বিআরটিএ-এর সাবেক চেয়ারম্যান মো. ইয়াসীন ঘোষণা দিয়েছিলেন, ঢাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা মিটারে চলবে। দুই মাস পর এ নিয়ম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। এরপর ঘোষণা আসলো সিএনজি অটোরিকশার ছাদে লাইট লাগাতে হবে। অর্থাৎ যাত্রীরা দেখলেই যাতে বোঝে একটা অটোরিকশা ভাড়া হয়েছে নাকি হয়নি। এরই মধ্যে প্রায় সাত মাস পেরিয়ে গেছে। বিআরটিএর-এর সেই চেয়ারম্যানকেও সরিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু সিএনজি অটোরিকশা চলছে আগের মতোই মিটার ও লাইটবিহীন। চালকরা ইচ্ছে মতো ভাড়া হাঁকছে। যাত্রীদের ইচ্ছা মতো যাওয়া তো দূরের কথা। চালকদের কড়া জবাব- গেলে যাবেন না গেলে নাই। অথচ সিএনজি অটোরিকশার কমার্শিয়াল রেজিস্ট্রেশনের প্রধান শর্ত ছিল, যাত্রীরা যেখানে যেতে চাইবেন সেখানে যেতে চালক বাধ্য।
সিএনজি অটোরিকশা চালক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন সিএনজি অটোরিকশা সেক্টরে যে নৈরাজ্য বিরাজ করছে আইনের কঠোর প্রয়োগ ছাড়া কোনোভাবেই দূর করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে আওয়ামী আমলের মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ব্যানারে বরকত উল্যাহ বুলুর নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে এই সেক্টরে কোনদিন শৃঙ্খলা ফিরবে না। মালিকরা এখনও চালকদের কাছে থেকে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ জমার টাকা আদায় করছে। এর সাথে ১০০ থেকে ২০০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করছে গ্যারেজ ভাড়া বাবদ। এতে করে চালকরা নিরুপায় হয়েই বেশি ভাড়া হাঁকছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে, মালিকদের কাছে জিম্মি চালকরা আর চালকরা জিম্মি করছে যাত্রীদের।
রাজধানীতে যাত্রীবাহী বাস সার্ভিস না থাকায় যাত্রীরা সিএনজি অটোরিকশার উপর অনেকটাই নির্ভরশীল। এই সুযোগে যাত্রীরা সিএনজি অটোরিকশার চালকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। অবস্থা এমনটাই দাঁড়িয়েছে যে, ঢাকায় এখন সিএনজি অটোরিকশার চেয়ে উবারের ভাড়া তুলনামূলক কম। যারা উবার ব্যবহার করতে জানেন না, তারা বাধ্য হয়েই গলাকাটা ভাড়া দিয়ে সিএনজিতে চড়েন।
গত চলতি বছরের ১ জানুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ঢাকা মেট্রো-১ সার্কেলে বিআরটিএর সেবা সহজীকরণ-সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা নির্ধারিত। গত প্রায় ২০ বছরে নতুন কোনো অটোরিকশার অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এতে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির কাছে অটোরিকশার মালিকানা চলে গেছে। মালিকরা চালকদের কাছ থেকে দৈনিক জমার অর্থ বেশি আদায় করছে। আর চালকরা পকেট কাটছেন যাত্রীদের। বাজারে একটি অটোরিকশার দাম ৪-৫ লাখ টাকা। কিন্তু একটি অটোরিকশার নিবন্ধন নম্বর হাতবদল হচ্ছে ২০-২৫ লাখ টাকায়।
বিআরটিএর চেয়ারম্যানের এই বক্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন সিএনজির মালিক ও চালকরা। জানান, রাজধানী ঢাকায় চলাচলরত ৪০ হাজার সিএনজি অটোরিকশার মধ্যে ২৫ হাজারই অবৈধ। এর মধ্যে ৫ হাজার সিএনজি অটোরিকশার মালিক ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর ও সার্জেন্টরা। বাকিগুলো সব ঢাকার আশপাশের জেলা নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদীসহ অন্যান্য জেলার। রাজধানীতে চলাচলের জন্য এই ২৫ হাজার অটোরিকশার কোনো রুটপারমিট নেই। ট্রাফিক পুলিশকে চাঁদা