শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
জাতীয় শত কোটি টাকার মালিক বিআরটি এর দালাল রুবেল

শত কোটি টাকার মালিক বিআরটি এর দালাল রুবেল

মোঃ হারুন অর রশিদ রুবেল, একসময় বিআরটিএ’র দালাল, অল্প কয়েক বছরের ব্যবধানে অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। তার নামে-বেনামে ফ্ল্যাট, গাড়ি, সিএনজি ও বিপুল সম্পদ রয়েছে, এমনকি স্ত্রীর নামেও একাধিক সিএনজি ক্রয়ের প্রমাণ মিলেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ট্যাক্স টোকেন জালিয়াতি ও বিকাশ হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আত্মসাৎ করেছেন।

বিআরটিএ'র দালাল থেকে কয়েক বছরের ব্যবধানে মোঃ হারুন অর রশিদ রুবেল হয়েছেন কয়েক কোটি টাকার মালিক। অভিযোগ রয়েছে বিআরটিএ'র কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এসব অর্থসম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি।

বিআরটিএ’র গাড়ির মালিকানা বদল, ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন ও রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত লেনদেন থেকে অর্থ হাতিয়ে শূন্য থেকে হয়েছে কয়েক কোটি টাকার মালিক। করেছেন ঢাকায় ফ্ল্যাট, গাড়ি; এছাড়াও রয়েছে নামে-বেনামে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ।

দিনমজুর মোঃ অহিদুর রহমান তালুকদারের বড় ছেলে মোঃ হারুন অর রশিদ রুবেল (৩৫) — দুই ছেলে, দুই মেয়ের মধ্যে রুবেল বড়। দারিদ্রতার বোঝা মাথায় নিয়ে ২০১১ সালে মামার হাত ধরে পা রাখেন ঢাকায়। মিরপুর বিআরটিএ মেট্রো সার্কেল-১ সহকারী পরিচালক (রেজিস্ট্রেশন) জামাল উদ্দিনের বহিরাগত অফিসে পিয়নিয়ারের (পিয়নের) কাজ — চা, ফাইলপত্র এনে দেওয়ার কাজ করতেন। ১ বছর কাজ করার পর র‍্যাংকস মোটরসের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে; সেখান থেকে যুক্ত হন কোম্পানিটির ট্রান্সপোর্ট বিভাগে, প্রায় ২ বছরের মতো কাজ করেছেন। কাজে থাকা অবস্থায় রেজিস্ট্রেশনের বডি ভ্যাটের কয়েক লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন। বিষয়টি র‍্যাংকস কর্তৃপক্ষ জানার পরে তাকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। পরে দুই বছরের বেকার জীবন পার করে বিআরটিএ'র পাশে অনলাইন ব্যাংকিং জমার জন্য শাহরাস্তি বিজনেস সেন্টার নামে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে সেখান থেকেই আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। গড়ে তোলেন একটি চক্র; সে চক্রের মাধ্যমে করোনা কলীন সময়ে (বিআরটিএ'র কার্যক্রম বন্ধ থাকায়) গ্রাহকের গাড়িগুলো মেয়াদ উত্তীর্ণ হতে থাকে — সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ট্যাক্স টোকেনের বিআরটিএ'র কোষাগারে মাত্র ৫২ টাকা জমা দিয়ে কয়েকশ গ্রাহকের গাড়ির ইনকাম ট্যাক্সের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাত করে। পরবর্তীতে বিকাশ পেমেন্ট গেটওয়ে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন চক্রটি।

এর মধ্যে গত ১৫ মে ২০২৩ সালে র‍্যাবের অভিযানে কয়েক জনকে আটকের পরও মূল আসামীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। চক্রটি এখনও বিআরটিএ'তে সেবা নিতে আসা গ্রাহকদের জিম্মি করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়: এর সঙ্গে বিআরটিএ'র কিছু অসাধু কর্মকর্তাও জড়িত; তাদের যোগসাজশে একজনের টিন সার্টিফিকেট আরেক জনের নামে দেখিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

কয়েক বছরের ব্যবধানে রুবেল হয়েছেন কয়েক কোটি টাকার মালিক; করেছেন ফ্ল্যাট, গাড়ি, নারী। আবার ওই নারীর নামে দিয়েছেন মাত্র ৮টি সিএনজি গাড়ি। রুবেলের নামে রয়েছে ৭টি সিএনজি ও ১ মাইক্রোবাস। এছাড়াও নামে-বেনামে গড়েছেন কয়েক কোটি টাকার সম্পদ।

ফ্ল্যাটের বিবরণ:
সেনপাড়া পর্বতা, কাফরুল — ফ্ল্যাট নং ৩৩১/২/৩;

দোকান: মিরপুর শাহআলী প্লাজা তৃতীয় তলা — শাহরাস্তি টেলিকম এন্ড ইলেকট্রনিক্স, দোকান নং-২০।

রুবেলের ক্রয়কৃত গাড়ির বিবরণ:
১। ঢাকা মেট্রো-থ-১৬-৪৯০৭ — ক্রয়ের তারিখ ১৬/০৫/২০২২; ৭ লক্ষ টাকা; মোঃ আজিজুর রহমান ফারুক থেকে ক্রয়।
২। ঢাকা মেট্রো-থ-১৬-৪৪৩৮ — ক্রয়ের তারিখ ১৬/০২/২০২৩; বিক্রেতা মোঃ নাজিমুল হক খান; ৮ লক্ষ টাকায় ক্রয়।
৩। ঢাকা মেট্রো-থ-১৬-৪৯৩২ — ক্রয়ের তারিখ ২০/০৩/২০২৩; মোঃ হাসান থেকে ১০ টাকার বিনিময়ে ক্রয়।
৪। ঢাকা মেট্রো-থ-১৬-৪৮২৯ — ক্রয়ের তারিখ ১১/১১/২০২৪; উর্মি ট্রেডার্স প্রোপ্রাইটার মোঃ অলিউর রহমান থেকে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে ক্রয়।
৫। ঢাকা মেট্রো-থ-১৬-৪৬০৩ — ক্রয়ের তারিখ ২২/০৪/২০২৫; মোঃ আমিনুল ইসলাম থেকে ৭ লক্ষ টাকায় ক্রয়।
৬। ঢাকা মেট্রো-থ-১৬-২৮০৮ — মোঃ আজিজুর রহমান থেকে ১০ লাখ টাকা।
৭। ঢাকা মেট্রো-চ-১২-৭৫৫২ (মাইক্রোবাস) — পাইনিয়র অটোমোবাইল থেকে ৩০ লাখ টাকায় ক্রয়। যদিও একেকটি সিএনজির বাজার মূল্য ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা, এখানে রুবেল দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। কাগজে ৭ থেকে ১০ লাখ টাকা দেখানো হলেও গাড়িগুলো কেনা হয়েছে বাজারমূল্যেই। রুবেলের টিন নাম্বার ১৭৩৩০২৩৯৬০১৮; সার্টিফিকেট ইস্যুর তারিখ মার্চ ০৯/২০২০।

রুবেল বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন ২০১৪ সালে তানিয়া আক্তারের সঙ্গে। শ্বশুর কৃষক হলেও মেয়ে বিবাহের পর রুবেলের বদৌলতে হয়েছেন কোটি টাকার মালিক। রুবেলের স্ত্রীর নামেও রয়েছে ৮টি সিএনজি।

তানিয়া আক্তারের সম্পদের বিবরণ:
১। ঢাকা মেট্রো-থ-১৬-৪৪০১ — ক্রয়ের তারিখ ২০/০৬/২০২১; মোঃ আরমগীর হোসেন থেকে ৬ লাখ টাকায় ক্রয়।
২। ঢাকা মেট্রো-থ-১৬-৪৪৪৭ — ক্রয়ের তারিখ ২০/০৬/২০২১; মোঃ আবু সাইদ থেকে ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে ক্রয়।
৩। ঢাকা মেট্রো-থ-১৬-৪৪৪৫ — ক্রয়ের তারিখ ২০/০৬/২০২১; মোঃ মিজানুর রহমান মিজান থেকে ৭ টাকায় ক্রয়।
৪। ঢাকা মেট্রো-থ-১৬-৪৪৫২ — ক্রয়ের তারিখ ২০/০৬/২০২১; বিকাশ চন্দ্র সরকার থেকে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ক্রয়।
৫। ঢাকা মেট্রো-থ-১৫-০৫২৪ — ক্রয়ের তারিখ ২৮/০৬/২০২২; লালন চন্দ্র দাশ থেকে ৭ লাখ টাকায় ক্রয়।
৬। ঢাকা মেট্রো-থ-১৫-০৫০৮ — ক্রয়ের তারিখ ১৫/০৩/২০২২; মোঃ নাসির উদ্দিন থেকে ৮ লাখ টাকায় ক্রয়।
৭। ঢাকা মেট্রো-থ-১৫-০৫০৭ — ক্রয়ের তারিখ ১৫/০৩/২০২২; মোঃ নাসির উদ্দিন থেকে ৭ লাখ টাকায় ক্রয়।
৮। ঢাকা মেট্রো-থ-১৫-০৫২৫ — দিপক কুমার পোদ্দারের কাছ থেকে ৭ লাখ টাকার বিনিময়ে ক্রয়। ২৭ বছর বয়সে স্বামীর বদৌলতে হয়েছেন কয়েক কোটি টাকার মালিক। টিন সার্টিফিকেট নাম্বার ৩৭৪১৫১২৪৪৩৫৩; ইস্যুর তারিখ জুন ০৭/২০২১। যদিও প্রতিটি সিএনজির বাজার দর ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা, এখানে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।

বিআরটিএ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েক দিন পরপর লোক দেখানো অভিযানের মধ্যে দিয়ে আড়ালে থেকে যায় এ ধরনের রুবেলরা। তাদের কাছেই বন্দি থাকে লাখো সেবা গ্রহীতা। ভুক্তভোগীরা বলছেন, দ্রুত এসব প্রতারকদের আইনের আওতায় 

খুঁজুন