শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
রাজনীতি সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন

সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের কিংবদন্তি নেতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, সাবেক সফল শিল্পমন্ত্রী এবং বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না লিল্লাহি রাজিউন)। 

তোফায়েল আহমেদ ছিলেন একটি ইতিহাস, একটি সংগ্রামের নাম, একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অগ্রযাত্রার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে তিনি রেখেছেন অসামান্য অবদান। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব, প্রখর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, ত্যাগ ও আদর্শিক দৃঢ়তা তাঁকে দেশের রাজনীতিতে এক অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছে।

তাঁর প্রস্থান শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নয়, সমগ্র জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি থাকবেন দেশপ্রেম, আদর্শ ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার এক অনুকরণীয় প্রতীক হয়ে।

তোফায়েল আহমেদের জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন আজ বিকেল চারটায় বলেন, তোফায়েল আহমেদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন।

পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনেরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তোফায়েল আহমেদ। মৃত্যুকালে তিনি এক মেয়েসহ অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর তোফায়েল আহমেদ নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

তোফায়েল আহমেদ ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি ছিলেন। ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা রেখে দেশজুড়ে পরিচিতি পান তিনি।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে তোফায়েল আহমেদ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি নয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একাধিকবার মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ছিলেন।

খুঁজুন