দিয়ে প্রায় ১৫ বছর ধরে এগুলো চলে আসছে। প্রতিটি অটোরিকশার জন্য মাসে কমপক্ষে ৪ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা নির্ধারণ করা আছে। গড়ে মাসে ৬ হাজার টাকা করে ধরলে প্রতিমাসে এই চাঁদার পরিমাণ দাঁড়ায় ১৫ কোটি টাকা। এর সাথে প্রাইভেট অটোরিকশার নামে যাত্রী পরিবহন করছে আরও ৪ হাজার ২শ অটোরিকশা। এগুলো থেকেও মাসে চাঁদা তোলা হচ্ছে এক কোটি টাকার বেশি। কয়েক বছর আগে হাইকোর্ট এসব প্রাইভেট সিএনজি অটোরিকশাকে ৬ মাস চলাচলের অনুমতি দিয়ে একটি আদেশ জারি করেছিলেন। সেই আদেশ বার বার বাড়িয়ে নেয়া হচ্ছে। কার্যত এসব সাদা অটোরিকশার আয়ুস্কাল বহু আগেই শেষ হয়ে গেছে।
অবৈধভাবে চলাচলকারী প্রায় ২৫ হাজার অটোরিকশা রাজধানীতে যানজট ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। একই সাথে বৈধ অটোরিকশার চালক ও মালিকরা তাদের কাঙ্খিত যাত্রী ও ভাড়া পাচ্ছে না। আলাপকালে বৈধ সিএনজি অটোরিকশার কয়েকজন চালক বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারই পারবে এসব অবৈধ অটোরিকশা বন্ধ করতে। বৈধ আর অবৈধ মিলে এসব অটোরিকশা প্রায় ২১ বছর ধরে আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাজধানীতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে চলছে। চুক্তিতে দুই-তিনগুণ বেশি ভাড়ায় আদায়সহ খেয়াল-খুশিমতো চলতে গিয়ে যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। একই সাথে মালিকপক্ষ অতিরিক্ত জমা আদায় করছে যেটা নিয়ে কথা বলার মতো সাহস চালকদের নেই। এ প্রসঙ্গে ঢাকা জেলা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ খোকন বলেন, সিএনজি অটোরিকশাখাতে নৈরাজ্য বন্ধের জন্য আমরা ধীর্ঘদিন থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিলাম। কিন্ত সরকার আমাদের দাবিকে গুরুত্ব দেয়নি। তিনি বলেন, অবৈধভাবে চলাচলের জন্য মাস শেষে বিশাল অঙ্কের টাকার ভাগ একদম উপরমহল পর্যন্ত যেতো বলে হয়তো কেউ আমাদের কথায় কর্ণপাত করেনি। তবে বর্তমান সরকার চাইলে এই নৈরাজ্য বন্ধ করতে পারবে।
বিদেশের সড়কে একটা বিড়ালও ঢুকতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশে মহাসড়কে যত্রতত্র ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা ঢুকে দুর্ঘটনা বাড়াচ্ছে। এসব নৈরাজ্য সম্পর্কে বিআরটিএ-এর কর্মকর্তাদের দাবি, অটোরিকশার অনেক সংগঠন। এগুলো নিয়ে আমরা খানিকটা বিপাকে পড়েছি। এক পক্ষকে ডাকলে আরেক পক্ষ অভিযোগ তোলে-তাদের কেন ডাকলেন না। ফলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা মিটারে চলা, ভাড়া এবং মালিকের জমার বিষয়টি ঠিক করা যাচ্ছে না। তারা বলেন, অটোরিকশা রাইড শেয়ারিংয়েও চলছে। ফলে কিছুটা প্রতিযোগিতা এসেছে। তবে এই খাতে নৈরাজ্য বন্ধে আরও কঠোর কিছু করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে।চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে সিএনজির মিটারে নির্ধারিত ভাড়ায় চলাচল, নির্ধারিত মালিকের জমা মেনে চলার বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও রহস্যজনক কারণে তা সম্ভব হয়নি।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা জেলা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ খোকন বলেন, সিএনজি অটোরিকশাখাতে নৈরাজ্য দীর্ঘদিনের। দুই, চার মাসে এটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। কারণ রাজধানীতে চলাচলরত বেশিরভাগ সিএনজি অটোরিকশায় মিটার নেই। আবার থাকলেও সেগুলো টেম্পারিং করা। এগুলো পূন:স্থাপন করতে কমপক্ষে তিনমাস সময় লাগবে। এ ছাড়া মালিকরা সরকার নির্ধারিত জমার টাকার চেয়ে অনেক বেশি আদায় করেন। মালিকপক্ষকে নির্ধারিত জমা নিতে বাধ্য করাতে না পারলে চালক না হলে চালকরা দিনশেষে খালি হাতে ঘরে ফিরবেন। পরের দিন তারা আর গাড়ি চালাতে চাইবেন না। মীরহাজীরবাগের সিএনজি চালক সোবহান বলেন, মালিকপক্ষ প্রতিদিন ৯০০ টাকা জমা নেয়ার কথা। কিন্তু তারা ১২শ’ থেকে ১৮শ’ টাকা নিচ্ছে। তারা অতিরিক্ত টাকা নেয়া বন্ধ না করলে মিটারে চলে আমাদের পেটে ভাত জুটবে না।
