শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
জাতীয় সাব-ইন্সপেক্টর মোঃ আসাদুজ্জামান খান শেখ’র তদন্তে রক্ষাপে‌ল দুটি পরিবার

সাব-ইন্সপেক্টর মোঃ আসাদুজ্জামান খান শেখ’র তদন্তে রক্ষাপে‌ল দুটি পরিবার

মুজাহিদ সরকারঃ

দুবাই থেকে সরকারী শুল্ক কর ফাঁকি দিয়ে অবৈধ পথে চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্নলংকার, হিরক ও পাথর খচিত অলংকার তদন্তে দায়িত্ব দেওয়া হয় বিমানবন্দর থানার(ডিএমপি,ঢাকা) সাব ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান শেখ। যার মামলা নং ২০ তাং ১৫ নভেম্বর ২০২১ ধারা ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫-বি এর ১(বি)/২৫-ডি।

দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান  তিনি চোরাচালান তদন্ত সম্পর্কে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, দিনটি ছিল ১৫ নভেম্বর ২০২১,আমি মামলার তদন্ত দায়িত্ব ভার গ্রহণ করে ঘটনাস্থল পরিদর্শন এর উদ্দেশ্যে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর কাস্টমস আগমনী হলের রওনা করে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি বাদী কে.এম রেদওয়ানুল ইসলাম সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার সহিত ঘটনা সম্পর্কে অবহিত হই, খসড়া মানচিত্র অংকন করতে করি এবং আসামী শাহজাহান মিয়া পিতাঃ আবদুল হামিদ মাতাঃ রাজিয়া বেগম, গ্রামঃ জগৎপুর,থানাঃ বাহুবল, জেলাঃ হবিগঞ্জ কে সাময়িক জিজ্ঞাসাবাদ করি। জানিতে পারি আসামী সরকারী শুল্ক কর ফাঁকি দিয়ে অবৈধ পথে চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্নলংকার, হিরক ও পাথর খচিত অলংকার নিয়ে এসেছেন দুবাই থেকে যাহার মোট ওজন ২৫৮৫.১৮৬গ্ৰাম মুল্য প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ। আসামী শাহজাহান মিয়া কে থানায় নিয়ে আসি এবং বাদীর দেওয়া তথ্য মতে এবং এজহারের তথ্য মতে ২নং আসামী জাহিদু্ল ইসলাম (২৮), পিতাঃ জামাল উদ্দিন, মাতাঃ শিউলি বেগম, গ্রামঃ মহিচাইল হাজীবাড়ি, থানাঃ চান্দিনা, জেলাঃ কুমিল্লা। তিনি উল্লেখিত চোরাচালানের মালামাল রিসিভ করিতে আসিয়াছেন। তাহাকে যথাযথ ভাবে শাহজালাল বিমান বন্দরে ২নং ক্যানপি হতে গ্রেফতার করিয়া থানায় নিয়ে আসি এবং ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করিলে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। রিমান্ডে ১নং আসামী শাহজাহান মিয়া বারংবার বলিতে থাকে তার হ্যান্ড লাগেজ ছিল একটি ট্রলি ব্যাগ যাহা দুবাই হতে আসার সময় সিকিউরিটি চেকের স্থলে কাহার ও সংঙ্গে বদল হইয়া যায় এবং টলি ব্যাগ দুটি ছিল একই রংএর। তাহার ট্রালি ব্যাগ না পেয়ে উক্ত ট্রলি ব্যাগটি নিয়া আসি। এছাড়া আসার সময় ২নং আসামী জিহাদ এর বাবা এবং ভাই তাদের দেওয়া মতে দুইটি স্বর্ণবার ও ৯৬ গ্রাম স্বর্ণলংকার নিয়ে আসে যাহার বৈধ শুল্ক কর- ঢাকা আন্তঃ বিমানবন্দর এ পরিশোধ করেন। উক্ত শুল্ককর পরিশোধের পর ১নং আসামী শাহজাহান গ্রীন চ্যানেল অতিক্রমের সময় স্বানিং এ তার ট্রলিব্যাগে উক্ত স্বর্ণলংকার, হীরক ও পাথর খচিত অলংকার সনাক্ত হয়। সনাক্তকৃত অলংকার হইল ১৮টা লেকলেন্স ৩১টি চেইন স্টোন ও ট্যাগ ‌সহ যাহার ওজন ৭১৪.৮৭৬গ্ৰাম। ২৭৮টি আংটি যাহার ওজন (১৫১০.৩২ গ্রাম),৬টি চেইন(৩১.৯৯ গ্রাম),  মোট ওজন ২২৫৭.১৮৬ গ্রাম। আরও ঘোষনাকৃত ২টি স্বর্ণবার ২৩২গ্ৰাম এবং লাগেজ সুবিধা প্রাপ্ত ৯৬ গ্রাম স্বর্ণলংকার সহ মোট ওজন ২৫৮৫.১৮৬ গ্রাম সম্পূর্ণটাই অবৈধ  ঘোষণা করা হয়। 

রিমান্ডে শেষ দিনে আমি ১নং আসামী শাহজাহান এর ট্রলিব্যাগ চেক করিলে ১টি Blank Invoice খুঁজে পাই। যাহা VSK Diamond Jewelry নামক একটি প্রতিষ্ঠানের। উক্ত Invoice এ থাকা E-mail ID [email protected] এ একটি ইমেল করি আমার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রেখে। সেখানে আমি উল্লেখ করি আমি দুবাই বিমানবন্দরে একটি ট্রলিব্যাগ পেয়েছি যাহাতে উক্ত অলংকার আছে এবং সেগুলো ফেরত দিতে চাই। ই-মেইল করিবার পর VSK Diamond jewelry এর মালিক Mr. Vishank Sanjay kothari আমার ইমেল এর জবাব দেন এবং বলেন তিনি ও তার সহকর্মী দুবাই থেকে বাহারাইন যাবার সময় দুবাই বিমানবন্দরে তাদের হ্যান্ড লাগেজ হিসাবে উক্ত ট্রলি ব্যাগটি হারিয়ে ফেলেন। যাহাতে সে সমস্ত অলংকার ছিলো সেগুলো দুবাই বিমানবন্দর এ ঘোষণাকৃত এবং ট্রলি ব্যাগ হারানোর পরে তিনি পুলিশ এ অভিযোগ করেছেন বলে জানান। পরবর্তীতে আমি আমার উর্ধতন পুলিশ  কর্মকর্তা উপ পুলিশ কমিশনার জনাব তাপস স্যার এবং সিনিয়র সহকারী উপ পুলিশ কমিশনার জনাব সাইফুল স্যার কে জানালে আমাকে দিক নির্দেশনা দেশ পরবর্তী communication এ আমি কি লিখতে পারি। আমি পরবর্তীতে আমার পরিচয় দিয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুক ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দেই। তিনি পরবর্তীতে দুবাই পররাষ্ট্র দপ্তরের মাধ্যমে দুবাই  বাংলাদেশ কনসুলেট জেনারেল বরাবর চিঠি লিখেন। বর্তমানে মামলাটি আমি কতৃপক্ষের নির্দেশে  ফাইনাল রিপোর্ট তথ্য শর্ত ভুল(Mistake of fact) নং ০৭ তাং ৩১ মার্চ ২০২২ বিমানবন্দর থানা- যাহা আদালতে প্রেরন করেছি। 

আসামী শাহজাহান মিয়া এবং জাহিদুল মুক্তি পেয়ে পরিবারের কাছে ফিরে গেছেন।

খুঁজুন