মইনুল ইসলাম মিতুল : চলতি বোরো মৌসুমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে
খুলনার পাইকগাছায় বিএডিসি ও বিসিআইসির ডিলাররা সারের দাম বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ
পাওয়া গেছে।
তথ্যানুসন্ধানে
জানা গেছে, কৃষকরা যাতে সময়মতো জমিতে সার দিতে পারেন সেটা নিশ্চিত করতে সরকারের
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এবং বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ
করপোরেশন (বিসিআইসি) সারাদেশের ডিলার নিয়োগের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সার বিপণনের
কাজটি করে থাকেন। এছাড়া বিদেশ থেকে আমদানি করা সার বিপণনের জন্য বেসরকারি
প্রতিষ্ঠানগুলোও ডিলার নিয়োগ করে তারা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সারাদেশের
জেলা-উপজেলায় ‘সার-বীজ বিতরণ ও মূল্যায়ন কমিটি’র সার বিতরণ কার্যক্রম সমন্বয় করেন। উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা
নির্বাহী কর্মকর্তারা পদাধিকার বলে এই মূল্যায়ন কমিটির প্রধান। কিন্তু বাস্তবতা
বলছে ভিন্ন কথা।
কৃষকরা
বলছেন, সংকট থাকলে অতিরিক্ত দামে ডিলারদের সারের উৎস কোথায়?
সার
ডিলারদের অনেকেই জানান,
সারের পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় বিভিন্ন এলাকা থেকে অতিরিক্ত দামে
সার ক্রয় করায় বাধ্যতামূলক সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে সার বিক্রি করতে হচ্ছে।
তাছাড়া এলাকায় চিকন দানার ইউরিয়ার চাহিদা বেশি থাকলেও মূলত তাদেরকে ইচ্ছানুযায়ী
মোটা দানার ইউরিয়া সরবরাহ করা হয়। এক্ষেত্রে দাম বেশি দিলে জোটে চিকন দানার
ইউরিয়া।
বিএডিসি
ও বিসিআইসির পাশাপাশি সাব ডিলাররা সরকার নির্ধারিত সারের খুচরা মূল্য তালিকা
দোকানে টানিয়ে রেখে প্রকাশ্যে অধিক দামে সার বিক্রি করলেও কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের কাছে
কৃষকদের পক্ষে কোন অভিযোগ-অনুযোগ কিংবা পর্যাপ্ত প্রমাণাদি নেই। প্রমাণস্বরূপ তারা
দোকানের বিক্রি রশিদ বা প্রমাণপত্র চান। এদিকে ডিলারদের পক্ষে খুচরা বিক্রেতাদের
নাকি কোন রশিদ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। তারা বড় জোর সাব ডিলারদের চালান দিয়ে
থাকেন। তাছাড়া ডিলাররা যেখানে মূল্য তালিকা টানিয়ে রেখে প্রকাশ্যে বেশি দামে
কৃষকদের সার কিনতে বাধ্য করছেন, সেখানে অতিরিক্ত দামে সার
বিক্রি করলেও রশিদে সরকারি দামের বাইরে অতিরিক্ত দাম উল্লেখ করার কথা না। এই
সাধারণ বিষয়টিই বুঝতে চাইছেন না উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে উপজেলা
কৃষি কর্মকর্তারা।
ধারণা
করা হচ্ছে, সিন্ডিকেটটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে পরোক্ষ সহায়তা নিয়েই কৃষকদের
কাছ থেকে অতিরিক্ত ফায়দা নিচ্ছে।
তথ্যানুসন্ধানে
জানা গেছে, বোরোর ক্ষেতে এখন মূলত ইউরিয়া ও পটাশ সারের প্রয়োজন, গ্রীষ্মকালীন সবজি ক্ষেতে ইউরিয়া এবং টিএসপি/ডিএপি, ভুট্টা
চাষে প্রয়োজন পটাশ সার। চলতি ফাল্গুন ও আসন্ন চৈত্র মাসে পাট চাষের জন্য প্রয়োজন
ইউরিয়া, টিএসপি/ডিএপি আর পটাশ। সব মিলিয়ে চলতি ভরা ও আসন্ন
কৃষি মৌসুমে সারের চাহিদাকে পুঁজি করে পাইকগাছায় কৃত্রিম সংকটে সারের দাম বৃদ্ধি করেছেন
ডিলাররা।
জানা
গেছে, সরকার নির্ধারিত মূল্য হলো ইউরিয়া প্রতি বস্তা ৮০০ টাকা, এমওপি প্রতি বস্তা ৭৫০, ডিএপি প্রতি বস্তা ৮০০ এবং
টিএসপি প্রতি বস্তা ১ হাজার ১০০ টাকা।
চাষিদের
অভিযোগ, ডিলাররা বস্তাপ্রতি ইউরিয়ায় ১০০, এমওপি ২০০, ডিএপি ১০০ এবং টিএসপিতে প্রকারভেদে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত ইচ্ছা মাফিক
অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন। দীর্ঘদিন যাবত পাইকগাছায় বিএডিসি ও বিসিআইসি ডিলারগুলো মূলত
তিনটি পরিবারের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হওয়ায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই তারা নিয়ন্ত্রণ
করেন সার-বীজের বাজার দর।
সংকট সৃষ্টি করে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ
সংকট সৃষ্টি করে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ
