শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
অর্থ ও বাণিজ্য সঞ্চয়পত্রে কতটা লাভ-ক্ষতি?

সঞ্চয়পত্রে কতটা লাভ-ক্ষতি?

দেশে কয়েক বছর যাবত সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে সরকার নানা ধরণের নিয়মকানুন আরোপ করেছে। সুদের হারেও এসেছে নানা পরিবর্তন। সরকারের এধরনের ব্যবস্থার পেছনে প্রধানত দুটো কারণ উঠে এসেছে।


প্রথমত - সঞ্চয়পত্রের সুদ বাবদ সরকারকে বিপুল টাকা খরচ করতে হয়। জনগণের করের টাকার থেকে এই সুদের টাকা পরিশোধ করা হয়। সেজন্য সরকার চাইছে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমে আসলে সুদ বাবদ পরিশোধও করতে হবে কম।
দ্বিতীয়ত - সরকার চায় মানুষ সঞ্চয়পত্র ক্রয় না করে সেই টাকা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করুক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার সে কথা পরিষ্কার করে বলেছেন।
"আমরা চাই মানুষ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ না করে ক্যাপিটাল মার্কেটে আসুক," বলেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর।
সঞ্চয়পত্র থেকে মানুষজনকে টেনে শেয়ার বাজারে আনার জন্য সরকার ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমানো হয়েছে।
সঞ্চয়পত্র সরকারের জন্য একটি 'উভয় সংকট' তৈরি করেছে। বিক্রি কমাতে লাগাম টেনে ধরলে সাধারণ মানুষ নাখোশ হয়। আবার সেটি না করলে সুদ বাবদ সরকারকে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।
সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধাপের জন্য ভিন্ন-ভিন্ন সুদের হার করা হয়েছে। এছাড়া পাঁচ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র ক্রয় করতে হলে বিনিয়োগকারীকে আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দিতে হবে।
গত কয়েক বছরে সঞ্চয়পত্রকে অনলাইন সিস্টেমের আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে সবোর্চ্চ সীমার অতিরিক্ত সঞ্চয়পত্র ক্রয় করা এখন সম্ভব নয়। অনলাইন সিস্টেমের আওতায় না থাকার কারণে অতীতে অনেকে সঞ্চয়পত্রের অপব্যবহার করেছে। অনেকে ইচ্ছে মতো সঞ্চয়পত্র ক্রয় করেছিল। কিন্তু অনলাইন হবার ফলে সে সুযোগ আরে নেই। বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে টাকা বিনিয়োগ করে অতীতে অনেকে নি:স্ব হয়েছে।
সরকার উৎসাহ দিলেও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের ওয়েব সাইটে সতর্ক করা হচ্ছে - পুঁজিবাজার ঝুঁকিপূর্ণ। জেনে ও বুঝে বিনিয়োগ করুন।
ফলে সঞ্চয়পত্র যতই নিরুৎসাহিত করা হোক না কেন, মানুষ সেখান থেকে টাকা নিয়ে শেয়ার বাজারে কতটা যাবে তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।
সঞ্চয়পত্রে উচ্চ সুদের হার থাকলে মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখতে আগ্রহী হয় না।
অর্থনীতিবিদ খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন,"দুর্ভাগ্যজনকভাবে পুঁজিবাজার যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সেখানে বিনিয়োগ করা তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। সেখানে বিভিন্ন রকম অনিয়মের কথা আমরা শুনতে পাই।"
তিনি বলেন, শেয়ার বাজার যদি নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে চলতো তাহলে স্বল্প পুঁজির মানুষও সেখানে বিনিয়োগ করতে পারতো।
যারা মধ্যম এবং উচ্চ আয়ের মানুষ আছে তাদের জন্য বন্ড মার্কেট কিভাবে প্রমোট করা যায় সেটিও চিন্তা করতে হবে। সেটা সরকারি কিংবা বেসরকারি যে কোন ধরণের বন্ড হতে পারে।

খুঁজুন