইকারী ও জালনোট প্রতিরোধে ডিবি ও থানা পুলিশকে সক্রিয় করা হয়েছে। ডিএমপির প্রতিটি থানায় মতবিনিময় সভা করা হচ্ছে। আমরা ঢাকার নাগরিকদের মতামত নিয়ে সর্বোত্তম পুলিশি সেবা দিতে চাই। অনেক ক্ষেত্রে জনসাধারণের সহযোগিতা ছাড়া আমাদের কাজ করা দুরূহ। চাঁদাবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সমাজের সবাই মিলে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
জরুরি প্রয়োজনে পুলিশের পরামর্শ : নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপনের জন্য পরিকল্পিত ভ্রমণ, দ্রুতগতিতে চালাতে গাড়ি চালকদের তাগাদা না দেওয়া, ওভারটেকিং না করা এবং রেললাইনের পাশে পশুর হাট না বসাতে জনসাধারণের প্রতি পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। ঈদে যারা বাড়ি যাবেন, তারা ঈদের আগে ও পরে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ভ্রমণ পরিকল্পনা করুন। এতে ট্রেন, বাস, লঞ্চ ও ফেরিঘাটের শেষ মুহূর্তের মারাত্মক ভিড় এড়ানো সহজ হবে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে বাস, ট্রেন, লঞ্চ ও স্টিমারের ছাদে এবং ট্রাক, পিকআপ ও অন্যান্য পণ্যবাহী যানবাহনে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন। চালক যেন নিয়ম মেনে গাড়ি চালায় এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং না করে, সেদিকে লক্ষ রাখুন। অপেশাদার, ক্লান্ত বা অসুস্থ চালক যেন গাড়ি না চালায় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। হাইওয়েতে নসিমন, করিমন, ভটভটি ইত্যাদি যানবাহনে চলাচল পরিহার করুন। হাইওয়েতে ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি চালাবেন না। ট্রেনে ভ্রমণের সময় পাথর নিক্ষেপ সম্পর্কে সতর্ক থাকুন, মালামাল নিজ দায়িত্বে রাখুন। বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌযানে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন। দুর্ঘটনাকবলিত নৌযান শনাক্তকরণের লক্ষ্যে নৌযান মালিকরা নৌযানগুলোয় ১০০-১৫০ ফুট লম্বা দড়িসংবলিত বয়া এবং লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা রাখুন। লঞ্চ ও ফেরিতে ওঠানামার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করুন। যাত্রাপথে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টিসহ প্রতারক চক্রের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। কাউকে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি বা প্রতারক চক্রের সদস্য সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিক পুলিশকে খবর দিন বা ৯৯৯-এ কল করুন। অপরিচিত কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে খাবার বা পানীয় গ্রহণে সতর্ক থাকুন।
কন্ট্রোলরুম : আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের জন্য যেকোনো নিরাপত্তায় প্রয়োজনে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের কন্ট্রোলরুম (০১৩২০০০১৩০০, ০১৩২০০০১২৯৯), হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স (০১৩২০১৮২৫৯৮), রেলওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স (০১৩২০১৭৭৫৯৮), নৌপুলিশ হেডকোয়ার্টার্স (০১৩২০১৬৯৫৯৮), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র্যাব (০১৭৭৭৭২০০২৯)-এসব নম্বরে এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করুন।
রাজধানীতে নজরদারিতে ২ হাজার সিসি ক্যামেরা
রাজধানীতে নজরদারিতে ২ হাজার সিসি ক্যামেরা
দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে আগামী ২৮ মে বৃহস্পতিবার। শুরু হয়েছে ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং রাজধানীবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। ঈদের টানা সাত দিনের সরকারি ছুটিতে রাজধানী যখন প্রায় খালি হয়ে যাবে, তখন মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে র্যাব-পুলিশের সদস্যরা তৎপর থাকবেন। প্রস্তুত থাকবে ডগ স্কোয়াড, বোম্ব ডিসপোজাল টিম। এ সময় রাস্তায় তল্লাশিচৌকি বসানোর পাশাপাশি বিপণিবিতান ও আবাসিক এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা ৭ দিনের ছুটি থাকবে। এরই মধ্যে স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। রাজধানী ঢাকা শহর তুলনামূলক ফাঁকা হয়ে যায়, তখন অনেক এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে বাসাবাড়ি খালি থাকলে চুরি, ছিনতাই বা সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা নিয়ে মানুষের উদ্বেগ বেড়ে যায়। একইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রাজধানীতে আসতে শুরু করেছে কোরবানির পশুবোঝাই গাড়ি। পাশাপাশি নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট, মহাসড়ক ও পশুর হাটে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি; মাঠে সক্রিয় পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি।ঈদ এলেই সাধারণত সক্রিয় হয়ে ওঠে প্রতারক চক্র। ঈদুল আজহা ঘিরে এবারও ছিনতাইকারী, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, টিকিট কালোবাজারি ও সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সক্রিয় হয়ে ওঠার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে এসব অপরাধ দমনে সক্রিয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পশুবাহী যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিতে রাজধানীসহ সারা দেশের নিরাপত্তায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও নৌপুলিশ এরই মধ্যে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট, মহাসড়ক, টোলপ্লাজা ও রাজধানীর প্রবেশমুখে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন, চেকপোস্ট, সিসিটিভি মনিটরিং ও বিশেষ টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।এদিকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে ঈদুল আজহা উদযাপনে একগুচ্ছ পরামর্শ দিচ্ছে পুলিশ সদর দপ্তর। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ঈদযাত্রায় সাধারণ মানুষের যেকোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-সহ হেডকোয়ার্টার্সের কন্ট্রোলরুমের যোগাযোগ নম্বরের মাধ্যমে র্যাব পুলিশের তাৎক্ষণিক সহযোগিতা নিতে পারবেন। এছাড়া বেশকিছু নির্দেশনাও মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। ঈদুল আজহা কেন্দ্র করে দেশবাসীর নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিতে র্যাব, পুলিশের পাশাপাশি মাঠে আছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এরই মধ্যে রাজধানীর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে টোলপ্লাজা, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার টোলপ্লাজা এবং পদ্মা সেতু টোলপ্লাজায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।পুলিশের সূত্র বলছে, ঢাকা সিটিতে ডিএমপি নিয়ন্ত্রণাধীন ২ হাজারের বেশি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং চলবে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ঢাকা মহানগরেই অতিরিক্তি ৭ হাজার পুলিশ সদস্য ডিউটিতে নিয়োজিত থাকবেন। এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, আমাদের নিয়মিত যে ডিউটি থাকে সেটার পাশাপাশি ঈদুল আজহা কেন্দ্র করে আরো কয়েকটি বিষয় মাথায় নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। পশুর
হাট, ঈদের জামাত, আর্থিক প্রতিষ্ঠান-মার্কেটের নিরাপত্তা এবং ঘরমুখো মানুষ যখন রাজধানী ছেড়ে চলে যাবে, তখন তাদের আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা, ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং ঈদযাত্রায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা- এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে আমাদের অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। জনবহুল ও অপরাধপ্রবণ স্থানগুলোয় ছিনতাই, মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা প্রতিরোধে সাদা পোশাকে পুলিশ থাকবে। সার্বক্ষণিক সিসিটিভির মাধ্যমে মনিটরিং চলবে। ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাটকেন্দ্রিক আমাদের কন্ট্রোলরুম থাকবে। ছিনতাইকারী মালম পার্টি, অজ্ঞান পার্টি প্রতিরোধের জন্য আমাদের টহল টিম থাকবে, সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এছাড়া নির্বিঘ্নে যাতায়াতের জন্য ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থা থাকবে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ঢাকার এক্সিট-এন্ট্রি পয়েন্টগুলোয় চেকপোস্ট রয়েছে।উপপুলিশ কমিশনার নাসিরুদ্দিন বলেন, পুলিশের নিয়ন্ত্রণে ঢাকা সিটিতে ২ হাজারের বেশি সিসি ক্যামেরা আছে। সেগুলোর মাধ্যমে আমরা ঢাকা সিটির গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো মনিটর করব। কোথাও কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি লক্ষ করলে সেখানে আমরা দ্রুত রেস্পন্স করব। ঈদকেন্দ্রিক রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্তি ৭ হাজার পুলিশ সদস্য ডিউটিতে নিয়জিত থাকবেন জানিয়ে তিনি বলেন, এর মধ্যে পশুর হাটকেন্দ্রিক ২ হাজার ৪৮৯ জন। এ ডিউটি চলবে ২৮ মে পর্যন্ত। এরপর থেকে আবার ঈদ জামাত এবং ঈদ-পরবর্তী আলাদা রোস্টার (সিডিউল) তৈরি করা হবে। এছাড়া ট্রাফিক পুলিশের ডেপ্লয়মেন্ট আলাদা হবে। বর্তমানে ডিএমপিতে ৩২ হাজারের কিছু বেশি সদস্য আছেন। এ ৩২ হাজার পুলিশ সদস্য থেকে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ ছুটিতে যেতে পারবেন।র্যাবের মুখপাত্র উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ঢাকা শহরসহ সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোয় চেকপোস্ট বসানো হবে। এ বাড়তি চেকপোস্টের পাশাপাশি আমাদের অতিরিক্ত টহলের ব্যবস্থা থাকছে। ঈদের সময় যেন কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম না হয় সে বিষয় মাথায় রেখে কার্যক্রম সাজানো হচ্ছে। ছিনতাই-রাহাজানি যেকোনো সময় হয় সেই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই আমাদের টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তিনি বলেন, বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চ টার্মিনালগুলোয় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় কন্ট্রোলরুম স্থাপনের মাধ্যমে র্যাব সদস্যদের সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন ও সাধারণ মানুষের যেকোনো অভিযোগে গুরুত্ব সহকারে প্রতিকারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে গাবতলী, সায়েদাবাদ, রেলস্টেশন, লঞ্চ টার্মিনালগুলোয় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি ঈদে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমাদের ডগ স্কোয়াড, বোম্ব ডিসপোজাল টিম সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত থাকবে।এছাড়া র্যাব হেডকোয়ার্টার্সের সাইবার মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক চলমান থাকবে। মহাসড়কে পশুবাহী যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে র্যাব। সবাইকে সচেতন থাকার পাশাপাশি কোনো সন্দেহজনক তথ্য বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দেখলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা র্যাবকে জানানোর আহ্বানও জানান তিনি। আসন্ন ঈদুল আজহায় যানজট নিয়ন্ত্রণ ও ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে যাত্রার বিষয়ে বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন উপলক্ষে যানজট নিয়ন্ত্রণ ও জনসাধারণের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঢাকার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে টোলপ্লাজা, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার টোলপ্লাজা এবং পদ্মা সেতু টোলপ্লাজায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। যানজট নিয়ন্ত্রণ, জনসাধারণের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ টোলপ্লাজা, মহাসড়ক ও যানজটপ্রবণ এলাকায় ঈদের ৭ দিন আগে থেকে শুরু করে ঈদের
তৃতীয় দিন পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।এদিকে গত বুধবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত মিট দ্য প্রেসে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর হাট, ঈদ জামাত, শপিংমল ও আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশনে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঈদের ছুটিতে নগরীর নিরাপত্তায় অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হবে। পুলিশ কমিশনার বলেন, আসন্ন ঈদ ঘিরে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, ছিনতাইকারী ও জালনোট প্রতিরোধে ডিবি ও থানা পুলিশকে সক্রিয় করা হয়েছে। ডিএমপির প্রতিটি থানায় মতবিনিময় সভা করা হচ্ছে। আমরা ঢাকার নাগরিকদের মতামত নিয়ে সর্বোত্তম পুলিশি সেবা দিতে চাই। অনেক ক্ষেত্রে জনসাধারণের সহযোগিতা ছাড়া আমাদের কাজ করা দুরূহ। চাঁদাবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সমাজের সবাই মিলে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।জরুরি প্রয়োজনে পুলিশের পরামর্শ : নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপনের জন্য পরিকল্পিত ভ্রমণ, দ্রুতগতিতে চালাতে গাড়ি চালকদের তাগাদা না দেওয়া, ওভারটেকিং না করা এবং রেললাইনের পাশে পশুর হাট না বসাতে জনসাধারণের প্রতি পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। ঈদে যারা বাড়ি যাবেন, তারা ঈদের আগে ও পরে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ভ্রমণ পরিকল্পনা করুন। এতে ট্রেন, বাস, লঞ্চ ও ফেরিঘাটের শেষ মুহূর্তের মারাত্মক ভিড় এড়ানো সহজ হবে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে বাস, ট্রেন, লঞ্চ ও স্টিমারের ছাদে এবং ট্রাক, পিকআপ ও অন্যান্য পণ্যবাহী যানবাহনে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন। চালক যেন নিয়ম মেনে গাড়ি চালায় এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং না করে, সেদিকে লক্ষ রাখুন। অপেশাদার, ক্লান্ত বা অসুস্থ চালক যেন গাড়ি না চালায় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। হাইওয়েতে নসিমন, করিমন, ভটভটি ইত্যাদি যানবাহনে চলাচল পরিহার করুন। হাইওয়েতে ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি চালাবেন না। ট্রেনে ভ্রমণের সময় পাথর নিক্ষেপ সম্পর্কে সতর্ক থাকুন, মালামাল নিজ দায়িত্বে রাখুন। বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন।দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌযানে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন। দুর্ঘটনাকবলিত নৌযান শনাক্তকরণের লক্ষ্যে নৌযান মালিকরা নৌযানগুলোয় ১০০-১৫০ ফুট লম্বা দড়িসংবলিত বয়া এবং লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা রাখুন। লঞ্চ ও ফেরিতে ওঠানামার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করুন। যাত্রাপথে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টিসহ প্রতারক চক্রের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। কাউকে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি বা প্রতারক চক্রের সদস্য সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিক পুলিশকে খবর দিন বা ৯৯৯-এ কল করুন। অপরিচিত কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে খাবার বা পানীয় গ্রহণে সতর্ক থাকুন।কন্ট্রোলরুম : আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের জন্য যেকোনো নিরাপত্তায় প্রয়োজনে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের কন্ট্রোলরুম (০১৩২০০০১৩০০, ০১৩২০০০১২৯৯), হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স (০১৩২০১৮২৫৯৮), রেলওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স (০১৩২০১৭৭৫৯৮), নৌপুলিশ হেডকোয়ার্টার্স (০১৩২০১৬৯৫৯৮), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র্যাব (০১৭৭৭৭২০০২৯)-এসব নম্বরে এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করুন।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত