শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা স্ট্রোক: যেসব পদক্ষেপ রোগীর জীবন বাঁচায়

স্ট্রোক: যেসব পদক্ষেপ রোগীর জীবন বাঁচায়

স্ট্রোক প্রতিরোধযোগ্য রোগ। স্ট্রোকের লক্ষণ সহজে চেনার জন্য বিশ্বব্যাপী ‘বি ফাস্ট বা দ্রুত করুন’ বাক্যবন্ধ ব্যবহার করা হয়। ইংরেজি বি-ফাস্ট শব্দবন্ধ দিয়েই স্ট্রোকের লক্ষণ বা উপসর্গ মনে রাখা সম্ভব। বি-অর্থ ব্যালেন্স বা ভারসাম্য। হঠাৎ করে ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাওয়া। ই-অর্থ আই বা দৃষ্টি। হঠাৎ চোখে দেখতে সমস্যা। এফ-অর্থ ফেস বা মুখমণ্ডল। হঠাৎ মুখের একদিক বাঁকা হয়ে যাওয়া। এ-অর্থ আর্ম বা বাহু। হঠাৎ করে এক হাত দুর্বল হয়ে যাওয়া। এস-অর্থ স্পিচ বা হঠাৎ কথা জড়িয়ে আসা। টি-অর্থ টাইম বা সময়। এসব লক্ষণ দেখামাত্র দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে আনবেন।

বাড়িতে স্ট্রোকের রোগীর পরিচর্যা নিয়ে সচেতনতার প্রয়োজন। রোগী কিছুদিনের মধ্যেই আবার স্ট্রোকের শিকার হতে পারেন, যা আগের চেয়ে ভয়াবহ হয়ে থাকে। তাই রোগীর পরিচর্যার পাশাপাশি পুনরায় স্ট্রোক যেন না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকা উচিত। এ ছাড়া স্ট্রোকের রোগীরা প্রায়ই ঠিকমতো খাবার খেতে বা গিলতে পারেন না, ফলে অপুষ্টির শিকার হন। তাদের জন্য বিশেষভাবে খাদ্যগ্রহণের ব্যবস্থা করতে হতে পারে। কাউকে নাকে নল দিয়ে তরল খাবার দিতে হতে পারে। জোর করে খাবার গেলাতে গেলে ফুসফুসে খাবারের কণা চলে গিয়ে মারাত্মক অ্যাসপিরেশন নিউমোনিয়া হতে পারে। দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থাকার কারণে বেড সোর (চাপজনিত ঘা) যাতে না হয়, সে জন্য বিশেষ বিছানা, বারবার অবস্থান পরিবর্তন করা দরকার। এ ছাড়া পায়ের ধমনিতে রক্ত জমা বা ডিভিটি হয় কি না, সেদিকে লক্ষ্য লাখতে হবে। অনেকে আবার প্রস্রাব-পায়খানার নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তাদের পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিতে হবে। কারও কারও ক্যাথেটার ব্যবহার করতে হয়। পক্ষাঘাতগ্রস্ত হাত-পায়ের শক্তি ফিরিয়ে আনতে ফিজিওথেরাপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বাড়িতে নিয়মিত ফিজিওথেরাপি করতে হবে। সন্ধির জড়তা কাটাতেও নিয়মিত ব্যায়াম দরকার। স্ট্রোকের পর পরিচর্যার অন্যতম লক্ষ্য হলো রোগীকে স্বাবলম্বী করে তোলা। সেই লক্ষ্যে কাজ করে যেতে হবে। কথার জড়তা কাটাতেও ফিজিওথেরাপি গুরুত্বপূর্ণ।

স্ট্রোকের চিকিৎসা নির্ভর করে এর প্রকারভেদের ওপর। স্ট্রোক দুই ধরনের। মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বেঁধে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়ে যে স্ট্রোক হয়, তাকে ইসকেমিক স্ট্রোক বলে। মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালি ছিড়ে গিয়ে রক্ত মস্তিষ্কের ভেতর জমলে যে স্ট্রোক হয়, তার নাম হেমোরেজিক স্ট্রোক। এই দুধরনের স্ট্রোকেরই আধুনিক চিকিৎসা বাংলাদেশে রয়েছে। মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত জমাট বেঁধে যে স্ট্রোক হয়, তার আধুনিক ও জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসার নাম স্ট্রোক থ্রম্বোলাইসিস। এ প্রক্রিয়ায় একটি ওষুধ ব্যবহার করে মস্তিষ্কের জমাটবদ্ধ রক্ত গলিয়ে রক্ত চলাচল আবার স্বাভাবিক করা হয়। তবে এ চিকিৎসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সময়। স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা যাওয়ার ৪ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের মধ্যে রোগীকে এ চিকিৎসা দিতে হয়। কারণ মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধার সঙ্গে মস্তিষ্কের কোষ নষ্ট হতে শুরু করে। তাই সময়মতো রক্ত চলাচল স্বাভাবিক না করা গেলে রোগীর মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ কোষগুলো বাঁচানোর সম্ভাবনা কমে যায়। রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে এলেও সিটি স্ক্যান ছাড়া চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয় নয়। এমন হাসপাতালে নিতে হবে, যেখানে পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুব্যবস্থা রয়েছে।

লেখক : অধ্যাপক, ক্লিনিক্যাল নিউরোলজি বিভাগ

ন্যাশনাল নিউরোসায়েন্সেস ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল

চেম্বার : পপুলার ডায়াগনিস্ট সেন্টার লিমিটেড, ঢাকা

০১৮৬৫৪৪৪৩৮৬; ০১৮৬৫৪৪৪৩৮৫

খুঁজুন