মিরপুরের আরেক চালক গোলাম ফারুক বলেন, ঢাকা শহরে এখন উবার, পাঠাওসহ বিভিন্ন রাইড শেয়ারিং গাড়ির কারণে আমাদের যাত্রী কমে গেছে। এর উপর ক্রমাগত যানজটে প্রতিটি এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়। সবচেয়ে বড় কথা ঢাকার আশপাশের জেলার সিএনজি অটোরিকশা অবাধে ঢাকায় চলাচল করায় আমরা যাত্রী পাই না। ঢাকা জেলা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ খোকন জানান, ঢাকার আশপাশের গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদীসহ বিভিন্ন জেলার কমপক্ষে ২০ হাজার সিএনজি অটোরিকশা ঢাকায় চলাচল করছে। এগুলো রাজধানীতে চলাচল বন্ধ না করলে কোনোদিনও শৃঙ্খলা ফিরবে না।
আবার সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া নিয়েও জটিলতা আছে। সর্বশেষ ২০১৫ সালে সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে গ্যাসের দাম বেড়েছে ৫ বার। কিন্তু মিটারে ভাড়া বাড়ানো হয়নি। আগের তুলনায় এখন কমপক্ষে ২৫০ টাকার গ্যাস বেশি লাগে। এ কারণে নায্য ভাড়া নিয়ে দিনশেষে পরিশ্রম অনুযায়ী উপার্জন করা সম্ভব হয় না। লাভের টাকা সব মালিকের পকেটে যায়। মালিকরা দিন দিন একটা থেকে এখন ২০-৩০টা অটোরিকশার মালিক। শতাধিক অটোরিকশার মালিকও আছেন মালিক সমিতির কোনো কোনো নেতা। অনেকের মতে, সিএনজি অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ব্যনারে বরকত উল্যাহ বুলুর নেতুত্বাধীন সিন্ডিকেট ভাড়তে না পারলে সিএনজি সেক্টরে কোনদিন শৃঙ্খলা ফিরবে না। স্বৈরাচারি আওয়ামী সরকারের পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের মদদপুষ্ট এই সিন্ডিকেট ভাঙতে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
সিএনজি অটোরিকশা চালক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন সিএনজি অটোরিকশা সেক্টরে যে নৈরাজ্য বিরাজ করছে আইনের কঠোর প্রয়োগ ছাড়া কোনোভাবেই দূর করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে আওয়ামী আমলের মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ব্যানারে বরকত উল্যাহ বুলুর নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে এই সেক্টরে কোনদিন শৃঙ্খলা ফিরবে না। মালিকরা এখনও চালকদের কাছে থেকে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ জমার টাকা আদায় করছে। এর সাথে ১০০ থেকে ২০০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করছে গ্যারেজ ভাড়া বাবদ। এতে করে চালকরা নিরুপায় হয়েই বেশি ভাড়া হাঁকছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে, মালিকদের কাছে জিম্মি চালকরা আর চালকরা জিম্মি করছে যাত্রীদের।
রাজধানীতে যাত্রীবাহী বাস সার্ভিস না থাকায় যাত্রীরা সিএনজি অটোরিকশার উপর অনেকটাই নির্ভরশীল। এই সুযোগে যাত্রীরা সিএনজি অটোরিকশার চালকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। অবস্থা এমনটাই দাঁড়িয়েছে যে, ঢাকায় এখন সিএনজি অটোরিকশার চেয়ে উবারের ভাড়া তুলনামূলক কম। যারা উবার ব্যবহার করতে জানেন না, তারা বাধ্য হয়েই গলাকাটা ভাড়া দিয়ে সিএনজিতে চড়েন।
গত চলতি বছরের ১ জানুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ঢাকা মেট্রো-১ সার্কেলে বিআরটিএর সেবা সহজীকরণ-সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা নির্ধারিত। গত প্রায় ২০ বছরে নতুন কোনো অটোরিকশার অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এতে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির কাছে অটোরিকশার মালিকানা চলে গেছে। মালিকরা চালকদের কাছ থেকে দৈনিক জমার অর্থ বেশি আদায় করছে। আর চালকরা পকেট কাটছেন যাত্রীদের। বাজারে একটি অটোরিকশার দাম ৪-৫ লাখ টাকা। কিন্তু একটি অটোরিকশার নিবন্ধন নম্বর হাতবদল হচ্ছে ২০-২৫ লাখ টাকায়।
বিআরটিএর চেয়ারম্যানের এই বক্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন সিএনজির মালিক ও চালকরা। জানান, রাজধানী ঢাকায় চলাচলরত ৪০ হাজার সিএনজি অটোরিকশার মধ্যে ২৫ হাজারই অবৈধ। এর মধ্যে ৫ হাজার সিএনজি অটোরিকশার মালিক ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর ও সার্জেন্টরা। বাকিগুলো সব ঢাকার আশপাশের জেলা নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদীসহ অন্যান্য জেলার। রাজধানীতে চলাচলের জন্য এই ২৫ হাজার অটোরিকশার কোনো রুটপারমিট নেই। ট্রাফিক পুলিশকে চাঁদা দিয়ে প্রায় ১৫ বছর ধরে এগুলো চলে আসছে। প্রতিটি অটোরিকশার জন্য মাসে কমপক্ষে ৪ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা নির্ধারণ করা আছে। গড়ে মাসে ৬ হাজার টাকা করে ধরলে প্রতিমাসে এই চাঁদার পরিমাণ দাঁড়ায় ১৫ কোটি টাকা। এর সাথে প্রাইভেট অটোরিকশার নামে যাত্রী পরিবহন করছে আরও ৪ হাজার ২শ অটোরিকশা। এগুলো থেকেও মাসে চাঁদা তোলা হচ্ছে এক কোটি টাকার বেশি। কয়েক বছর আগে হাইকোর্ট এসব প্রাইভেট সিএনজি অটোরিকশাকে ৬ মাস চলাচলের অনুমতি দিয়ে একটি আদেশ জারি করেছিলেন। সেই আদেশ বার বার বাড়িয়ে নেয়া হচ্ছে। কার্যত এসব সাদা অটোরিকশার আয়ুস্কাল বহু আগেই শেষ হয়ে গেছে।
অবৈধভাবে চলাচলকারী প্রায় ২৫ হাজার অটোরিকশা রাজধানীতে যানজট ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। একই সাথে বৈধ অটোরিকশার চালক ও মালিকরা তাদের কাঙ্খিত যাত্রী ও ভাড়া পাচ্ছে না। আলাপকালে বৈধ সিএনজি অটোরিকশার কয়েকজন চালক বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারই পারবে এসব অবৈধ অটোরিকশা বন্ধ করতে। বৈধ আর অবৈধ মিলে এসব অটোরিকশা প্রায় ২১ বছর ধরে আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাজধানীতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে চলছে। চুক্তিতে দুই-তিনগুণ বেশি ভাড়ায় আদায়সহ খেয়াল-খুশিমতো চলতে গিয়ে যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। একই সাথে মালিকপক্ষ অতিরিক্ত জমা আদায় করছে যেটা নিয়ে কথা বলার মতো সাহস চালকদের নেই। এ প্রসঙ্গে ঢাকা জেলা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ খোকন বলেন, সিএনজি অটোরিকশাখাতে নৈরাজ্য বন্ধের জন্য আমরা ধীর্ঘদিন থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিলাম। কিন্ত সরকার আমাদের দাবিকে গুরুত্ব দেয়নি। তিনি বলেন, অবৈধভাবে চলাচলের জন্য মাস শেষে বিশাল অঙ্কের টাকার ভাগ একদম উপরমহল পর্যন্ত যেতো বলে হয়তো কেউ আমাদের কথায় কর্ণপাত করেনি। তবে বর্তমান সরকার চাইলে এই নৈরাজ্য বন্ধ করতে পারবে।
বিদেশের সড়কে একটা বিড়ালও ঢুকতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশে মহাসড়কে যত্রতত্র ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা ঢুকে দুর্ঘটনা বাড়াচ্ছে। এসব নৈরাজ্য সম্পর্কে বিআরটিএ-এর কর্মকর্তাদের দাবি, অটোরিকশার অনেক সংগঠন। এগুলো নিয়ে আমরা খানিকটা বিপাকে পড়েছি। এক পক্ষকে ডাকলে আরেক পক্ষ অভিযোগ তোলে-তাদের কেন ডাকলেন না। ফলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা মিটারে চলা, ভাড়া এবং মালিকের জমার বিষয়টি ঠিক করা যাচ্ছে না। তারা বলেন, অটোরিকশা রাইড শেয়ারিংয়েও চলছে। ফলে কিছুটা প্রতিযোগিতা এসেছে। তবে এই খাতে নৈরাজ্য বন্ধে আরও কঠোর কিছু করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে।চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে সিএনজির মিটারে নির্ধারিত ভাড়ায় চলাচল, নির্ধারিত মালিকের জমা মেনে চলার বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও রহস্যজনক কারণে তা সম্ভব হয়নি।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা জেলা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ খোকন বলেন, সিএনজি অটোরিকশাখাতে নৈরাজ্য দীর্ঘদিনের। দুই, চার মাসে এটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। কারণ রাজধানীতে চলাচলরত বেশিরভাগ সিএনজি অটোরিকশায় মিটার নেই। আবার থাকলেও সেগুলো টেম্পারিং করা। এগুলো পূন:স্থাপন করতে কমপক্ষে তিনমাস সময় লাগবে। এ ছাড়া মালিকরা সরকার নির্ধারিত জমার টাকার চেয়ে অনেক বেশি আদায় করেন। মালিকপক্ষকে নির্ধারিত জমা নিতে বাধ্য করাতে না পারলে চালক না হলে চালকরা দিনশেষে খালি হাতে ঘরে ফিরবেন। পরের দিন তারা আর গাড়ি চালাতে চাইবেন না। মীরহাজীরবাগের সিএনজি চালক সোবহান বলেন, মালিকপক্ষ প্রতিদিন ৯০০ টাকা জমা নেয়ার কথা। কিন্তু তারা ১২শ’ থেকে ১৮শ’ টাকা নিচ্ছে। তারা অতিরিক্ত টাকা নেয়া বন্ধ না করলে মিটারে চলে আমাদের পেটে ভাত জুটবে না।
মিরপুরের আরেক চালক গোলাম ফারুক বলেন, ঢাকা শহরে এখন উবার, পাঠাওসহ বিভিন্ন রাইড শেয়ারিং গাড়ির কারণে আমাদের যাত্রী কমে গেছে। এর উপর ক্রমাগত যানজটে প্রতিটি এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়। সবচেয়ে বড় কথা ঢাকার আশপাশের জেলার সিএনজি অটোরিকশা অবাধে ঢাকায় চলাচল করায় আমরা যাত্রী পাই না। ঢাকা জেলা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ খোকন জানান, ঢাকার আশপাশের গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদীসহ বিভিন্ন জেলার কমপক্ষে ২০ হাজার সিএনজি অটোরিকশা ঢাকায় চলাচল করছে। এগুলো রাজধানীতে চলাচল বন্ধ না করলে কোনোদিনও শৃঙ্খলা ফিরবে না।
আবার সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া নিয়েও জটিলতা আছে। সর্বশেষ ২০১৫ সালে সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে গ্যাসের দাম বেড়েছে ৫ বার। কিন্তু মিটারে ভাড়া বাড়ানো হয়নি। আগের তুলনায় এখন কমপক্ষে ২৫০ টাকার গ্যাস বেশি লাগে। এ কারণে নায্য ভাড়া নিয়ে দিনশেষে পরিশ্রম অনুযায়ী উপার্জন করা সম্ভব হয় না। লাভের টাকা সব মালিকের পকেটে যায়। মালিকরা দিন দিন একটা থেকে এখন ২০-৩০টা অটোরিকশার মালিক। শতাধিক অটোরিকশার মালিকও আছেন মালিক সমিতির কোনো কোনো নেতা। অনেকের মতে, সিএনজি অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ব্যনারে বরকত উল্যাহ বুলুর নেতুত্বাধীন সিন্ডিকেট ভাড়তে না পারলে সিএনজি সেক্টরে কোনদিন শৃঙ্খলা ফিরবে না। স্বৈরাচারি আওয়ামী সরকারের পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের মদদপুষ্ট এই সিন্ডিকেট ভাঙতে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।