মইনুল ইসলাম মিতুল : চলতি বোরো মৌসুমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে খুলনার পাইকগাছায় বিএডিসি ও বিসিআইসির ডিলাররা সারের দাম বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, কৃষকরা যাতে সময়মতো জমিতে সার দিতে পারেন সেটা নিশ্চিত করতে সরকারের বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এবং বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) সারাদেশের ডিলার নিয়োগের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সার বিপণনের কাজটি করে থাকেন। এছাড়া বিদেশ থেকে আমদানি করা সার বিপণনের জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও ডিলার নিয়োগ করে তারা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সারাদেশের জেলা-উপজেলায় ‘সার-বীজ বিতরণ ও মূল্যায়ন কমিটি’র সার বিতরণ কার্যক্রম সমন্বয় করেন। উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা পদাধিকার বলে এই মূল্যায়ন কমিটির প্রধান। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা।কৃষকরা বলছেন, সংকট থাকলে অতিরিক্ত দামে ডিলারদের সারের উৎস কোথায়?সার ডিলারদের অনেকেই জানান, সারের পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় বিভিন্ন এলাকা থেকে অতিরিক্ত দামে সার ক্রয় করায় বাধ্যতামূলক সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে সার বিক্রি করতে হচ্ছে। তাছাড়া
এলাকায় চিকন দানার ইউরিয়ার চাহিদা বেশি থাকলেও মূলত তাদেরকে ইচ্ছানুযায়ী মোটা দানার ইউরিয়া সরবরাহ করা হয়। এক্ষেত্রে দাম বেশি দিলে জোটে চিকন দানার ইউরিয়া।বিএডিসি ও বিসিআইসির পাশাপাশি সাব ডিলাররা সরকার নির্ধারিত সারের খুচরা মূল্য তালিকা দোকানে টানিয়ে রেখে প্রকাশ্যে অধিক দামে সার বিক্রি করলেও কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের কাছে কৃষকদের পক্ষে কোন অভিযোগ-অনুযোগ কিংবা পর্যাপ্ত প্রমাণাদি নেই। প্রমাণস্বরূপ তারা দোকানের বিক্রি রশিদ বা প্রমাণপত্র চান। এদিকে ডিলারদের পক্ষে খুচরা বিক্রেতাদের নাকি কোন রশিদ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। তারা বড় জোর সাব ডিলারদের চালান দিয়ে থাকেন। তাছাড়া ডিলাররা যেখানে মূল্য তালিকা টানিয়ে রেখে প্রকাশ্যে বেশি দামে কৃষকদের সার কিনতে বাধ্য করছেন, সেখানে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করলেও রশিদে সরকারি দামের বাইরে অতিরিক্ত দাম উল্লেখ করার কথা না। এই সাধারণ বিষয়টিই বুঝতে চাইছেন না উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা।ধারণা করা হচ্ছে, সিন্ডিকেটটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে পরোক্ষ সহায়তা নিয়েই
কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফায়দা নিচ্ছে।তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বোরোর ক্ষেতে এখন মূলত ইউরিয়া ও পটাশ সারের প্রয়োজন, গ্রীষ্মকালীন সবজি ক্ষেতে ইউরিয়া এবং টিএসপি/ডিএপি, ভুট্টা চাষে প্রয়োজন পটাশ সার। চলতি ফাল্গুন ও আসন্ন চৈত্র মাসে পাট চাষের জন্য প্রয়োজন ইউরিয়া, টিএসপি/ডিএপি আর পটাশ। সব মিলিয়ে চলতি ভরা ও আসন্ন কৃষি মৌসুমে সারের চাহিদাকে পুঁজি করে পাইকগাছায় কৃত্রিম সংকটে সারের দাম বৃদ্ধি করেছেন ডিলাররা।জানা গেছে, সরকার নির্ধারিত মূল্য হলো ইউরিয়া প্রতি বস্তা ৮০০ টাকা, এমওপি প্রতি বস্তা ৭৫০, ডিএপি প্রতি বস্তা ৮০০ এবং টিএসপি প্রতি বস্তা ১ হাজার ১০০ টাকা।চাষিদের অভিযোগ, ডিলাররা বস্তাপ্রতি ইউরিয়ায় ১০০, এমওপি ২০০, ডিএপি ১০০ এবং টিএসপিতে প্রকারভেদে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত ইচ্ছা মাফিক অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন। দীর্ঘদিন যাবত পাইকগাছায় বিএডিসি ও বিসিআইসি ডিলারগুলো মূলত তিনটি পরিবারের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হওয়ায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই তারা নিয়ন্ত্রণ করেন সার-বীজের বাজার দর।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত