টাইফয়েড হলো এক ধরনের সংক্রামক জ্বর, যা সালমোনেলা টাইফি ও সালমোনেলা প্যারাটাইফি নামক দুধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণে হয়। এ দুই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের লক্ষণ প্রায় একই রকম। সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমিত হলে যে জ্বর হয়, তাকে বলে টাইফয়েড জ্বর; আর সালমোনেলা প্যারাটাইফি ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমিত হলে তাকে বলে প্যারাটাইফয়েড জ্বর।
টাইফয়েডের জীবাণু সাধারণত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। কোনো খাবার বা পানিতে এ ব্যাকটেরিয়া থাকলে তা খাওয়া বা পান করার পর জীবাণুটি শরীরে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটায়। টাইফয়েড জ্বর নানা কারণে বিপজ্জনক। কারণ এটি থেকে বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। যেমন- মস্তিষ্কে প্রদাহ, হেপাটাইটিস, লিভারের সমস্যা ইত্যাদি। টাইফয়েড হলে অন্ত্রে ঘা বা সংক্রমণ হতে পারে, যা সময়মতো চিকিৎসা না হলে ধীরে ধীরে অন্ত্র ফুটো হয়ে যেতে পারে। তখন তাৎক্ষণিকভাবে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে লিভারের প্রদাহ ছড়িয়ে গিয়ে এনজাইম বেড়ে যায়। ফলে হেপাটাইটিস দেখা দেয়। টাইফয়েড জ্বর শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রতঙ্গেও সংক্রমণ ছড়িয়ে দিতে পারে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না করালে রোগীর জীবন হুমকি এবং মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
দেশে প্রথমবারের মতো শিশুদের বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হচ্ছে। এর আগে পাকিস্তান ও নেপালে শিশুদের এ টিকা দেওয়া হয়। নেপালে বিশ্বখ্যাত মেডিক্যাল জার্নাল দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ-এর তত্ত্বাবধানে ২০ হাজার শিশুর ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (ঞঈঠ) প্রথম বছরে ৮১ শতাংশ এবং দ্বিতীয় বছরে ৭৯ শতাংশ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। এই টিকা ৯ মাস বয়সী শিশু থেকে ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত সবার জন্য নিরাপদ। টিকা নেওয়ার পর সামান্য জ্বর বা ইনজেকশনের স্থানে ব্যথা ছাড়া বড় কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা যায়নি। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বাংলাদেশের শিশুদের ক্ষেত্রেও এই টিকা ৮৫ শতাংশের বেশি সুরক্ষা দিতে সক্ষম।
টাইফয়েড সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে সৃষ্ট তীব্র জ্বরজনিত একটি সংক্রামক রোগ। সালমোনেলা প্যারাটাইফি ব্যাকটেরিয়ায়ও হতে পারে। এ ব্যাকটেরিয়া দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। সংক্রমণ রক্ত সঞ্চালনব্যবস্থা ও শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোয় ছড়িয়ে পড়ে, ফলে ফুসফুস, হৃৎপিণ্ড, মস্তিষ্ক বা অন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে টাইফয়েড মারাত্মক জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। উন্নয়নশীল দেশগুলোয় টাইফয়েড এখনো একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা, বিশেষ করে বন্যার সময় এর প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। এ রোগের প্রধান লক্ষণ হলো- প্রচণ্ড জ্বর (তাপমাত্রা ১০৩-১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট), মাথাব্যথা, তীব্র পেটব্যথা, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য, ত্বকে লালচে দানা, কাশি ও প্রচণ্ড দুর্বলতা।
বাংলাদেশে এবার প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যা চলবে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত। এতে ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী প্রায় পাঁচ কোটি শিশুকে বিনামূল্যে এক ডোজ টিকা দেওয়া হবে। টাইফয়েড টিকা নিরাপদ; টিকা নেওয়ার পর সামান্য জ্বর বা ইনজেকশনের স্থানে হালকা ব্যথা ছাড়া বড় কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।
লেখক : ডা. আয়শা আক্তার, স্বাস্থ্যবিষয়ক লেখক ও উপপরিচালক
২৫০ শয্যার টিবি হাসপাতাল, আগারগাঁও, ঢাকা
টাইফয়েড জ্বর ভীষণ বিপজ্জনক এবং সতর্কতা জরুরি
টাইফয়েড জ্বর ভীষণ বিপজ্জনক এবং সতর্কতা জরুরি
