রাজধানীতে জ্বালানি তেলের সংকট দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। ছুটির দিনেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাক্সিক্ষত পরিমাণে তেল পাচ্ছেন না যানবাহন চালকরা। অনেক ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা অপেক্ষার পরও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর তেজগাঁও, নীলক্ষেত ও আসাদগেটসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, লাইনের গাড়িগুলো আশপাশের অলিগলিতেও ছড়িয়ে পড়েছে, ফলে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট।
তেজগাঁও ট্রাস্ট পাম্পে লাইনে থাকা রাইডার আবরার ফারাবি জানান, সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় তিনি ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। অনেকেই আবার বৃহস্পতিবার রাত থেকেই অপেক্ষা করছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি না পাওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে। তিনি বলেন, ফুয়েল পাম্প অ্যাপে নিবন্ধন থাকলে এই পাম্পে ১২ লিটার তেল দেওয়া হয়। এই আশাতেই অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ
শুরুর পর থেকেই দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এতে পেট্রল ও অকটেনের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড় বাড়ছে প্রতিদিন। পাম্প মালিকদের দাবি, সরবরাহ সীমিত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, মজুদ ও সরবরাহ নিয়ে সরকারের আশ্বাস থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। অনেক পাম্পে জ্বালানি না থাকায় সেগুলো বন্ধ থাকছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এদিকে কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ চালু করা হলেও সেটি কার্যকর না হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ব্যবহারকারীরা জানান, লগইন ও পাসওয়ার্ড সংক্রান্ত সমস্যার কারণে অনেকেই এই সেবা নিতে পারছেন না।
নীলক্ষেত পাম্পে ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক সজিব বলেন, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও অনেক সময় তেল পাওয়া যায় না। ফলে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি যাত্রীসেবা ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সরকার বলছে তেলের অভাব নেই, কিন্তু পাম্পে গিয়ে তা মিলছে না। বাস্তবে কী হচ্ছে কেউ দেখছে না।
অন্যদিকে আসাদগেট এলাকার তালুকদার পাম্পে তেল নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে বসে থাকতে দেখা যায় নোমান নামের এক গাড়িচালককে। তিনি খামারবাড়ি পুলিশ বক্সের সামনে অপেক্ষা করছিলেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মালিকদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তারা ছুটির দিনে বাসায় আরামে ঘুমাতে পারছেন। অথচ চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে বসে থাকতে হচ্ছে। দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অন্তত আগামীকালের মধ্যে তেল পেতে পাবেন বলে আশা করছেন।
আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা চাপে রয়েছে। এর প্রভাব দেশীয় বাজারেও পড়ছে, ফলে ফিলিং স্টেশনগুলোতে নিয়মিত সরবরাহ ও পর্যাপ্ত মজুদ বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠেছে।
এ অবস্থায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষ ও পরিবহন খাতে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তীব্র জ্বালানি সংকট, চরম ভোগান্তিতে চালকরা
তীব্র জ্বালানি সংকট, চরম ভোগান্তিতে চালকরা
রাজধানীতে জ্বালানি তেলের সংকট দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। ছুটির দিনেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাক্সিক্ষত পরিমাণে তেল পাচ্ছেন না যানবাহন চালকরা। অনেক ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা অপেক্ষার পরও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের।গতকাল শুক্রবার রাজধানীর তেজগাঁও, নীলক্ষেত ও আসাদগেটসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, লাইনের গাড়িগুলো আশপাশের অলিগলিতেও ছড়িয়ে পড়েছে, ফলে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট।তেজগাঁও ট্রাস্ট পাম্পে লাইনে থাকা রাইডার আবরার ফারাবি জানান, সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় তিনি ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। অনেকেই আবার বৃহস্পতিবার রাত থেকেই অপেক্ষা করছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি না পাওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে। তিনি বলেন, ফুয়েল পাম্প অ্যাপে নিবন্ধন থাকলে এই পাম্পে ১২ লিটার তেল দেওয়া হয়। এই আশাতেই অনেকে ঘণ্টার
পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধশুরুর পর থেকেই দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এতে পেট্রল ও অকটেনের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড় বাড়ছে প্রতিদিন। পাম্প মালিকদের দাবি, সরবরাহ সীমিত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, মজুদ ও সরবরাহ নিয়ে সরকারের আশ্বাস থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। অনেক পাম্পে জ্বালানি না থাকায় সেগুলো বন্ধ থাকছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।এদিকে কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ চালু করা হলেও সেটি কার্যকর না হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ব্যবহারকারীরা জানান, লগইন ও পাসওয়ার্ড সংক্রান্ত সমস্যার কারণে অনেকেই এই সেবা নিতে পারছেন না।নীলক্ষেত পাম্পে ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক সজিব বলেন, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও অনেক সময় তেল পাওয়া যায় না। ফলে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি যাত্রীসেবা ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সরকার বলছে তেলের অভাব নেই,
কিন্তু পাম্পে গিয়ে তা মিলছে না। বাস্তবে কী হচ্ছে কেউ দেখছে না।অন্যদিকে আসাদগেট এলাকার তালুকদার পাম্পে তেল নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে বসে থাকতে দেখা যায় নোমান নামের এক গাড়িচালককে। তিনি খামারবাড়ি পুলিশ বক্সের সামনে অপেক্ষা করছিলেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মালিকদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তারা ছুটির দিনে বাসায় আরামে ঘুমাতে পারছেন। অথচ চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে বসে থাকতে হচ্ছে। দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অন্তত আগামীকালের মধ্যে তেল পেতে পাবেন বলে আশা করছেন।আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা চাপে রয়েছে। এর প্রভাব দেশীয় বাজারেও পড়ছে, ফলে ফিলিং স্টেশনগুলোতে নিয়মিত সরবরাহ ও পর্যাপ্ত মজুদ বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠেছে।এ অবস্থায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষ ও পরিবহন খাতে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত