পলাশ রাহমান, সিনিয়র সাংবাদিক :
স্যার,
কিছু কাজ আছে যা কেবল নেতৃত্বের কাঁধেই মানায়। কিছু প্রশ্ন আছে, যার জবাব ‘পেছন থেকে’ নয়- সামনে দাঁড়িয়ে দিতে হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর ও কথিত মানবিক করিডর নিয়ে জাতির ভেতর যে গভীর বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, আপনার একটি বক্তব্যেই তা প্রায় দূর হয়েছে। আপনার কথা শুনে জাতি আশ্বস্ত হয়েছে। আস্থা ফিরে পেয়েছে। জাতি বুঝে নিয়েছে- নেতৃত্ব ঠিক পথে আছে।
কিন্তু, আপনি কথা বলার আগে পর্যন্ত প্রতিদিন নতুন নতুন বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছিলো। যারা আপনার হয়ে কথা বলছিলেন, তারা জট ছাড়াতে গিয়ে- বেশি পাকিয়ে ফেলছিলেন। এর মূল কারণ, মানুষ আপনার কাছ থেকে সরাসরি জানতে চাচ্ছিলো, দ্বিতীয়- তৃতীয় কোনো মুখ থেকে নয়।
আপনি বিশ্বদর্শী মানুষ, আপনি জানেন- উন্নত বিশ্বে সংবেদনশীল যে কোনো জাতীয় প্রশ্নে সরকারপ্রধান বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা সরাসরি কথা বলেন। এটাই নেতৃত্বের সৌন্দর্য, জনগণের প্রতি সম্মান এবং দায়বদ্ধতা।
আপনার সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক জাতির মনে বহু প্রত্যাশা ও কৌতুহল সৃষ্টি করেছে। গোটা জাতি ওই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে ছিলো। আপনাদের বৈঠককে জাতি নতুন বাংলাদেশের 'মাইল ফলক' হিসাবে দেখেছে। জাতি প্রত্যাশা করেছিলো, আপনারা সরাসরি জনগণের সামনে এ বিষয়ে কথা বলবেন। কিন্তু আপনারা তা করেননি। জাতির প্রত্যাশা থোড়াই কেয়ার করেছেন অথবা জনভাষা পড়তে পারেননি। গণমানুষের প্রতি নেতৃত্বের শিষ্টাচার দেখাননি। কথা বলিয়েছেন 'কামলা' দিয়ে। এতে নতুন করে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। জাতি 'অসম্মান' বোধ করেছে।
স্যার, জাতি আপনার প্রজ্ঞা ও গ্রহণযোগ্যতার প্রতি আস্থা রেখেছে- সেই আস্থার প্রাপ্য ছিলো অন্তত একটি সরাসরি বক্তব্য।
২
ভাইয়া,
আপনার অবস্থান আলাদা। আপনি রাজনীতির মানুষ। জনগণের প্রত্যাশা, জাতির ভবিষ্যত সম্ভাবনা। মোহাম্মদ ইউনুসের রাজনৈতিক দায় নাও থাকতে পারে, কিন্তু আপনার থাকতে হবে। আপনি দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তির প্রধান। দেশের মানুষ আপনাকে ভবিষ্যৎ সরকার প্রধান হিসাবে ভাবে। আপনি ইচ্ছা করলেই জবাবদিহিতার দায় এড়াতে পারেন না।
৫ আগস্টের পরে দেশের মানুষ আপনার ফিরে আসার প্রতীক্ষায় ছিলো, আছে। আপনার দলের ভেতরে ও বাইরে তৈরি হয়েছিলো দৃঢ় প্রত্যাশা, কিন্তু আপনি এলেন না। অসুস্থ মাকে, স্ত্রীকে পাঠালেন। নিজে কেনো এলেন না- এর কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যাও দেয়ার প্রয়োজন বোধ করলেন না।
আপনার এই নীরবতা ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি করেছে, করছে। নানা রকম গুজব, সন্দেহ ও রাজনৈতিক গড়বড়ির জন্ম দিয়েছে। এমনকি আপনার দলের নেতাকর্মীরাও সংহত কিছু বলতে পারছে না- কারণ তারাও অন্ধকারে। গোছালো কোনো উত্তর তাদের কাছে নেই। অথচ দেশের গণমানুষ আপনার দিকে তাকিয়ে আছে। আপনি হয়তো জনভাষা পড়তে পারছেন না- অনেক দূরের বিলেত থেকে।
রাজনীতি কেবল সিদ্ধান্তের খেলা নয়, দায়বদ্ধতারও ক্ষেত্র। আপনি ইচ্ছা করলেই জাতিকে অন্ধকারে রাখতে পারেন না। জনমানসে প্রশ্ন তৈরি হলে, তার জবাব দিতে আপনি বাধ্য। আর আপনি যদি জবাব না দেন- যতদিন গড়ায় মানুষের আস্থা দুর্বল হয়, প্রত্যাশা ফিকে হয়। গুজব, বিভ্রান্তি ডালপালা ছড়ায়।
ভাইয়া, আপনার দেশে ফেরার প্রক্রিয়া যতো জটিলই হোক- তার একটি গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা জাতির সামনে তুলে ধরার দায় আপনার আছে। অন্যথায় নীরবতা আপনাকে নেতার আসন থেকে সরিয়ে- ভীরু, কাপুরুষের কাতারে দাঁড় করাবে। যা একজন মানুষের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর এবং বিপদজনক।
আপনি এবং ইউনুস সাহেব- দুজন দুই ভিন্ন পরিসরের মানুষ। কিন্তু আজকের বাংলাদেশ আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে। বিভ্রান্তির এই সময়ে জাতি একটি সরাসরি ও স্পষ্ট বার্তা আশা করে- আপনাদের কাছ থেকে।
মনে রাখবেন, রাজনীতিতে জনগণ নেতাদের ভালোবাসে, কিন্তু উপেক্ষা সহ্য করে না। দয়া করে- আপনাদের নীরবতা ভাঙুন। মানুষের প্রতি দায় এবং সম্মান প্রদর্শন করুন।
স্যার এবং ভাইয়ার প্রতি খোলা চিঠি!
স্যার এবং ভাইয়ার প্রতি খোলা চিঠি!
পলাশ রাহমান, সিনিয়র সাংবাদিক :স্যার,কিছু কাজ আছে যা কেবল নেতৃত্বের কাঁধেই মানায়। কিছু প্রশ্ন আছে, যার জবাব ‘পেছন থেকে’ নয়- সামনে দাঁড়িয়ে দিতে হয়।চট্টগ্রাম বন্দর ও কথিত মানবিক করিডর নিয়ে জাতির ভেতর যে গভীর বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, আপনার একটি বক্তব্যেই তা প্রায় দূর হয়েছে। আপনার কথা শুনে জাতি আশ্বস্ত হয়েছে। আস্থা ফিরে পেয়েছে। জাতি বুঝে নিয়েছে- নেতৃত্ব ঠিক পথে আছে।কিন্তু, আপনি কথা বলার আগে পর্যন্ত প্রতিদিন নতুন নতুন বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছিলো। যারা আপনার হয়ে কথা বলছিলেন, তারা জট ছাড়াতে গিয়ে- বেশি পাকিয়ে ফেলছিলেন। এর মূল কারণ, মানুষ আপনার কাছ থেকে সরাসরি জানতে চাচ্ছিলো, দ্বিতীয়- তৃতীয় কোনো মুখ থেকে নয়।আপনি বিশ্বদর্শী মানুষ, আপনি জানেন- উন্নত বিশ্বে সংবেদনশীল যে কোনো জাতীয় প্রশ্নে সরকারপ্রধান বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা সরাসরি কথা বলেন। এটাই নেতৃত্বের সৌন্দর্য, জনগণের প্রতি সম্মান এবং দায়বদ্ধতা।আপনার সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক জাতির মনে বহু প্রত্যাশা ও কৌতুহল সৃষ্টি করেছে। গোটা জাতি ওই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে ছিলো। আপনাদের বৈঠককে জাতি নতুন বাংলাদেশের 'মাইল ফলক' হিসাবে দেখেছে। জাতি প্রত্যাশা করেছিলো, আপনারা সরাসরি জনগণের সামনে এ বিষয়ে কথা
বলবেন। কিন্তু আপনারা তা করেননি। জাতির প্রত্যাশা থোড়াই কেয়ার করেছেন অথবা জনভাষা পড়তে পারেননি। গণমানুষের প্রতি নেতৃত্বের শিষ্টাচার দেখাননি। কথা বলিয়েছেন 'কামলা' দিয়ে। এতে নতুন করে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। জাতি 'অসম্মান' বোধ করেছে।স্যার, জাতি আপনার প্রজ্ঞা ও গ্রহণযোগ্যতার প্রতি আস্থা রেখেছে- সেই আস্থার প্রাপ্য ছিলো অন্তত একটি সরাসরি বক্তব্য।২ভাইয়া,আপনার অবস্থান আলাদা। আপনি রাজনীতির মানুষ। জনগণের প্রত্যাশা, জাতির ভবিষ্যত সম্ভাবনা। মোহাম্মদ ইউনুসের রাজনৈতিক দায় নাও থাকতে পারে, কিন্তু আপনার থাকতে হবে। আপনি দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তির প্রধান। দেশের মানুষ আপনাকে ভবিষ্যৎ সরকার প্রধান হিসাবে ভাবে। আপনি ইচ্ছা করলেই জবাবদিহিতার দায় এড়াতে পারেন না।৫ আগস্টের পরে দেশের মানুষ আপনার ফিরে আসার প্রতীক্ষায় ছিলো, আছে। আপনার দলের ভেতরে ও বাইরে তৈরি হয়েছিলো দৃঢ় প্রত্যাশা, কিন্তু আপনি এলেন না। অসুস্থ মাকে, স্ত্রীকে পাঠালেন। নিজে কেনো এলেন না- এর কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যাও দেয়ার প্রয়োজন বোধ করলেন না। আপনার এই নীরবতা ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি করেছে, করছে। নানা রকম গুজব, সন্দেহ ও রাজনৈতিক গড়বড়ির জন্ম দিয়েছে। এমনকি আপনার দলের নেতাকর্মীরাও সংহত কিছু বলতে পারছে না- কারণ তারাও অন্ধকারে। গোছালো কোনো
উত্তর তাদের কাছে নেই। অথচ দেশের গণমানুষ আপনার দিকে তাকিয়ে আছে। আপনি হয়তো জনভাষা পড়তে পারছেন না- অনেক দূরের বিলেত থেকে।রাজনীতি কেবল সিদ্ধান্তের খেলা নয়, দায়বদ্ধতারও ক্ষেত্র। আপনি ইচ্ছা করলেই জাতিকে অন্ধকারে রাখতে পারেন না। জনমানসে প্রশ্ন তৈরি হলে, তার জবাব দিতে আপনি বাধ্য। আর আপনি যদি জবাব না দেন- যতদিন গড়ায় মানুষের আস্থা দুর্বল হয়, প্রত্যাশা ফিকে হয়। গুজব, বিভ্রান্তি ডালপালা ছড়ায়।ভাইয়া, আপনার দেশে ফেরার প্রক্রিয়া যতো জটিলই হোক- তার একটি গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা জাতির সামনে তুলে ধরার দায় আপনার আছে। অন্যথায় নীরবতা আপনাকে নেতার আসন থেকে সরিয়ে- ভীরু, কাপুরুষের কাতারে দাঁড় করাবে। যা একজন মানুষের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর এবং বিপদজনক।আপনি এবং ইউনুস সাহেব- দুজন দুই ভিন্ন পরিসরের মানুষ। কিন্তু আজকের বাংলাদেশ আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে। বিভ্রান্তির এই সময়ে জাতি একটি সরাসরি ও স্পষ্ট বার্তা আশা করে- আপনাদের কাছ থেকে।মনে রাখবেন, রাজনীতিতে জনগণ নেতাদের ভালোবাসে, কিন্তু উপেক্ষা সহ্য করে না। দয়া করে- আপনাদের নীরবতা ভাঙুন। মানুষের প্রতি দায় এবং সম্মান প্রদর্শন করুন।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত