শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
দেশের খবর স্ত্রীকে ভারতে বিক্রি পাচারকারী চক্রের তিন সদস্য গ্রেফতার

স্ত্রীকে ভারতে বিক্রি পাচারকারী চক্রের তিন সদস্য গ্রেফতার

জেলা প্রতিনিধি,লালমনিরহাটঃ

ফেসবুক থেকে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার সোহেলের সাথে প্রেমের প্রেমের সম্পর্কে সুইটি (ছদ্মনাম)। এরপর তাকেই কৌশলেই ভারতীয় পাচারকারীর হাতে তুলে দেন সোহেল। ভারতে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাকে একাধিকবার পাচারদলের সদস্যরা ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারী।  এ ঘটনায় পাটগ্রাম থানা পুলিশ শনিবার দিনভর অভিযান চালিয়ে পাচারকারীদলের সদস্য আশরাফুল ইসলাম, মোকছেদুল ইসলাম , চম্পা বেগম নামে এক নারী সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছেন। আজ রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেন পাটগ্রাম থানার ওসি ওমর ফারুক। তিনি বলেন, এ ঘটনার মুল হোতা সোহেল মিয়া হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার বেতাপুর গ্রামের কিবরিয়ার পুত্র। তাকে গ্রেফতার করা চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ৩ বছরে পূর্বে টিকটক করতে গিয়ে পরিচয় ও প্রেম। তারপর প্রেমিক হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার বেতাপুর গ্রামের কিবরিয়ার পুত্র সোহেল - প্রেমিকা সুইটি (ছদ্মনাম) অবৈধ ভাবে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। সেখানে প্রেমিকা সুইটিকে দিয়ে জোর পূর্বক দেহ ব্যবসা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু  নুর নাহার বিষয়টি বুঝতে পেয়ে সোহেলের সাথে ঝগড়া করেন। পরে ৮/৯ মাস পর ভারতের কলকাতা থেকে কৌশলে একই পথে দেশে পালিয়ে আসে প্রেমিকা সুইটি । কিছু দিন পরও দেশে আসেন সোহেল। অনেক বুঝিয়ে তাকে চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি হবিগঞ্জ আদালতে সোহেল-প্রেমিকা সুইটিকে বিয়ে করেন। কিছুদিন পর  ওই নারী গর্ভবতী হন। কিন্তু সোহেল  

তারপর আবারও প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করেন প্রেমিক থেকে স্বামী হওয়া সোহেল। তাকে পাচারের জন্য আবারও পাচারকারীদের সাথে যোগাযোগ করে লালমনিরহাটের পাটগ্রামে পাঠিয়ে দেয় স্বামী সোহেল। গত ১৩ মে ভোরে পাচারকারীরা তাকে ওই উপজেলার দহগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করে দেয়। এ সময়  সুইটিকে ধর্ষণ করেন ওই পাচারচক্র দলের সদস্য মোকছেদুল।  সুইটি  ভারতে প্রবেশের পর বুঝতে পারেন তার স্বামী তাকে পাচারকারীদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। ১৫ মে রাতে আবারও  কৌশলে দেশে দহগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর এবার আশরাফুল ইসলাম নামে অপর এক পাচারকারী দলের সদস্য তাকে ধর্ষণ করেন। টাকার জন্য  উক্তনারীকে ১৫ মে থেকে আটকিয়ে রাখেন পাচার দলের সদস্যরা। সেখান থেকে কোনরকমে পালিয়ে পাটগ্রাম থানায় আশ্রয় গ্রহণ করেন। পাটগ্রাম থানার ওসি ওমর ফারুক এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ ইতোমধ্যে ৩ জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। ঘটনার মুল হোতা প্রেমিক স্বামী সোহেলকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

খুঁজুন