মাজহারুল ইসলাম মাসুম, সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক :
গোপালগঞ্জে
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগের হামলার ঘটনায়
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ব্যর্থতার কারণ নিয়ে
চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
এ ঘটনায়
সরকারের উচ্চপর্যায়ে উষ্মা প্রকাশ করা হয়েছে। নিরাপত্তা হুমকির সুনির্দিষ্ট একাধিক
তথ্য থাকার পরও কেন এ ধরনের হামলা ঠেকানো গেল না কিংবা আগে থেকে তথ্য থাকার পরও
কেন হামলা এড়ানো গেল না, তা নিয়ে চলছে আলোচনা।
পুলিশ সদর
দপ্তরের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের প্রথম দিকে গোপালগঞ্জে
এনসিপির পদযাত্রা ও সমাবেশের নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে পুলিশের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়।
মাঠপর্যায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মনিটরিং করে সার্বিক গোয়েন্দা রিপোর্ট
প্রস্তুত করা হয়। পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চও (এসবি) এ বিষয়ে রিপোর্ট দেয়। সব
রিপোর্টে নিরাপত্তা হুমকির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। ঘটনার আগের দিন রাতে শেখ হাসিনার
বক্তব্য নিয়েও আলোচনা হয়।
পুলিশ সদর
দপ্তরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উপস্থিতিতে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা
হয়। আইজিপিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন ওই বৈঠকে। সেখানে
উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জের এসপি মিজানুর রহমান এবং ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল
করিম মল্লিক। উপদেষ্টার উপস্থিতিতে গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচির
নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের
(এপিবিএন) ১০০ সদস্য মোতায়েনের কথা জানানো হয় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে। অন্যদিকে
আরআরএফ (রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স) থেকে ১৫০ সদস্য মোতায়েনের কথা জানানো হয় রেঞ্জ
অফিসের পক্ষ থেকে। পাশাপাশি জেলা পুলিশের নিয়মিত ফোর্স দায়িত্ব পালন করবে বলে
সিদ্ধান্ত হয়।
জেলা
পুলিশ ফোর্সের পাশাপাশি অতিরিক্ত ২৫০ সদস্য দিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা
সম্ভব বলে জানানো হয়। মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা আস্থাশীল
থাকার পরও কীভাবে এ হামলা হলো—খোদ পুলিশের উচ্চপর্যায়ে তা নিয়ে চলছে আলোচনা। বলা হচ্ছে,
মাঠপর্যায় থেকে চাইলে আরো বেশি ফোর্স দেওয়া যেত। কিন্তু যে পরিমাণে চাওয়া হয়েছে,
সে অনুযায়ী ফোর্স মোতায়েন করার পরও কেন এ ধরনের হামলা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা
গেছে, সমাবেশস্থলে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সদস্য ছিল সব মিলিয়ে ৩০ জনের
মতো। অথচ সেখানে পুলিশ ছিল ৬০ জনের মতো। মাত্র ৩০ জন হামলা ঠেকাতে পারল না দ্বিগুণসংখ্যক পুলিশ
ফোর্স। এ নিয়ে গতকাল ব্যাপক অসন্তোষ প্রকাশ করেন পুলিশের আইজি বাহারুল আলম। এ
বিষয়ে তদন্ত করার নিদের্শ দেন তিনি। মাঠপর্যায় থেকে চাহিদা অনুযায়ী ফোর্স দেওয়া
হলেও কেন এ হামলা ঠেকানো গেল না, তা নিয়ে অসন্তুষ্ট আইজিপি। অন্তত ১০ দিন আগেই
গোয়েন্দা রিপোর্ট পাওয়ার পরও কোনো ধরনের ঝামেলা কাম্য হতে পারে না বলে মনে করছে
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।
ঊর্ধ্বতন
একাধিক কর্মকর্তা জানান, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার সন্ধ্যায়
ইউরোপের একটি দেশে পলাতক ও বসবাসরত আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে গ্রুপ কলে মিটিং
করেন। গোয়েন্দা তথ্যে বলা হয়েছিল, তিন জায়গায় গাড়িবহরে হামলা হতে পারে। এর মধ্যে
কোটালীপাড়া ঢুকতে, জেলা পুলিশ লাইনসের আগে এবং পুলিশ লাইনস পার হওয়ার পর মোড়ে
হামলার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়।
আরো বলা
হয়, গোপালগঞ্জ সদর থানার মাঝিগাতী ঢালনিয়া ব্রিজের গোড়ায় ১০০ থেকে ১৫০ জন লোক জড়ো
হয়ে হামলা করবে। কাজুলিয়া ও কাটি ইউনিয়নের ৭০০-৮০০ জন লোক কাটি ইউনিয়নের খেলনা
ব্রিজের নিচে জড়ো হয়ে হামলা চালাবে। কাশিয়ানী উপজেলার মাঝিগাতী বাসস্ট্যান্ডে
লোকজন জড়ো হয়ে সেখানেও হামলা চালাবে বলে আওয়ামী লীগ পরিকল্পনা করে।
সর্বশেষ
আইজপির নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরো ১০০ সদস্য পাঠানো হয়
পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে দুপুরের পর পুলিশ সদর দপ্তরে
ছুটে যান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
এবং স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ভূঁইয়া সজীব। আগে থেকেই সদর দপ্তরে ছিলেন
আইজিপি। তারা সেখানে বসে গোপালগঞ্জের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিভিন্ন
দিকনির্দেশনা দেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও সেনবিাহিনী মিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে
সক্ষম হয়।
আইজিপি
বাহারুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ধৈর্য ধরে পুলিশ গোপালগঞ্জের পরিস্থিতি সামলানোর
চেষ্টা করেছে। গোপালগঞ্জে আমরা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করিনি, তাই আমাদের একটু
সময় লেগেছে। উচ্ছৃঙ্খলতা যা হয়েছে, সেটা যতটুকু সম্ভব আমরা ধৈর্যের সঙ্গে প্রশমন
করার চেষ্টা করছি। পুরো জিনিসটা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পরে আরো পুলিশ ফোর্স পাঠনো
হয়। অথচ সংঘর্ষের ঘটনায় চার জনের
মৃতদেহ হাসপাতালে এসেছে বলে জানিয়েছেন জেলার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের
তত্ত্বাবধায়ক।
- জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি'র
আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, "মুজিববাদি সন্ত্রাসিরা জাতীয় নাগরিক
পার্টি এবং তার নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে জঙ্গি কায়দায় হামলা করেছে"। এই
ঘটনায় জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি
বৃহস্পতিবার সারা দেশে বিক্ষোভ পালনের ঘোষণা দিয়েছে তারা।
এক নজরে গোপালগঞ্জের অবস্থা :
- গোপালগঞ্জে রাত আটটা থেকে শুরু
হয়েছে কারফিউ। শহরজুড়ে টহল দিচ্ছে র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী।
- গোপালগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় চার
জনের মৃতদেহ হাসপাতালে এসেছে বলে জানিয়েছেন জেলার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক।
- বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক
বাহারুল আলম জানান, ধৈর্য ধরে তারা গোপালগঞ্জের পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা
করছেন। তার দাবি, “আমরা
লিথ্যাল (প্রাণঘাতী অস্ত্র) কোনো কিছু ব্যবহার করছি না, তাই আমাদের একটু সময়
লাগছে।''
- এনসিপি’র কর্মসূচি ঘিরে গোপালগঞ্জে
সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে অন্তর্বর্তীকালীন
সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
- সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায়
গোপালগঞ্জ ছাড়েন জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির নেতাকর্মীরা। বিকাল ৫টার পরে
তাদের গোপালগঞ্জ ছেড়ে বের হওয়ার কথা বিবিসি বাংলাকে জানান সংগঠনটির যুগ্ম
সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহিন।
- গোপালগঞ্জে এনসিপি'র পূর্বঘোষিত ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় গভীর
উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
হামলাকারীদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ারও দাবি
জানিয়েছে বিএনপি।
- বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে নিবন্ধন স্থগিত হওয়া
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক 'নৌকা' সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় বাড়ছে নৃশংসতা
সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় বাড়ছে নৃশংসতা
মাজহারুল ইসলাম মাসুম, সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক :গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগের হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ব্যর্থতার কারণ নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।এ ঘটনায় সরকারের উচ্চপর্যায়ে উষ্মা প্রকাশ করা হয়েছে। নিরাপত্তা হুমকির সুনির্দিষ্ট একাধিক তথ্য থাকার পরও কেন এ ধরনের হামলা ঠেকানো গেল না কিংবা আগে থেকে তথ্য থাকার পরও কেন হামলা এড়ানো গেল না, তা নিয়ে চলছে আলোচনা।পুলিশ সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের প্রথম দিকে গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা ও সমাবেশের নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে পুলিশের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়। মাঠপর্যায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মনিটরিং করে সার্বিক গোয়েন্দা রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়। পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চও (এসবি) এ বিষয়ে রিপোর্ট দেয়। সব রিপোর্টে নিরাপত্তা হুমকির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। ঘটনার আগের দিন রাতে শেখ হাসিনার বক্তব্য নিয়েও আলোচনা হয়।পুলিশ সদর দপ্তরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উপস্থিতিতে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। আইজিপিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন ওই বৈঠকে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জের এসপি মিজানুর রহমান এবং ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক। উপদেষ্টার উপস্থিতিতে গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচির নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ১০০ সদস্য মোতায়েনের কথা জানানো হয় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে। অন্যদিকে আরআরএফ (রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স) থেকে ১৫০ সদস্য মোতায়েনের কথা জানানো হয় রেঞ্জ অফিসের পক্ষ থেকে। পাশাপাশি জেলা পুলিশের নিয়মিত ফোর্স দায়িত্ব পালন করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।জেলা পুলিশ ফোর্সের পাশাপাশি অতিরিক্ত ২৫০ সদস্য দিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব বলে জানানো হয়। মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা আস্থাশীল থাকার পরও কীভাবে এ হামলা হলো—খোদ পুলিশের উচ্চপর্যায়ে তা নিয়ে চলছে আলোচনা। বলা হচ্ছে, মাঠপর্যায় থেকে চাইলে আরো বেশি ফোর্স দেওয়া যেত। কিন্তু যে পরিমাণে চাওয়া হয়েছে, সে অনুযায়ী ফোর্স মোতায়েন করার পরও কেন এ ধরনের হামলা হলো,
তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।জানা গেছে, সমাবেশস্থলে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সদস্য ছিল সব মিলিয়ে ৩০ জনের মতো। অথচ সেখানে পুলিশ ছিল ৬০ জনের মতো। মাত্র ৩০ জন হামলা ঠেকাতে পারল না দ্বিগুণসংখ্যক পুলিশ ফোর্স। এ নিয়ে গতকাল ব্যাপক অসন্তোষ প্রকাশ করেন পুলিশের আইজি বাহারুল আলম। এ বিষয়ে তদন্ত করার নিদের্শ দেন তিনি। মাঠপর্যায় থেকে চাহিদা অনুযায়ী ফোর্স দেওয়া হলেও কেন এ হামলা ঠেকানো গেল না, তা নিয়ে অসন্তুষ্ট আইজিপি। অন্তত ১০ দিন আগেই গোয়েন্দা রিপোর্ট পাওয়ার পরও কোনো ধরনের ঝামেলা কাম্য হতে পারে না বলে মনে করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা জানান, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইউরোপের একটি দেশে পলাতক ও বসবাসরত আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে গ্রুপ কলে মিটিং করেন। গোয়েন্দা তথ্যে বলা হয়েছিল, তিন জায়গায় গাড়িবহরে হামলা হতে পারে। এর মধ্যে কোটালীপাড়া ঢুকতে, জেলা পুলিশ লাইনসের আগে এবং পুলিশ লাইনস পার হওয়ার পর মোড়ে হামলার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়।আরো বলা হয়, গোপালগঞ্জ সদর থানার মাঝিগাতী ঢালনিয়া ব্রিজের গোড়ায় ১০০ থেকে ১৫০ জন লোক জড়ো হয়ে হামলা করবে। কাজুলিয়া ও কাটি ইউনিয়নের ৭০০-৮০০ জন লোক কাটি ইউনিয়নের খেলনা ব্রিজের নিচে জড়ো হয়ে হামলা চালাবে। কাশিয়ানী উপজেলার মাঝিগাতী বাসস্ট্যান্ডে লোকজন জড়ো হয়ে সেখানেও হামলা চালাবে বলে আওয়ামী লীগ পরিকল্পনা করে।সর্বশেষ আইজপির নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরো ১০০ সদস্য পাঠানো হয় পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে দুপুরের পর পুলিশ সদর দপ্তরে ছুটে যান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ভূঁইয়া সজীব। আগে থেকেই সদর দপ্তরে ছিলেন আইজিপি। তারা সেখানে বসে গোপালগঞ্জের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও সেনবিাহিনী মিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।আইজিপি বাহারুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ধৈর্য ধরে পুলিশ গোপালগঞ্জের পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করেছে।
গোপালগঞ্জে আমরা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করিনি, তাই আমাদের একটু সময় লেগেছে। উচ্ছৃঙ্খলতা যা হয়েছে, সেটা যতটুকু সম্ভব আমরা ধৈর্যের সঙ্গে প্রশমন করার চেষ্টা করছি। পুরো জিনিসটা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পরে আরো পুলিশ ফোর্স পাঠনো হয়। অথচ সংঘর্ষের ঘটনায় চার জনের মৃতদেহ হাসপাতালে এসেছে বলে জানিয়েছেন জেলার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক। জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি'র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, "মুজিববাদি সন্ত্রাসিরা জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং তার নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে জঙ্গি কায়দায় হামলা করেছে"। এই ঘটনায় জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার সারা দেশে বিক্ষোভ পালনের ঘোষণা দিয়েছে তারা।এক নজরে গোপালগঞ্জের অবস্থা : গোপালগঞ্জে রাত আটটা থেকে শুরু হয়েছে কারফিউ। শহরজুড়ে টহল দিচ্ছে র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী। গোপালগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় চার জনের মৃতদেহ হাসপাতালে এসেছে বলে জানিয়েছেন জেলার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক। বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম জানান, ধৈর্য ধরে তারা গোপালগঞ্জের পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছেন। তার দাবি, “আমরা লিথ্যাল (প্রাণঘাতী অস্ত্র) কোনো কিছু ব্যবহার করছি না, তাই আমাদের একটু সময় লাগছে।'' এনসিপি’র কর্মসূচি ঘিরে গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় গোপালগঞ্জ ছাড়েন জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির নেতাকর্মীরা। বিকাল ৫টার পরে তাদের গোপালগঞ্জ ছেড়ে বের হওয়ার কথা বিবিসি বাংলাকে জানান সংগঠনটির যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহিন। গোপালগঞ্জে এনসিপি'র পূর্বঘোষিত ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। হামলাকারীদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ারও দাবি জানিয়েছে বিএনপি। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে নিবন্ধন স্থগিত হওয়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক 'নৌকা' সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত