রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
দেশের খবর শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইভটিজিং করার অভিযোগ,থানায় মামলা

শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইভটিজিং করার অভিযোগ,থানায় মামলা

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ঃ

অভিযোগকারী নগরীর পশ্চিম দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত বিদ্যানিকেতন নামে একটি হাই স্কুলের শিক্ষিকা।

দায়েরকৃত জিডি সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০ দফা কর্ম পরিকল্পনা নিয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ঐ কর্মশালায় বিদ্যানিকেতনের একজন পুরুষ এবং একজন নারী শিক্ষক অংশ গ্রহন করে। একপর্যায়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু তালেব নারী শিক্ষিকার পাশের চেয়ারে বসে নানান রকম কুপ্রস্তাব দেয়। এ সময় ঐ কর্মকর্তা তার অফিস কক্ষে যাওয়ার জন্য প্রলোভন দেখায় এবং ৪০ উর্ধ বয়সের একজন লোককে দেখিয়ে বলেন তাকে বিয়ে করার জন্য। পরবর্তীতে নারী শিক্ষিকার দুপুরের খাবার পিয়নের মাধ্যমে তার অফিস কক্ষে নিয়ে যায় এবং সেখানে যাওয়ার জন্য তাকে বলে। এ সময় ওই শিক্ষিকা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু তালেবের প্রতি ক্ষুব্দ হয়ে অনুষ্ঠান শেষ না করেই চলে আসেন।

বৃহস্পতিবার সকালে ভুক্তভোগী শিক্ষিকা বিদ্যানিকেতন হাই স্কুল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি  অবহিত করলে তার সহকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে হয়ে উঠে। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত ফেরদৌস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তোফাজ্জল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান এবং জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ কে জানালে তারা আবু তালেবের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন।

এ ব্যাপারে বিদ্যানিকেতন হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার সাহা বলেন, একজন নারী শিক্ষিকাকে একজন সরকারী কর্মকর্তা এভাবে হয়রানী ও অপমান করার জন্য আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই। তিনি বলেন প্রশাসন যদি তিন দিনের মধ্যে আবু তালেবের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন না করে তবে আমরা মানববন্ধন সহ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করবো।

বিদ্যানিকেতন ট্রাষ্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও নারায়নগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুস সালাম বলেন, আবু তালেবের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষককে হয়রানী করার নানান অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন আমরা এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, এডিসি তোফাজ্জল হোসেন ও জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজকে জানিয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় তার বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষকের মাধ্যমে জিডি করা হয়েছে। আমরা রবিবার পর্যন্ত দেখবো প্রশাসন কি ব্যবস্থা গ্রহন করে। তারপর আমরা ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ পরবর্তী কর্মসুচি গ্রহন করবো।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত ফেরদৌস এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তোফাজ্জল হোসেন জানান, তারা স্কুল কতৃপক্ষের মাধ্যমে নারী শিক্ষিকাকে লাঞ্চনা করার বিষয়টি অবহিত হয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

ফতুল্লা থানার ওসি রিয়াজুল হক জানান, ভুক্তভোগী নারী শিক্ষিকা থানায় এসে জিডি করেছেন। জিডি নম্বর-১০৮৭। পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তারিকুল ইসলামকে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

খুঁজুন