টাইফয়েড হলো এক ধরনের সংক্রামক জ্বর, যা সালমোনেলা টাইফি ও সালমোনেলা প্যারাটাইফি নামক দুধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণে হয়। এ দুই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের লক্ষণ প্রায় একই রকম। সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমিত হলে যে জ্বর হয়, তাকে বলে টাইফয়েড জ্বর; আর সালমোনেলা প্যারাটাইফি ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমিত হলে তাকে বলে প্যারাটাইফয়েড জ্বর।টাইফয়েডের জীবাণু সাধারণত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। কোনো খাবার বা পানিতে এ ব্যাকটেরিয়া থাকলে তা খাওয়া বা পান করার পর জীবাণুটি শরীরে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটায়। টাইফয়েড জ্বর নানা কারণে বিপজ্জনক। কারণ এটি থেকে বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। যেমন- মস্তিষ্কে প্রদাহ, হেপাটাইটিস, লিভারের সমস্যা ইত্যাদি। টাইফয়েড হলে অন্ত্রে ঘা বা সংক্রমণ হতে পারে, যা সময়মতো চিকিৎসা না হলে ধীরে ধীরে অন্ত্র ফুটো হয়ে যেতে পারে। তখন তাৎক্ষণিকভাবে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে লিভারের প্রদাহ ছড়িয়ে গিয়ে এনজাইম বেড়ে যায়। ফলে হেপাটাইটিস দেখা দেয়। টাইফয়েড জ্বর শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রতঙ্গেও
সংক্রমণ ছড়িয়ে দিতে পারে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না করালে রোগীর জীবন হুমকি এবং মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।দেশে প্রথমবারের মতো শিশুদের বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হচ্ছে। এর আগে পাকিস্তান ও নেপালে শিশুদের এ টিকা দেওয়া হয়। নেপালে বিশ্বখ্যাত মেডিক্যাল জার্নাল দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ-এর তত্ত্বাবধানে ২০ হাজার শিশুর ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (ঞঈঠ) প্রথম বছরে ৮১ শতাংশ এবং দ্বিতীয় বছরে ৭৯ শতাংশ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। এই টিকা ৯ মাস বয়সী শিশু থেকে ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত সবার জন্য নিরাপদ। টিকা নেওয়ার পর সামান্য জ্বর বা ইনজেকশনের স্থানে ব্যথা ছাড়া বড় কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা যায়নি। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বাংলাদেশের শিশুদের ক্ষেত্রেও এই টিকা ৮৫ শতাংশের বেশি সুরক্ষা দিতে সক্ষম।টাইফয়েড সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে সৃষ্ট তীব্র জ্বরজনিত একটি সংক্রামক রোগ। সালমোনেলা প্যারাটাইফি ব্যাকটেরিয়ায়ও হতে পারে। এ ব্যাকটেরিয়া দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। সংক্রমণ রক্ত
সঞ্চালনব্যবস্থা ও শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোয় ছড়িয়ে পড়ে, ফলে ফুসফুস, হৃৎপিণ্ড, মস্তিষ্ক বা অন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে টাইফয়েড মারাত্মক জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। উন্নয়নশীল দেশগুলোয় টাইফয়েড এখনো একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা, বিশেষ করে বন্যার সময় এর প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। এ রোগের প্রধান লক্ষণ হলো- প্রচণ্ড জ্বর (তাপমাত্রা ১০৩-১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট), মাথাব্যথা, তীব্র পেটব্যথা, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য, ত্বকে লালচে দানা, কাশি ও প্রচণ্ড দুর্বলতা।বাংলাদেশে এবার প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যা চলবে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত। এতে ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী প্রায় পাঁচ কোটি শিশুকে বিনামূল্যে এক ডোজ টিকা দেওয়া হবে। টাইফয়েড টিকা নিরাপদ; টিকা নেওয়ার পর সামান্য জ্বর বা ইনজেকশনের স্থানে হালকা ব্যথা ছাড়া বড় কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।লেখক : ডা. আয়শা আক্তার, স্বাস্থ্যবিষয়ক লেখক ও উপপরিচালক২৫০ শয্যার টিবি হাসপাতাল, আগারগাঁও, ঢাকা
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত