রোকসানা মনোয়ার :নানা আলোচনা-সমালোচনার পর সড়ক পরিবহন আইনের খসড়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাস্তবতার নিরিখে আইনটিতে কমিয়ে আনা হয়েছে সাংঘর্ষিকতা। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহনের লোড অনুযায়ী ওজনের স্তর ভাগ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর চালকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ হয়েছে পরিবহনের ধরন অনুযায়ী। নিবন্ধিত তিন চাকার থ্রি-হুইলারের চালক ছাড়া অন্য ড্রাইভারের শিক্ষাগত যোগ্যতা রাখা হয়েছে অষ্টম শ্রেণি।
চালকদের শাস্তির সুপারিশে জামিন অযোগ্য ধারা ছিল। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে জামিন অযোগ্য ধারায় আংশিক সংযোজন করা হয়েছে। একটিতে জামিন অযোগ্য রেখে বাকিগুলোতে শাস্তির শর্ত শিথিল করা হয়েছে। ওজনের ক্ষেত্রে ভারী, মাঝারি ও নরমাল এর সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত খসড়ায় ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। অষ্টম শ্রেণির পরিবর্তে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলেই একজন চালক নিবন্ধনকৃত থ্রি-হুইলার বা তিন চাকার গাড়ি চালাতে পারবেন। অন্য পরিবহনগুলো চালানোর জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা অপরিবর্তিত থাকবে। তবে, একজন সহকারী বা সুপারভাইজারের ১০ বছরের গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা থাকলে এবং ড্রাইভিং সক্ষমতা বোর্ডে পাস করলে তার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ কয়েকটি শর্ত মানা প্রয়োজন হবে না বলে খসড়া আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে বিদ্যমান আইনের ১২৬টি ধারার মধ্যে কমপক্ষে ২৯টি ধারা সংশোধন করা হবে। ভারী ও মাঝারি মোটরযানের সংজ্ঞাসহ আটটি বিষয়ের সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে ভারী যানবাহন ধরা হবে সাতে ৭ হাজার থেকে উর্ধ্ব পর্যন্ত; আগে ১২ হাজারের উপরে এটা পরিগণিত হতো। মাঝারি ওজনের ক্ষেত্রে ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৭ হাজারের আগ পর্যন্ত এবং সাধারণ লোডবাহী পরিবহনের ক্ষেত্রে সাড়ে ৩ থেকে ৫ এর আগ পর্যন্ত।
এ ছাড়া হেলপার ও কন্ট্রাক্টরের ক্ষেত্রে হেলপারের শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলেও কন্ট্রাক্টরের ন্যূনতম যোগ্যতা থাকতে হবে পঞ্চম শ্রেণি। আবার পণ্য পরিবহনের সঙ্গে যারাই সম্পৃক্ত থাকবেন তাদের শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন আইনটি পাস হয়৷ কিন্তু, ২০১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সরকার এটি কার্যকর করেনি৷ আইনটি পাস হওয়ার পর পরই এটি পরিবর্তনের দাবিতে পরিবহন শ্রমিকরা দুই দফায় ধর্মঘট ডাকে৷ এর ফলে আইনটি কীভাবে প্রয়োগ করা যায় এ বিষয়ে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রীর সমন্বয়ে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়৷ পরে ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে সরকার আইনটি প্রয়োগের উদ্যোগ নিলে পরিবহন সংগঠনগুলো আবারও ধর্মঘট ডাকে ।
তাদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে ছিল- আইনটির অধীনে সব অপরাধ জামিনযোগ্য করতে হবে এবং জরিমানার টাকা কমাতে হবে৷ বর্তমানে আইনের ৮৪, ৯৮ ও ১০৫ ধারা অজামিনযোগ্য অপরাধ৷ কিন্তু আইনটি সংশোধন হলে ৮৪ ও ৯৮ ধারা জামিনযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচিত হবে৷ ৮৪ নম্বর ধারায় অবৈধভাবে মোটরযানের আকৃতি পরিবর্তনে শাস্তির কথা বলা হয়েছে৷ ৯৮ নম্বর ধারায় ওভারলোডিং বা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে গাড়ি চালানোর শাস্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে৷ খসড়া অনুযায়ী ৯৮ ধারাকে আপোষযোগ্য বলা হয়েছে৷ তবে খসড়া অনুযায়ী, ১১টি ধারার নির্ধারিত জরিমানা এবং চারটি ধারার কারাদন্ডে শাস্তি কমানো হতে পারে।
সড়ক পরিবহন আইনের পরিবর্তন
সড়ক পরিবহন আইনের পরিবর্তন
রোকসানা মনোয়ার :নানা আলোচনা-সমালোচনার পর সড়ক পরিবহন আইনের খসড়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাস্তবতার নিরিখে আইনটিতে কমিয়ে আনা হয়েছে সাংঘর্ষিকতা। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহনের লোড অনুযায়ী ওজনের স্তর ভাগ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর চালকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ হয়েছে পরিবহনের ধরন অনুযায়ী। নিবন্ধিত তিন চাকার থ্রি-হুইলারের চালক ছাড়া অন্য ড্রাইভারের শিক্ষাগত যোগ্যতা রাখা হয়েছে অষ্টম শ্রেণি।চালকদের শাস্তির সুপারিশে জামিন অযোগ্য ধারা ছিল। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে জামিন অযোগ্য ধারায় আংশিক সংযোজন করা হয়েছে। একটিতে জামিন অযোগ্য রেখে বাকিগুলোতে শাস্তির শর্ত শিথিল করা হয়েছে। ওজনের ক্ষেত্রে ভারী, মাঝারি ও নরমাল এর সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে।প্রস্তাবিত খসড়ায় ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। অষ্টম শ্রেণির পরিবর্তে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলেই একজন চালক নিবন্ধনকৃত থ্রি-হুইলার বা তিন চাকার গাড়ি চালাতে পারবেন। অন্য পরিবহনগুলো চালানোর জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা অপরিবর্তিত থাকবে। তবে, একজন সহকারী বা সুপারভাইজারের ১০ বছরের গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা থাকলে এবং
ড্রাইভিং সক্ষমতা বোর্ডে পাস করলে তার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ কয়েকটি শর্ত মানা প্রয়োজন হবে না বলে খসড়া আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।এতে বিদ্যমান আইনের ১২৬টি ধারার মধ্যে কমপক্ষে ২৯টি ধারা সংশোধন করা হবে। ভারী ও মাঝারি মোটরযানের সংজ্ঞাসহ আটটি বিষয়ের সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে ভারী যানবাহন ধরা হবে সাতে ৭ হাজার থেকে উর্ধ্ব পর্যন্ত; আগে ১২ হাজারের উপরে এটা পরিগণিত হতো। মাঝারি ওজনের ক্ষেত্রে ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৭ হাজারের আগ পর্যন্ত এবং সাধারণ লোডবাহী পরিবহনের ক্ষেত্রে সাড়ে ৩ থেকে ৫ এর আগ পর্যন্ত।এ ছাড়া হেলপার ও কন্ট্রাক্টরের ক্ষেত্রে হেলপারের শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলেও কন্ট্রাক্টরের ন্যূনতম যোগ্যতা থাকতে হবে পঞ্চম শ্রেণি। আবার পণ্য পরিবহনের সঙ্গে যারাই সম্পৃক্ত থাকবেন তাদের শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন আইনটি পাস হয়৷ কিন্তু, ২০১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সরকার এটি কার্যকর করেনি৷ আইনটি পাস হওয়ার পর
পরই এটি পরিবর্তনের দাবিতে পরিবহন শ্রমিকরা দুই দফায় ধর্মঘট ডাকে৷ এর ফলে আইনটি কীভাবে প্রয়োগ করা যায় এ বিষয়ে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রীর সমন্বয়ে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়৷ পরে ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে সরকার আইনটি প্রয়োগের উদ্যোগ নিলে পরিবহন সংগঠনগুলো আবারও ধর্মঘট ডাকে । তাদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে ছিল- আইনটির অধীনে সব অপরাধ জামিনযোগ্য করতে হবে এবং জরিমানার টাকা কমাতে হবে৷ বর্তমানে আইনের ৮৪, ৯৮ ও ১০৫ ধারা অজামিনযোগ্য অপরাধ৷ কিন্তু আইনটি সংশোধন হলে ৮৪ ও ৯৮ ধারা জামিনযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচিত হবে৷ ৮৪ নম্বর ধারায় অবৈধভাবে মোটরযানের আকৃতি পরিবর্তনে শাস্তির কথা বলা হয়েছে৷ ৯৮ নম্বর ধারায় ওভারলোডিং বা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে গাড়ি চালানোর শাস্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে৷ খসড়া অনুযায়ী ৯৮ ধারাকে আপোষযোগ্য বলা হয়েছে৷ তবে খসড়া অনুযায়ী, ১১টি ধারার নির্ধারিত জরিমানা এবং চারটি ধারার কারাদন্ডে শাস্তি কমানো হতে পারে।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত